Tuesday , November 13 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / ধানের “খোল পঁচা রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা…

ধানের “খোল পঁচা রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা…

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ৩২টি রোগ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় এবং বিভিন্ন জাতের ধানে সনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ১০ টি মূখ্য রোগ, বাকি ২২ টি গৌণ। এ রোগগুলি দ্বারা ধানের ফলন শতকরা ১০-১৫ ভাগ কম হয়। রোগ গুলোর মধ্যে ভাইরাস জনিত ২ টি, ব্যাকটেরিয়া জনিত ৩ টি, ছত্রাক জনিত ২২ টি, কৃমি জনিত ৫ টি। নিম্নে ধানের অতি গুরুত্বপূর্ন একটি রোগ সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

 

খোল পঁচা রোগ (Sheath rot)

 

রোগের কারনঃ স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

এটা বীজবাহিত। রোগাক্রান্ত নাড়া ও বিকল্প পোষকে অবস্থান করে। মাজরা পোকা ও টুংরো রোগ আক্রান্ত গাছে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।গরম ও স্যাঁতসোঁতে আবহাওয়ায় এ রোগ বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টির ঝাপটায় এ রোগ ছড়ায়।খোলপঁচা রোগটি সব মৌসুমেই দেখা যায়। সাধারনত গাছের থোর অবস্থা এ রোগটির উপযোগী সময়।

রোগের লক্ষণঃ

  • রোগটি কোন অবস্থাতেই পাতায় হয় না।
  • খোল পঁচা রোগটি যে কোন খোলে হতে পারে তবে শুধুমাত্র ডিগ পাতার খোল আক্রান্ত হলেই ক্ষতি হয়ে থাকে।
  • ধানে থোড় আসার সময় এই রোগের আক্রমণ দেখা যায়।
  • প্রথমে শেষ পাতার খোলের উপর গোলাকার বা অনিয়মিত লম্বা দাগ হয়।
  • দাগের কেন্দ্র ধূসর ও কিনারা বাদামী রং বা ধূসর বাদামী হয়।
  • দাগগুলো একত্রে বড় হয়ে সম্পূর্ন খোলেই ছড়াতে পারে।
  • থোড়ের মুখ বা শীষ পঁচে যায় এবং গুড়া ছত্রাংশ খোলের ভিতর প্রচুর দেখা যায়।
  • রোগের আক্রমণ বেশি হলে অনেক সময় শিষ আংশিক বের হয় বা মোটেই বের হতে পারে না এবং ধান কালো ও চিটে হয়ে যায়।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • সুস্থ বীজ ব্যবহার করতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি)প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।
  • জমির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • সুষম সার ব্যবহারও ইউরিয়া সার কম প্রয়োগ করতে হবে।।
  • পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
  • খোল পচা দেখা দিলে জমির পানি শুকিয়ে কিছুদিন পর আবার সেচের পানি দিতে হবে।
  • প্রোপিকোনাজোল (টিল্ট ২৫০ ইসি) ১ লিটার পানিতে ১মিলি হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।

About Editor

Check Also

সিকৃবিতে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ক পোস্টার প্রদর্শনি অনুষ্ঠিত

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে আজ সোমবার দিনব্যাপী সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ক পোস্টার প্রদর্শনী ও শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *