Saturday , August 18 2018
Home / Uncategorized / রমজান মাসের স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য তালিকা

রমজান মাসের স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য তালিকা

অনিক আহমেদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা। রমজান ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র মাস। এ মাসকে খাদ্য  তালিকার দিক থেকে বিবেচনা করলে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশ আলাদা।এ মাসে বেশিরভাগ মানুষের পছন্দের খাবার তেলের ভাজা পোড়া খাবার, আবার অনেকের পছন্দ ফলমূল সবজি জাতীয় খাবার। রমজান মাসে খাবারের ধরণ নিয়ে আমাদের আজকের এই পর্ব।

রোজায় সেহরি ও ইফতার কেমন হওয়া উচিত?

অত্যন্ত দুঃখজনক যে, আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে রমজানে যে খাদ্যাভ্যাস লক্ষ্য করা যায়, তা পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ সময়ে খাবারের প্রধান পর্যায় দুটি_ সেহরি ও ইফতার। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আমাদের দেশে সেহরি ও ইফতারের বেশির ভাগ খাবারই হচ্ছে উচ্চ চর্বিসমৃদ্ধ এবং তেলে ভাজা। সেহরি ও ইফতারের খাবার নির্বাচনে রোজাদারের বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রাখা হয় না। কিন্তু এসব দিকে নজর দিতে হবে।

প্রথমে সেহরির প্রসঙ্গে আসা যাক। মূলত বছরের ১১ মাস স্বাভাবিক নিয়মে খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম হয়। তারপর হঠাৎ করেই সেহরি খাওয়ার নিয়মটি শুরু হয়। তাই এদিকে বিশেষ যত্ন না নিলে স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। স্বাভাবিকভাবে যে কোনো ধরনের খাবারই সেহরিতে খাওয়া যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে_ খাবারটা যেন সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়। ভাত বাঙালির মুখ্য খাবার। তাই সেহরিতে অবশ্যই সাদা ভাত রাখবেন। তবে ভাতের সঙ্গে রাখতে হবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন_ মাছ, মাংস ও ডিম। খরচ কমাতে চাইলে ভাতের সঙ্গে শুধু ডিম ও ডাল। ডাল উদ্ভিজ প্রোটিন বলে এতে ক্ষতিকর চর্বি নেই। সেহরির খাবার তালিকায় যে কোনো একটি সবজি থাকা বাঞ্ছনীয়। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, পেঁপে, করলা, আলু, টমেটো_ এর কয়েকটি বা যে কোনো একটি রাখলে চলবে। পাকস্থলিতে উত্তেজনা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করে_ এমন কোনো খাবার খাওয়া উচিত নয়।

ইফতার প্রসঙ্গ

বেশির ভাগ লোককে দেখা যায়, ইফতারের সময় গুরুপাক গোছের খাবার-দাবার খেতে। তারা মনে করেন, সারা দিন না খাওয়ার অভাবটুকু ইফতারে পুষিয়ে নেবেন। কিন্তু এটা একটা ভুল ধারণা। ইফতার শুরু করবেন শরবত দিয়ে। বাজারে অনেক কৃত্রিম রঙ মেশানো শরবত পাওয়া যায়, সেসব অবশ্যই পরিহার করবেন। ইফতারে ফলের রস বেশ উপকারী। বুট, ছোলা ও মুড়ি খেতে পারেন এ সময়। দই, চিঁড়া ও কলা খেলে ভালো। তবে প্রচলিত বেগুনি ও পেঁয়াজু সর্বদা পরিহার করবেন। তেলে ভাজা এসব খাবার স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তা ছাড়া খাবারগুলো পুরনো তেলে ভাজা হলে ক্ষতির পরিমাণটা বেড়ে যায়। তেল বারবার গরম করলে ক্ষতিকর পলিনিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়, যার মধ্যে থাকে বেনজোপাইরিন। এটা ক্যান্সারের সৃষ্টি করে। তাই ইফতারে খেজুর ও বিভিন্ন ফল রাখা ভালো। সেহরি এবং ইফতারির সময় প্রচুর পানি পান করবেন।

পেপটিক আলসারের রোগী রোজা রাখতে পারবেন কিনা?

হ্যাঁ, পারবেন। এ সময়ে খাবার-দাবারে নিয়মানুবর্তিতার সৃষ্টি হয় বলে রোজায় স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। তবে সেহরি ও ইফতারিতে তাদের বাছাই করা খাবার খেতে হবে। তৈলাক্ত খাবার পরিহার করে সহজপাচ্য খাবার খেলে এসিড নিঃসরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং স্বাস্থ্যগত কোনো অসুবিধা হবে না।

রোজা রাখলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে – এ কথা কি ঠিক? 

কিছুটা ঠিক বটে, বিশেষ করে যারা রোজার বাইরে অসংযত জীবনযাপন করছেন। রোজায় এক ধরনের শৃঙ্খলাবোধ কাজ করে। সময়মতো আহার গ্রহণ, বিশ্রাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন প্রভৃতি বিষয় প্রকারান্তরে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সহায়ক উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিস রোগীর রোজা রাখা
এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখতে হবে। যারা ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার শিকার, রোজা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আলেমদের মতে, ইনসুলিন নিয়েও রোজা রাখা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে আপনার চিকিৎসাপত্র, খাবার ও ব্যায়ামের ব্যাপারটা ঠিক করে নেবেন। এ সময়ে দৈনন্দিন কাজ সীমিত হারে করতে হবে।

রোজা রাখলে হৃদরোগীদের কোনো অসুবিধা হবে কিনা?

সাধারণত অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া এ সময়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রণে রাখার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে তাদের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও ঠিক থাকে।
রোজায় পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কি-না হ্যাঁ, থাকে_ যদি আপনি সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান না করেন। সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে শাকসবজি ও ফলমূল খাবেন। তাহলে পানিশূন্যতার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।

যারা ওষুধ খাচ্ছেন_ রোজার সময়ে তাদের করণীয়

রোজার সময়ে ওষুধ কোনো সমস্যা নয়। চিকিৎসককে বলে ওষুধের মাত্রা ঠিক করে নিলেই হলো। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে জীবন বাঁচানোর স্বার্থে রোজা রাখার পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে। অন্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধের মাত্রা ঠিক করে নিলে রোজা রাখতে কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হবে না।

দিনের শেষে মাথা ব্যথা করলে ইফতারের সঙ্গে সঙ্গেই ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে কিনা?

বিভিন্ন হাসপাতালে দেখা গেছে, রোজার সময় ইফতারের পরপরই বেশির ভাগ রোগী ভর্তি হন পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে। ব্যথানাশক ওষুধ খাবার কারণে পেটে তীব্র ব্যথা এবং অন্ত্র ফুটো হয়ে যাওয়া সমস্যার সৃষ্টি হয়। মূলত মাথাব্যথা করলে ইফতারের সঙ্গে সঙ্গেই ব্যথানাশক ওষুধ যেমন এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম খাওয়া উচিত নয়। কিছু খেয়ে তারপর এসব ওষুধ খেতে হবে। যাদের পেপটিক আলসারের ইতিহাস আছে, তারা এন্টাসিড ও রেনিটিডিন খেয়ে এসব ওষুধ খাবেন।

অনেকে দেখা যায়,  রোজার সময় সারা দিন ঘুমান; এটা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা – মোটেই না। এভাবে ঘুমালে আপনার শরীরের কোষগুলো অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়বে। ফলে দারুণ ক্লান্তি অনুভব করবেন আপনি। বরং ইফতারের পরে বিশ্রাম নেওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত। একজন সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক ৫-৭ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট। তা ছাড়া দিনের বেলা ঘুমালে রাতে নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়।  সে সঙ্গে জড়ো হয় স্বাস্থ্যগত আরও সমস্যা। তাই রমজানে সারা দিন ঘুমানোর অভ্যাস যাদের আছে, তারা এই অভ্যাস পরিহারের চেষ্টা করুন।

About Anik Ahmed

Check Also

গরুর দামে পানি কিনছেন না তো!?

ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলমঃ  কি, শিরোনাম দেখে সংশয়ে পড়ে গেলেন? “পানির দামে গরু” শুনেছি, কিন্তু “গরুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *