Thursday , October 18 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / পাটের শুকনো ক্ষত রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পাটের শুকনো ক্ষত রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল।বানিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাটের প্রধানত দুটি প্রজাতি, সাদা পাট (Corchorus capsularis) ও তোষা পাট (Corchorus olitorius) যা আঁশ হিসেবে বাংলাদেশে চাষ হয়ে থাকে।মোট বৈদেশিক মুদ্রার শতকরা প্রায় ৬৭ ভাগ পাট ও পাট জাতীয় দ্রব্যাদি রপ্তানীর মাধ্যমে অর্জিত হয়। পাট গাছের দুটি প্রজাতিই বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। নিন্মে পাটের মারাত্মক একটি রোগের বিবরণ ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বর্ণনা করা হলো।

 

শুকনো ক্ষত (Anthracnose) রোগ

 

রোগের কারণঃ কোলেটোট্রিকাম করকরি (Colletotrichum corchori) নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়।

রোগের বিস্তারঃ রোগটি বীজ, রোগাক্রান্ত গাছের অবশিষ্টাংশ, আগাছা, মাটি, বৃষ্টির পানি ও বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগ দেশী পাটে বেশী দেখা যায়। জমিতে চারা অবস্থা থেকে শুরু করেপূর্ণ অবস্থা পর্যন্ত রোগের প্রকোপ দেখা যায়।উষ্ম ও আর্দ্র আবহাওয়া, অতিরিক্ত নাইট্রোজন ও কম পটাশ সার ব্যবহার করলে এ রোগের প্রকোপ বেশী হয়।

রোগের লক্ষণঃ

  • চারা ও বড় গাছ এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
  • চারা গাছ আক্রান্ত হলে তার কান্ডে ও পাতায় বাদামী রং-এর দাগ দেখা যায়।
  • বয়স্ক গাছের কান্ডে অসম আকৃতির কালো কালো ক্ষত চিহ্নের মত দাগ হয়।
  • আক্রান্ত স্থান ফেটে যায়ও পাটকাঠি দেখা যায়।
  • ক্ষতস্থানে জীবাণু থাকে, এ জীবাণুগুলো বাতাসে উড়ে ফল আক্রমণ করে।
  • আক্রান্ত গাছের ফল কালো ও আকারে ছোট হয়।
  • এ রোগে গাছ মরে না, তবে আক্রান্ত অংশ শক্ত হয়।
  • পাট পচানোর পরেও আক্রান্ত স্থানের ছাল পাট কাঠির সাথে লেগে থাকে । এর ফলে আঁশ নিন্মমানের হয়।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • পাট কাটার পর আগাছা, আবর্জনা ও পরিত্যক্ত গাছের গোড়া উপড়িয়ে পুড়ে ফেলতে হবে।
  • জমিতে শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে।
  • সুস্থ্য বীজ বপন করতে হবে।
  • জমিতে সর্বদা পানি নিষ্কশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।
  • প্রোপিকোনাজোল (টিল্ট ২৫০ ইসি) ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

কালিগ্রাম থেকে উদ্ধারকৃত বিরল প্রজাতির সুন্ধি কাছিম পদ্মা নদীতে অবমুক্ত

শাহকৃষি তথ্য পাঠাগার নওগা হতে উদ্ধারকৃত বিরল প্রজাতির সুন্ধি কাছিমটিকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে অবমুক্ত করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *