Sunday , March 24 2019
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / বায়োচার প্রয়োগে আশাতীত ফল না পেলে যে ৫টি পদ্ধতি অনুসরনীয়
Photo Courtesy: ethz.ch

বায়োচার প্রয়োগে আশাতীত ফল না পেলে যে ৫টি পদ্ধতি অনুসরনীয়

আধুনিক যুগে কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহারে দেখা দিচ্ছে নানান অনিশ্চয়তার, সৃষ্টি হচ্ছে জটিল রোগের। তাই সচেতন কৃষিবিজ্ঞানীরা কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহারের থেকে অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করার জোর তাগিদ দিচ্ছেন।বায়োচার তারই একটি ক্ষুদ্র উপাদান মাত্র। আমরা সকলেই বিভিন্ন জৈব সার যেমন সবুজ সার, ভার্মিকম্পোস্ট ইত্যাদির কথা বিগত কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি। বায়োচারও সময়ের সাথে অন্যান্য জৈব সারের পাশাপাশি বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

অনেক সময় দেখা যায় আমরা নিজেদের কৃষিজমি অথবা বাগানে প্রস্তুতকৃত বায়োচার প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাচ্ছি না। এর কারণ হিসেবে ধরে নিতে হবে বায়োচারটি যথাযোগ্যভাবে প্রস্তুত হতে পারেনি। সাধারণত বায়োচার ঠিকভাবে প্রস্তুত না হলে এর থেকে পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। বিপরীতে বায়োচার ভালোভাবে প্রস্তুত হলে পোড়া গন্ধ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়, মাটির মতো সুবাস শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্দিষ্ট সময় রেখে দেবার পর পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুতকৃত বায়োচারের স্তুপে উপকারী অণুজীব যেমন উপকারী ফাঙ্গাস, কেঁচো ইত্যাদির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

নানানসময় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে হয়ত আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুতকৃত বায়োচার নাও পেতে পারি। সেই চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে নিচের ৫টি পদ্ধতি আমরা অনুসরণ করে আমাদের সরবরাহ করা বায়োচারের সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারি :

১। ৫০% বায়োচার এবং ৫০% কর্তিত ঘাসের মিশ্রণ : সরবরাহকৃত বায়োচার এবং কর্তিত ঘাসের মিশ্রণ ৫০৫০ শতাংশ হারে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ভেজা/স্যাঁতসেঁতে এবং অন্ধকার স্থানে কলাপাতা, তালপাতা অথবা কোনো কার্ডবোর্ড দিয়ে মিশ্রণটি আচ্ছাদিত করে দিতে হবে। প্রয়োজনে একটু পানি দিয়ে স্তুপটি ভিজিয়ে দিতে হবে। গ্রীষ্মকাল অথবা শরৎকালে প্রস্তুত করলে বসন্ত পর্যন্ত এভাবে স্তুপটি সংরক্ষণ করার পর বায়োচারের মিশ্রণটি মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। সময়ের সাথে সাথে স্তুপে অনুজীবের আবির্ভাব দেখা দিবে। এতে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা, উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান এবং অণুজীববান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে যা কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পেতে সহায়তা করবে।

২। ৫০% বায়োচার এবং ৫০% কেঁচো সারের মিশ্রণ : সরবরাহকৃত বায়োচার এবং কেঁচো সারের মিশ্রণ ৫০৫০ শতাংশ হারে পূর্বের পদ্ধতির মতো মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর উক্ত মিশ্রণে পুনরায় ৫% এর কম হারে পুরোনো ময়দা, কর্ণ মিল অথবা মোলাসেস ভালোভাবে মিশ্রিত করে দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে কর্তিত ঘাসের মিশ্রণের থেকেও অল্প সময়ে প্রস্তুত করা যায়। ২ সপ্তাহ পর মাটিতে বায়োচারের মিশ্রণটি প্রয়োগ করার জন্য উপযোগী হয়ে উঠবে। তাই সময়ের সাথে বিবেচনা করলে এই পদ্ধতিটিই সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে।

৩। মুরগীর ঘরে লিটার হিসেবে বায়োচার ছিটিয়ে দেয়া : মুরগীর ঘরে লিটার হিসেবে বায়োচার কাঠের গুড়ো (Saw dust) এবং কম্পোস্টের সাথে ০.১ ইঞ্চি পুরুত্বে ব্যবহার করা যায়। এতে মুরগীর ঘরে দুর্গন্ধ ছড়ায় না। প্রতি ২ মাস পরপর বায়োচার এই লিটার মিশ্রণে মিশিয়ে দেয়া যাবে। দেখা গেছে, একবছর ব্যাপী লিটারে বায়োচার মিশিয়ে বারবার লিটার পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েনি। তবে প্রয়োজন অনুসারে নিজেরা স্বাভাবিকভাবে সাধারণ লিটার যে সময়ব্যাপী পরিষ্কার করি, সেভাবে বায়োচারে লিটার পরিষ্কারে সময় নিলেও ক্ষতি নেই। বায়োচারের লিটার বের করার পর ৫০% কম্পোস্ট মিশিয়ে দুই সপ্তাহ মিশিয়ে রেখে উদ্ভিদের গোড়ায় সরাসরি ছড়িয়ে দিতে হবে ।

৪। গবাদিপশুর মূত্র : শুনতে অদ্ভুত লাগলেও আমরা সকলেই জানি গবাদিপশুর মূত্র নাইট্রোজেন সারের মতোই পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। প্রথমে বায়োচারের স্তুপের ওপর একটি বালতির নিচে কয়েকটি ছোট ফুটো করে স্থাপন করতে হবে। গবাদিপশুর মূত্র বালতিটিতে ঢালার পর মালচিং হিসেবে গাছের পুরোনো পাতা অথবা ঘাস দিয়ে কিছুদিন স্তুপটি ঢেকে দিতে হবে। যে ঋতুতে বায়োচারের এই স্তুপটি প্রস্তুত করা হয়েছে, সেই ঋতুতেই মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। পরের ঋতুতেই বায়োচার মেশানো স্থানে গাছ লাগানো উপযোগী হয়ে উঠবে।

৫। রক ডাস্ট/পাউডার এবং বায়োচারের মিশ্রণ : এই পদ্ধতিতে বায়োচার ৫ ভাগ এবং ১ ভাগ রক ডাস্ট/পাউডারের মিশ্রণ তৈরি করতে হয়। প্রথমে রক পাউডার ১ ভাগের অর্ধেক বায়োচারে মিশিয়ে দিতে হবে। ১ ভাগের কিছু কম পরিমাণ ময়দা / রাইস ব্রানের সাথে সাথে রক পাউডারের সমপরিমাণ কেঁচো সার ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সবশেষে রক পাউডারে বাকি অর্ধেক পুনরায় মিশিয়ে দিতে হবে। দুই সপ্তাহের মতো মিশ্রণের স্তুপটি রেখে দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে, মাটিতে অল্প পরিমাণে বায়োচারের মিশ্রণটি মেশানো যাবে। এটি টপ ড্রেসিং করেও উদ্ভিদে ছিটিয়ে দেয়া যায়।

সবশেষে, আপনার সরবরাহকৃত বায়োচার সক্রিয়ভাবে কাজ না করলে হতাশ হবার কিছু নেই। উপরের এই ৫টি পদ্ধতির যেকোনো একটি সুবিধা বুঝে আপনি সহজেই প্রয়োগ করে নিষ্ক্রিয় বায়োচারকে করে ফেলতে পারবেন সক্রিয়।

তথ্যসূত্র : GrowingYourGreens

About Correspondent

Check Also

শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সিকৃবিতে শোক পালিত

অর্ঘ্য চন্দ, সিকৃবি প্রতিনিধি : বায়োটেকনোলজি  ও জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ৪র্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র ঘোরী মো: …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *