Saturday , August 18 2018
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / শিক্ষক হওয়ার সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থতা আর হতাশায় পবিপ্রবি ছাত্রের আত্মহত্যা

শিক্ষক হওয়ার সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থতা আর হতাশায় পবিপ্রবি ছাত্রের আত্মহত্যা

পবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েব ২০০৯-২০১০ সেশনের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সদা হাস্যজ্জল একটি মেধাবী ছাত্রের নাম দেবাশীস মণ্ডল। ভার্সিটি লাইফে খেলাধুলা, অভিনয়, রাজনীতি এমনকি পড়াশুনাতেও মেধার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ১ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়া এই মেধাবী দেবাশীসের বরাবরের স্বপ্ন ছিলো, যে প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক হবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। তার এই রহস্যজনক মৃত্যু সত্যিই কি আত্মহত্যা নাকি আমাদের আমাদের সমাজ ব্যবস্থা তাকে হত্যা করেছে…!!! সোসাল মিডিলাসহ জনসাধারণে এ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিলম্ব হওয়ায় দেবাশীস মন্ডল মাঝখানে কিছুদিনের জন্য কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার ছিলেন। সম্প্রতি পবিপ্রবির মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগে লেকচারার নিয়োগ পরীক্ষাতেও তিনি অংশ নিয়েছেন। ভাইভাও তার ভালো হয়েছে। কিন্তু এরই মাঝে শোনা যায় তার এই রহস্যজনক মৃত্যু সংবাদ। গত ১৪ মে কুষ্টিয়ার একটি ফ্ল্যাটে ওই শিক্ষকের লাশ পাওয়া গেছে।
ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদের শিক্ষক আবদুল মান্নান জানান, নিহত দেবাশীস তার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইভা দিয়ে কুষ্টিয়ায় এসে খুব চিন্তিত ছিলেন। ঘটনার দিন সকাল থেকে ফোনে কারও সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করছিলেন। এ সময় তাকে খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। আমরা বারবার তাকে জিজ্ঞাস করেও কোনো উত্তর পাইনি। দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে তিনি অফিস ত্যাগ করে বাসায় ফেরেন। কিছুক্ষণ পর আমি ও অন্য আরেক রুমমেটও বাসায় যাই। গিয়ে দেখি ফ্ল্যাটের মূল দরজা ভেতর থেকে আটকানো। অনেক ধাক্কাধাক্কি করে কোনো সাড়া না পেয়ে আমরা বাড়িওয়ালাকে খবর দিই। পাশের বাসার ৩য় তলার সানশেড থেকে উঁকি দিয়ে তাকে বসা দেখতে পেয়ে দরজা খুলতে অনুরোধ করি। তিনি খুলবেন বললেও আর খুলেননি। একপর্যায়ে আমরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। কুষ্টিয়া সদর থানা সূত্র বলছে, দেবাশীস একটি চিরকুট রেখে গিয়েছেন। তবে সেখানে কি লিখা আছে তা জানা যায়নি।
জনমুখে জানা যায়, ঘুষের জন্য চাওয়া ১৫ লাখ টাকা দেয়ার সম্মতি থাকা সত্ত্বেও উক্ত পদে কোনো এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাইজির চাকরি নিশ্চিত হয়েছে। এ চাপ তিনি মেনে নিতে না পেরে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

এ ঘটনায় পবিপ্র ভিসি প্রফেসর ড. হারুনর রশিদ বলেন, আমি শুনেছি সে সুইসাইড করেছে। কিন্তু টাকা-পয়সার লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানিও না আর শুনিওনি।

উল্লেখ্য, পবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২৪ এপ্রিল। এতে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে চাকরি প্রার্থী হিসেবে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ দেন ৬ জন। এর মধ্যে দেবাশীস মণ্ডল সব যোগ্যতায় এগিয়ে ছিলেন। তার মৌখিক পরীক্ষাও ভালো হয়েছিল।

About Tahzib Mondal

Check Also

কোরবানির পশু সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত কিনা বুঝবেন যেভাবে…

ডাঃ খালিদ হোসাইনঃ বছর ঘুরে আবারো এলো পবিত্র ঈদুল আযহা, আগামী বুধবার দেশব্যাপী পালিত হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *