Wednesday , October 17 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / বিস্ময়কর এক সবজি সজিনাঃ

বিস্ময়কর এক সবজি সজিনাঃ

 মোঃ আল আমীন (আকাশ), নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

বর্তমান বাংলাদেশে চোখ বুলালেই দেখতে পাবেন শাক-সবজি খাওয়ার প্রতি সবার খুব অনীহা, বিশেষ করে ছোট বাচ্চা এবং উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা তো সবজি খেতেই চায় না অন্যদিকে বাইরের আজেবাজে খাবারের প্রতি তাদের খুব ঝোক। সবজি শব্দটি শুনলেই যারা নাক সিটকান আজকের লেখাটি শুধু তাদের জন্য।

সজিনা পাতায় রয়েছে এমন কিছু অসাধারন পুষ্টি গুন যা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা। পুরো বিশ্ব একে চেনে “মিরাকেল মরিংগা” নামে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Moringa oleifera, এবং এটি Moringaceae ফ্যামিলির একটি উদ্ভিদ।

সজিনাপাতায় রয়েছে গাজরের সমান ভিটামিন এ, কমলালেবুর চেয়ে বেশি ভিটামিন সি, পালং শাক এর চেয়ে বেশি আয়রন, কলার চেয়ে বেশি পটাশিয়াম এবং শুনতে আশ্চর্য হলেও দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ই l।প্রচুর তাৎক্ষনিক শক্তি সমৃদ্ধ সাজনা শাক আফ্রিকায় ভীষন জনপ্রিয়।

 

সজিনা পাতা ক্যাপসুল আকারেও ইউরোপ ও আমেরিকায় বিক্রি হয়ে থাকে নিউট্রিশন সাপ্লিমেন্ট হিসেবে, তবে এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। মরিংগা ক্যাপসুল শরীরে খুব দ্রুত শক্তি জোগায়, ফলে শক্তি ক্ষয় হবার পরেই স্নায়ু অবসাদ নেমে আসে। বেশ কিছু প্রতিবেদিনেও জানা গেছে এর ক্যাপসুল সাপ্লিমেন্ট এর বিরুদ্ধে নানান মতামত। তবে আশার বানী হলো শাক হিসেবে খাবারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো নেই বরং এক্ষেত্রে এটি আশ্চর্য রকম পুষ্টি সম্পন্ন সবজি ও শাক।

 

 

এক গবেষনায় দেখা গেছে পেয়াজ ও বাধাকপি পরিবারের সবজিতে যে অ্যান্টি ক্যান্সার রয়েছে সাজনা পাতায়ও সেই গুন মজুদ রয়েছে।

জেনে নেই সজিনার কিছু গুনাগুন:

  • সজিনা পাতা শরীরে দ্রুত শক্তি জুগিয়ে স্বাস্থ ভাল করতে সাহায্য করে।
  • পরিপাক তন্ত্র সুস্থ রাখে ও খাদ্য হজমের শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • মন প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে।
  • উচ্চ রক্ত চাঁপ কমাতে সাহায্য করে।
  • প্রচুর আঁশ সমৃদ্ধ তাই কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে।
  • আর্থ্রাইটিস এ খুব ভাল কাজ করে।
  • স্টমাক আলসার ভাল করে এবং স্টমাক লাইনিং মজবুত রাখে।
  • প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে সাজনা শাকে l

 সজিনা কীভাবে খাবেনঃ

সাধারনত বাংলাদেশে সজিনা ডাল, মাছ দিয়ে সজিনা , সরিষা বাটা দিয়ে সজিনা ,সজিনা শাক ভাজি ও ভর্তা বানিয়ে খাওয়া হয়।কিছু অঞ্চলে সজিনা ফুল ডিম এর সাথে ভাজি করেও খাওয়া হয়।

তবে অনেকেই সজিনা খেলেও সজিনা শাক খেতে জানেন না।

 

সামান্য একটু পানিতে এক চিমটি খাবার সোডা দিয়ে ফুটে উঠলে শাক দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। যেহেতু  সজিনা পাতা বেশ শক্ত তাই এই প্রক্রিয়ায় শাক একদম নরম হয়ে যাবে। এর সাথে মরিচ, পেয়াজ ও সরিষার তেল মিশিয়ে ভর্তা করে নিলেই চলে। অনেকে এটি ভাজি করেও  খান।

এতো এতো গুনাবলির সজিনা প্রতিনিয়ত এড়িয়ে আমরা হর হামেশাই খেয়ে যাচ্ছি ফাস্ট ফুডের দোকানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি সব অপুষ্টিকর খাবার, তাই দেহকে সুস্থ রাখার জন্য হলেও খাদ্য তালিকায় সজিনা যোগ করে নেয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

About Al Amin

Check Also

ক্ষুধামুক্ত সমাজ গঠনে চাই কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ ও খাদ্য অধিকার আইন চাই

বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অর্জিত হচ্ছে ৭% এর উপরে। বিগত মার্চ মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *