Monday , December 17 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / জলাতঙ্কঃ নিশ্চিত মৃত্যুর আতঙ্ক

জলাতঙ্কঃ নিশ্চিত মৃত্যুর আতঙ্ক

ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলমঃ জলাতঙ্ক, নামেই যার আতঙ্কের আভাস। এ আতঙ্ক যেন-তেন আতঙ্ক নয়। নিশ্চিত ও ১০০% অবধারিত মৃত্যুর আতঙ্ক ।
জলাতঙ্ক রোগটির সাথে আমরা কম বেশী সবাই পরিচিত। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় র‍্যাবিস(Rabies). এটি একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস জনিত রোগ। একবার এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে রোগীকে আর বাঁচানো সম্ভব হয় না। কিন্তু, রোগটি সম্পূর্ণ রুপে প্রতিরোধযোগ্য।

জলাতঙ্ক কেন হয়?
র‍্যাবিস ভাইরাস বহনকারী কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, বেঁজি, বানর ইত্যাদির কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক হয়। এই সকল প্রাণীর লালায় জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস থাকে যা ক্ষতস্থানের মাধ্যমে রোগীর স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছায় ও রোগ সৃষ্টি করে।

জলাতঙ্ক রোগের লক্ষণ কি?
▷ এ সময় রোগী বাতাস সহ্য করতে পারেনা।
▷ পানি গিলতে পারেনা, পানি গিলতে গেলে গলায় খিচুনি ও প্রচণ্ড ব্যথা হয়, তাই পানি দেখে ভয় পায়।
▷ মুখ দিয়ে লাল ঝরতে পারে, নাও পারে।
▷ কামড় দেয়ার পর ৭ দিন থেকে কয়েক বছর পরও লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে যা নির্ভর করে শরীরের কোথায় কামড় দিয়েছে। মাথার যত কাছে কামড় দিবে, লক্ষণ তত দ্রুত প্রকাশের সম্ভাবনা বেশী।

কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, বেঁজি, বানর কামড় বা আঁচড় দিলে তাৎক্ষনিক ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে কি করবেন?
এ সকল প্রাণীর যে কোন একটি কামড় দিলে বা আঁচড় দিলে সাথে সাথে কাপড় কাচা বল সাবান দিয়ে ক্ষতস্থানটি কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধরে ফেনা তুলে ধুতে হবে।
জলাতঙ্কের যে ভাইরাস রয়েছে তা ক্ষার ও তাপের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সাবানের ক্ষারের সংস্পর্শে এসে র‍্যাবিস ভাইরাসের বাইরের লিপিড আবরণটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং জীবাণুর রোগ তৈরির সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।
তবে খেয়াল রাখতে হবে। কম দামী বল সাবান যাতে বালি বা সিলিকার পরিমাণ বেশী সেগুলো ক্ষতস্থান ধোয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার না করা। মনে রাখবেন, ক্ষতস্থান কোনভাবেই সেলাই বা ব্যান্ডেজ করা যাবে না।

কুকুর কামড়ালে সত্যি কি পেটে বাচ্চা হয়? কবিরাজ কি সত্যিই পারে এই রোগ সারাতে?
দুটো প্রশ্নের উত্তরই হল “না”। কুকুর কামড়ালে পেটে বাচ্চা হয়না, হয় প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক রোগ, যার কোন চিকিৎসা এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। আর যার কোন চিকিৎসা ই নেই, সেই রোগ একজন কবিরাজ কিভাবে লবণ পড়া, পান পড়া, থালা পড়া দিয়ে সারাবে নিজেই ভাবুন। এ সকল কুসংস্কার এ কান দেয়া মানেই নিজের জীবন কে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে সঁপে দেয়া ছাড়া কিছুই নয়।

জলাতঙ্ক জনিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার উপায় কি?
যদিওবা জলাতঙ্ক হয়ে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত, কিন্তু তাৎক্ষনিক টিকা নিলে এই রোগ ১০০% প্রতিরোধ যোগ্য। আর এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার জলাতঙ্ক রোগের টিকা বিনামুল্যে সরবরাহ করে থাকে।
কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, বেঁজি, বানর ইত্যাদি প্রাণী কামড় বা আঁচড় দিলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর পরই আপনার জেলা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন যেখানে জলাতঙ্কের টিকা বিনামুল্যে পাওয়া যায়।
যদি কোন কারনে সেখানে না পান, তবে ঢাকার মহাখালীস্থ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এ চলে আসুন যেখানে বছরের ৩৬৫ দিন সকাল ৮ টা হতে রাত ৮ টা অবধি বিনামুল্যে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দেয়া হয়ে থাকে।

টিকা নিতে হবে,
“০” তম দিন
“৩য়” দিন
“৭ম” দিন
“২৮” তম দিন।
নিজে সতর্ক হোন, অন্যকে সতর্ক করুন। আসুন সংকল্পবদ্ধ হই, “ আর যেন কেউ জলাতঙ্কে না মারা যায়।”

ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম

ডিভিএম, এমএস ইন প্যাথলজি (বশেমুরকৃবি)

About Abu Naser

Check Also

সরিষা ক্ষেতে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মধু চাষ করছেন নওগাঁর শিক্ষিত যুবকরা

দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ। যতদুর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ রঙে মাখামাখি। এ যেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *