Saturday , May 26 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / সিভাসু ক্যান্টিনে খাবারের নিম্নমান ও অসংগতি

সিভাসু ক্যান্টিনে খাবারের নিম্নমান ও অসংগতি

খাবারের নিম্নমান, উচ্চমূল্য আদায় ও ব্যবস্থাপনার নানান অসংগতির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যান্টিন (শুভ ক্যান্টিন) এর উপর। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ক্যান্টিন হওয়ায় বাধ্য হয়ে এখানে খেতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। আর বিভিন্ন সময়ে নানান অসংগতি ও খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ে কথা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকরী ব্যাবস্থা নেয়নি এমন অভিযোগ সাধারন ছাত্রদের।

 

সাধারন ছাত্রদের সাথে খাবারের মান নিয়ে কথা বলে জানা যায় এখানে শুধুমাত্র দুই একটা আইটেম যেমন মুরগি কিংবা মাছ দিয়েই দুপুর ও রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়,যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন মানেই বাহারী খাবারের সমাহার।এছাড়া তারা আরো জানান অধিকাংশ সময়ে শুধুমাত্র একটা আইটেম অর্থাৎ মুরগির মাংস দিয়েই ক্যান্টিন পরিচালনা করা হয়।মুরগির মাংস মোটামুটি শুভ ক্যান্টিনের জাতীয় খাবার বলা যায়।রান্নার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্ররা বলেন এখানে এত নিম্নমানের রান্না করা হয় যা ক্যান্টিনের কর্মচারীরাও খেতে বিমুখতা প্রকাশ করবে বলে মনে হয়।পোড়া ও বাসি খাবার পরিবেশনসহ  একাধিক অভিযোগ আছে ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে খাবারের মধ্যে তেলাপোকা সহ নানান কীটপতঙ্গের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।খাদ্যদ্রব্যের অসহনীয় মূল্য শুভ ক্যান্টিনের আরেকটি বড় অসংগতি।এখানে এক বেলা খাবার খেতে চাইলে  একজন ছাত্রকে ৪০-৪৫ টাকা খরচ করতে হয় যা বাহিরের কোনো হোটেল থেকে কম নয়।যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫-৩০ টাকা দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা স্বস্তিতে খেতে পারে।শুধু তাই নয় এখানে মুরগি ও মাংসের একেকটা পিস এর আকার নিয়েও শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ দেখা গেছে।এছাড়া শুভ ক্যান্টিনে একটা বেগুনি ৩টাকা করে বিক্রি করা হয় যেখানে পার্শ্ববর্তী হোটেল ও দোকানগুলোতে প্রতিনিয়ত ২ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।ছাত্রদের কল্যানের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থায় ক্ষুব্ধ সাধারন শিক্ষার্থীরা।

 

ব্যাবস্থাপনার অসংগতি নিয়ে ছাত্ররা বলেন এখানে যারাই দায়িত্ব পান তারা স্বার্থলোভী হয়ে নিজেদের মুনাফার কথা চিন্তা শুরু করে দেয়।এর আগে একবার ক্যান্টিনের তত্বাবধানে থাকা কর্মচারীদের পরিবর্তন করা হলেও দুর্ভোগ কমেনি সাধারন ছাত্রদের, বরং এখন দুর্ভোগ আরো চরমে।ক্যান্টিনে এসব অসংগতির কারনে বেশিরভাগ ছাত্রকেই দেখা যায় নিয়মিত বিভিন্ন হোটেলে খেতে যা সাধারন ছাত্রদের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

 

উল্লেখ্য শুভ  ক্যান্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যান কর্তৃক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান।সাধারন ছাত্রদের থেকে জানা যায় বিভিন্ন সময়ে ছাত্রকল্যানের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের এসব বিষয়ে অবহিত করলেও চোখে পড়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র বলেন শুভ ক্যান্টিন মোটামুটি একটা উচ্চমুনাফাধারী ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে রুপ নিয়েছে।তিনি আরো বলেন-” শুভ ক্যান্টিনে অনেক শিক্ষক নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করেন তাদেরকেও এসব ব্যাপারে কখনো কথা বলতে দেখা যায় নি।তাই শুভ ক্যান্টিন নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে আমরা সন্দিহান।”

 

এ নিয়ে বর্তমান ছাত্রকল্যান পরিচালক প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “খাবারের নিম্নমান এই ব্যাপারটি নিয়ে আমি অবগত আছি, ক্যান্টিনের দায়িত্বে যিনি ছিলেন তার আসলে একসাথে ২ টি দায়িত্ব পালন করতে হতো, তাই এখন তাকে ক্যান্টিনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, শনিবার থেকে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, দেখা যাক এখন কতটুকু কি করা যায়” ।

About Ontohin Sagor

Check Also

বাকৃবিতে জুলাই-ডিসেম্বর সেমিস্টারে এম.এস. কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই-ডিসেম্বর সেমিস্টারে এম.এস. কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ।  গত ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *