Thursday , September 20 2018
Home / পোলট্রি / টার্কি খামার করে লাখোপতি সাভারের আমির হোসেন সরকার

টার্কি খামার করে লাখোপতি সাভারের আমির হোসেন সরকার

অনিক আহমেদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে পোল্ট্রি শিল্পে যে ধস নেমেছে, তার থেকে উত্তরণের জন্য খামারীরা বিকল্প পথে হাটতে শুরু করেছে। তারই অংশ হিসেবে বেশিরভাগ খামারীরা টার্কি লালনপালনের পথে এগোচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা সফলও হচ্ছে। আজকে আমরা এমন একজন টার্কি খামারীর গল্প শুনাবো যিনি শখের বশে টার্কি পালন শুরু করে এখন তার খামারকে বাণিজ্যিক খামারে পরিণত করেছেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত এই খামারটিই বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় টার্কি খামার।


হ্যা পাঠকেরা, আপনারা ঠিকই ধরেছেন, বলছি “সরকার আধুনিক টার্কি ফার্ম এন্ড হ্যাচারি“র কথা। বাংলাদেশের রাজধানী থেকে অদূরে সাভার উপজেলার আশুলিয়া-সাভার মহাসড়কের দোসাইদ গ্রামে এই টার্কি ফার্মটি অবস্থিত। গত ৬ই মার্চ গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা ৫ সদস্যের একটি টিম গিয়েছিলাম ফার্মটি পরিদর্শনে। কথা হয় ফার্মের মালিক আমির হোসেন সরকারের সাথে। তিনি জানান, মাত্র দেড় বছর আগে তার ভাতিজার কথায় ২১ টি টার্কি নিয়ে শখের বশে শুরু করেছিলেন তার যাত্রা। তখন তিনি প্রাথমিকভাবে ৫০ বর্গফুট জমিতে শেড নির্মাণ করেন যা এখন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬০০০ বর্গফুটে রুপান্তরিত হয়েছে এবং এতে তার খরচ হয় ৬-৭ লাখ টাকা। আর ২১ টি টার্কি বাবদ তার খরচ হয়েছিল ৩০-৩৫ হাজার টাকা। এই দেড় বছরে তিনি তার বিনিয়োগের দ্বিগুন টাকা তার ফার্ম থেকে আয় করেছেন। এখন তার ফার্মে দুই সহস্রাধিক টার্কি আছে। টার্কির ডিম হ্যাচিংয়ের জন্য রয়েছে ২ টি ইনকিউবেটর যাতে একসাথে ৫ হাজার ডিম হ্যাচিং করানো যায়। প্রতিদিন ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করে আমির হোসেন সরকার প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন।


সাধারণত ৬ মাস বয়স থেকে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে এবং প্রায় ৪ বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। প্রতিবছর প্রতিটা টার্কি প্রায় ২০০ টি পর্যন্ত ডিম দেয়। প্রতিটা ডিম ২০০ টাকা করে বিক্রি হয়। ১৫ দিনের প্রতিটা বাচ্চা ৭০০-৮০০ টাকা, ৩ মাস বয়সে প্রতিটা টার্কি ২-২.৫ কেজি এবং ভালভাবে পরিচর্যা করলে বছরে একটি টার্কি ১০-১২ কেজি পর্যন্ত হয় যা ৬-৭ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।
আমির হোসেন সরকারের খামারে রয়েছে আমেরিকান, রয়্যাল পাম, বার্বন রেড সহ আরো কয়েকটি জাতের টার্কি। এদের মধ্যে বার্বন রেড হচ্ছে শৌখিন টার্কি। এটি খুবই ব্যয়বহুল। পরিণত বয়স্ক একজোড়া বার্বন রেডের টার্কি বিক্রি করা হয় ৬০-৭০ হাজার টাকা।

আমির হোসেন সরকার জানান, টার্কি পালনে বড় সুবিধা হচ্ছে এদের বেশি দানাদার খাবার দেয়া লাগে না। প্রাকৃতিক ঘাস জাতীয় খাবারই এদের জন্য বেশী উপাদেয়। একটি টার্কি প্রতিদিন ১৫০ গ্রাম খাবার খায়। আর টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশী।প্রোটিনের পরিমান বেশী ও কোলেস্টেরল একেবারেই না থাকায় বিশব্যাপী টার্কির মাংস অনেক বেশী স্বাস্থ্যকর হিসেবে স্বীকৃত এবং দিন দিন বাংলাদেশেও এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। গবেষকদের মতে, টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ ২৪-২৫ ভাগ, মুরগির মাংসে ২২ ভাগ, গরুর মাংসে ২০ ভাগ এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ খাসির মাংসে ২৩ ভাগ, গরুর মাংসে ২৪ ভাগ, মুরগির মাংসে ৫ ভাগ যেখানে টার্কির মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ একেবারেই নগন্য (০.৪%)।

শখের বশে টার্কি পালন শুরু করা আমির হোসেন সরকার এখন পুরোদস্তুর একজন বাণিজ্যিক খামারী। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেকার তরুণ যুবকেরা ছুটে আসেন তার খামারে ডিম ও ছোট বাচ্চা সংগ্রহের জন্য। আমির হোসেন সরকারের খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই টার্কির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। খামার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হননি তিনি। খামারের চিকিৎসা খাতে সার্বিক দেখভাল করেন সাভার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী অনুষদের প্রভাষক ডা: জামিনুর রহমান। তিনি মাঝে মাঝেই খামারে যান এবং যাবতীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। টার্কি পালনে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে আমির হোসেন সরকার একটি কোচিং সেন্টার খুলেছেন।

“বাংলাদেশে বেকারত্ব দূরীকরণে বড় একটি মাধ্যম হতে পারে টার্কি পালন। অল্প পুজি নিয়ে টার্কি পালন করে স্বচ্ছল হচ্ছেন এমন উদাহরণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। টার্কি খাতে সরকারের সুনজর কমিয়ে দেবে বেকারত্ব, সারাদেশে প্রসার হবে টার্কির এবং ভূমিকা রাখবে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে।” – এমনটাই আশা জনসাধারণের।

About Mostafizur Rahman

Check Also

Research Assistant পদে নিয়োগ দিচ্ছে IRRI

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :  International Rice Research Institute (IRRI)-তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *