Saturday , August 18 2018
Home / প্রথম পাতা / লাভজনকভাবে মাছ চাষ করতে কার্যকরী কিছু পরামর্শ

লাভজনকভাবে মাছ চাষ করতে কার্যকরী কিছু পরামর্শ

মোঃমোস্তাফিজুর রহমানঃ কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। আর এই মাছ চাষকে লাভজনক করতে আমাদের ধারাবাহিক এই বিশেষ আয়োজন। আজকে আমরা মাছ চাষে লাভবান হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু বিষয় জানবো বিস্তারিত। আর অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজের উন্নতির পাশাপাশি দেশের ও উন্নতি করব ইনশাআল্লাহ।

মাছ চাষের পোনা নির্বাচনঃ মাছ চাষের ক্ষেত্রে পোনা নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। এই পোনা নির্বাচণের উপর অনেকাংশে লাভ ক্ষতি নির্ভর করে।মাছের দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে এই পোনা। পোনা ভাল হলে ভাল বৃদ্ধি হবে মাছে এবং সেই মাছ আমাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করবে। খামার করেন এমন কিছু কিছু লোক দেখা যায় যারা পোনা নির্বাচনে ভুল করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এজন্য জানা শোনা আছে এমন পরিচিত হ্যাচারী কিংবা পোনা বিক্রয় কেন্দ্র থেকে পোনা সংগ্রহ করা উত্তম। এক্ষেত্রে পোনার বৈশিষ্ট্য দেখে নেয়া ভাল-
 ভাল পোনা সুস্থ্য ,চঞ্চল ও উজ্জল হবে।
 একই আকারের এবং একই ওজনের হবে।
 পোনার ত্বক পিচ্ছিল হবে।
 পোনার শরীর বা পাখনার কাছে কোন দাগ বা ক্ষত থাকবে না।
 পোনার আইশ উজ্জল ও ঝকঝকে হবে।
 ভাল পোনা সগ্রহ করতে পারবে খামারী অনেকটায় নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন যে তার মাছের বৃদ্ধি ভাল থাকবে।
 ভালো পোনা মুজুদের সুবিধা অনেক। যথা
 দ্রুত বর্ধনশীল হবে।
 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হবে।
 সহজলভ্য সম্পুরক খাদ্যে অভ্যাস্ত হবে।
 মাছে বৃদ্ধি ও আকার সুষম এবং একই রকম হবে।

ভাল পোনার যেমন বৈশিষ্ট্য দেখে চেনা যায়, আর কিছু বৈ যা ভাল পোনায় থাকেনা, তা আমাদের মনের মধ্যে সন্দেহ হয়, তখন আমরা খারাপ পোনা হিসেবে ধরে নেয়। ঠিক তেমনি খারাপ পোনার ও কিছু খারাপ বৈশিষ্ট আছে- আর তা হলো
 পোনা অলস ভাবে পানিতে স্থির হয়ে থাকবে। সাঁতার কাটতে তার অহীনা লক্ষ্য করা যাবে।
 কখনো কখনো অসম আকৃতির দেখা যাবে। বিশেষ করে মাথা শরীরের তুলনায় অনেক বড়।
 ত্বকের মধ্যে উজ্জলতা না থেকে খসখসে থাকবে মনে হবে এটা কোন পানির জীবন নয়।
 সারা দেহে অথবা লেজের কোন স্থানে ক্ষত দেখা যাবে। তা ছোট কিম্বা বড়ও হতে পারে।
 আইস তার অসল রঙ হারিয়ে ফ্যাকাসে রং ধারণ করবে।
 পোনার আকার ও ওজন একই রকম না হয়ে এতে ভিন্নতা দেখা যাবে। একই বয়সের হওয়া স্বত্বেও ।

ভাল ও খারাপ পোনার বৈশিষ্ট আমাদের জানা হলো। আমাদের বিশ্বাস আপনারা সবচেয়ে ভাল মানের পোনা সংগ্রহ করেছেন চাষের জন্য। লাভবান হবেন বলে আমরাও অনেক আশাবাদী। কিন্তু পোনা সংগ্রহের স্থান থেকে নিন্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আসতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ভুল পরিবহন ও অনান্য সমস্যার কারনে মারা যায় কিছু পোনা । যে যে কারণে পরিবহনের সময় পোনা মারা যায় তা হলো-

১. পলিথিন প্যাকেটে অক্সিজেনের অভাব হলে।
২. পোনার পাত্রে বা পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে।
৩. পাত্রে বা পলিথিন প্যাকেটে বর্জ্য বা বিপাকীয় বর্জ্য হতে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাসের সৃষ্টি হয়।
৪. পোনার ঘনত্ব বেশি হলে।
৫. পরিবহন সময় হলে।
৬. পোনা নিয়ে আসার সময় প্রচুর ঝাঁকুনি খেলে।

পোনা পরিবহন করতেই হয় কারণ একস্থানে পোনা পাওয়া যায় আর তার প্রয়োজন হয় দেশ ব্যাপী। তবে কিছু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে, ভাল পোনা চাষ করা সহজ হবে। তাই পোনা পরিবহনে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তা হলো-
 পোনার ব্যাগে কোন রকম আঘাত বা খোঁচা দেয়া যাবেনা।
 পোনার ব্যাগে আগুন বা ধারালো বস্ত থেকে নিরাপদ রাখতে হবে।
 ভিন্ন বয়সী পোনা একপাত্রে রাখা যাবে না।
 পারিমানের চেয়ে বেশি পোনা নিন্দিষ্ট পাত্রে পরিবহন করা যাবেনা।
 ড্রামে পরিবহণের ক্ষেত্রে রাস্তায় পানি পরিবর্তন করলে অজ্ঞাত বা দূষিত পানি না দেয়ায় ভাল।
 রোদের তাপে যেন খোলা অবস্থায় পোনা পরিবহন করার সময় তাপমাত্রার দিকে খুব সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। এক্ষেত্রে ছাতা বা অন্য কোন মাধ্যম দিয়ে পানি সরাসরি রোদের আলো থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখার চেষ্ঠা করতে হবে।
 পোনা পরিবহণের পাত্রে বেশি ঝাঁকুনি দেয়া যাবেনা।
 নিন্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে মাছের পোনার মৃত্য হার কমে যাবে অনেকাংশে। যথেষ্ট সুন্দর ভাবে তা যথাস্থানে স্তান্তরিত করতে হবে।
 পোনা পরিবহনে অক্সিজেন সমৃদ্ধ পলিব্যাগে ডেলিভারী করা উত্তম।

 

রেনু পোনা পরিচিতিঃ
কোন কিছু চাষ করতে হলে তার সবকিছু সম্পর্কেই জ্ঞান থাকা ভাল। এতে করে যেমন চাষের ক্ষেত্রে কোন সংশয় থাকে ঠিক তেমনি সবকিছু জেনে কাজ শুরু করার ফলে নিজের ভিতরে আত্ববিশ্বাস বেড়ে যায়। যার ফলে আনন্দ নিয়ে হতাশ ভুলে খামার বা চাষ করলে সহজেই লাভবান হওয়া যায়।
বড় মাছ উৎপাদনের জন্য চারা উৎপাদন করা হয়। চারা পোনার আকারে আসতে রেণু পোনার কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করতে হয়। পর্যায়গুলো নিন্মরূপ-

ডিম পোনা
ডিম ফুটে বের হওয়ার পরের অবস্থা। এদের পেটের নিচে একটা থলে থাকে এর থলে থাকা অবস্থায় তারা কোন খাদ্য গ্রহণ করে না। জন্মের ২-৩ দিন পর্যন্ত এ অবস্থা থাকতে পারে। যা নির্ভর করে তাপমাত্রা এবং পরিবেশের ওপর। এ অবস্থায় রেণু চলাফেরা করে। এ পর্যায়ে পোনাকে হ্যাচারীতে বিশেষ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়।
রেনু পোনাঃ
পেটের খাদ্য থলি শেষ হয়ে যাও্যার পরবর্তী অবস্থাকে রেনু পোনা বলা হয়। এ অবস্থায় পোনার বয়স সাধারনত ৩-৪ দিন হয়ে থাকে। খাদ্য থলি না থাকায় এরা বাইরের খাদ্য গ্রহণ শুরু করে। এই অবস্থায় এদের চলাফেরা বড় মাছের মত আনুভুমিক হয়। রেণু অবস্থায় প্রজাতি সনাক্তকরণ অত্যন্ত কঠিন । এ অবস্থায় পোনা নার্সারী পুকুরে মুজুদ করতে হয়।

ধানী পোনাঃ রেণু পোনা বড় হয়ে ধান্র আকার হলে তাকে ধানী পোনা বলে। সাধারণত ১ থেকে ১।৫ সে মি আকারের পোনাকে ধানী পোনা ধরা হয়। ধাণী অবস্থায় প্রজাতি সনাক্ত করা যায়। রেণু থেকে ধানী হতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। তবে তা খাদ্য, অক্সিজেন প্রাপ্যতা , তাপমাত্রা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।

পরবর্তী লেখা পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন।

About Mostafizur Rahman

Check Also

কোরবানির পশু সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত কিনা বুঝবেন যেভাবে…

ডাঃ খালিদ হোসাইনঃ বছর ঘুরে আবারো এলো পবিত্র ঈদুল আযহা, আগামী বুধবার দেশব্যাপী পালিত হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *