Thursday , September 20 2018
Home / কৃষি গবেষনা / পেয়ারার “ঢলে পড়া রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পেয়ারার “ঢলে পড়া রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পেয়ারা বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ফল। এ দেশে প্রায় সর্বত্রই পেয়ারা জন্মে থাকে। পেয়ারা পেকটিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের একটি অন্যতম উৎস। একটি পেয়ারাতে সমান আকৃতির একটি কমলার ৪ গুন এবং একটি লেবুর ১০ গুন বেশী ভিটামিন সি রয়েছে। পেয়ারা পরিনত হলে কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। প্রক্রিয়াজাতকরনের মাধ্যমে পেয়ারা থেকে তৈরী হয় সুস্বাদু জেলী, শরবত, পাউডার, আচার, আইসক্রীম প্রভৃতি। কিন্তু পেয়ারা উৎপাদনে রোগ একটি অন্যতম প্রতিবন্ধক। এর ফলে পেয়ারার যথেষ্ট ক্ষতি সাধন হয় ও ফলন কম হয়। পেয়ারার রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। পেয়ারার একটি মারাত্মক রোগ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে বর্নণা বর্ননা বর্ণনা করা হল।

 

ঢলে পড়া (Wilt) রোগ

 

রোগের কারণঃ ফিউজারিয়াম অক্সিসপোরাম এফ.এসপি সিডি (Fusarium oxysporum f.sp. psidii) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

এ রোগের জীবানু মাটিতে থাকে অর্থাৎ রোগটি মাটি বাহিত। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে উচ্চ মাত্রায় বৃষ্টিপাত হলে ও গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে এবং তাপমাত্রা ২৩-৩২ ডিগ্রী সেঃ হলে রোগের প্রকোপ বেশী ঘটে। গাছের মুল কোন কারণে ক্ষত হলে রোগ জীবানু সেখান দিয়ে প্রবেশ করে। মাটির অম্লত্ব এবং রসের পরিমাণের উপর রোগের তীব্রতা অনেকটা নির্ভর করে।

 

রোগের লক্ষণঃ

  • যে কোন বয়সের গাছ এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
  • জীবানু প্রথমে শিকড়ের চতুর্র্দিকে আক্রমণ করে এবং আশ্রয় নেয়।
  • পরবর্তীতে জীবানু শিকড়ের ভিতর ঢুকে পড়ে।
  • পেয়ারার ডালের শীর্ষদেশের পাতা হলুদ ও বাদামী হয়ে উঠে। ।
  • গাছের শাখা প্রশাখা আগা থেকে শুকিয়ে যেতে শুরু করে।
  • ছোট গাছে রোগের আক্রমণ বেশী হয়ে থাকে তবে গাছ বড় হতে থাকলে রোগের তীব্রতা কমে।
  • জীবানুর মাইসেলিয়াম পরিবহন কলায় প্রবেশ করে ব্যাপকহারে বংশ বৃদ্ধি করলে গাছের খাদ্য ও পানি গ্রহন দারুনভাবে ব্যহত হয়।
  • পানি ও খাদ্যের অভাবে গাছ দ্রুত মারা যায়।
  • আক্রান্ত গাছের শিকড় বা কান্ড লম্বালম্বিভাবে কাটলে উহার মধ্যেকার পরিবহন কলাসমূহ গাঢ় রং-এর দেখা যায়।
  • একটা করে ডাল মারা যাওয়ার পরে আরেকটা ডাল মারা যায়।
  • এইভাবে আক্রান্ত হওয়ার পর গাছ মরে যেতে অনেক দিন সময় লাগে।

 

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • রোগটি মাটি বাহিত তাই এর দমন ব্যবস্থা বেশ কষ্টকর।
  • রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।
  • মৃত গাছ তুলে আগুনে পুড়ে ফেলতে হবে।
  • উঁচু জমিতে পেয়ারার চাষ করতে হবে।
  • পেয়ারার বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  • একই জায়গায় নতুন করে পেয়ারা গাছ লাগাতে হলে সেখানের মাটি ফরমালিন (৫%) দ্বারা শোধন করতে হবে।
  • গাছে সুষম সার বিশেষত জৈব সার প্রয়োগ করলে রোগের তীব্রতা অনেকাংশে কমে যায়।
  • গাছের মুল যেন ক্ষত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • সদ্যাক্রান্ত গাছের গোড়ায় এবং সমস্ত গাছে কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৪-৫ বার স্প্রে করতে হবে।

 

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

Research Assistant পদে নিয়োগ দিচ্ছে IRRI

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :  International Rice Research Institute (IRRI)-তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *