Friday , August 17 2018
Home / পোলট্রি / সঠিক পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টায় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রুখতে হবে

সঠিক পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টায় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রুখতে হবে

ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানঃ সারা বিশ্বেই ব্লার্ড ফ্লু একটি আতঙ্কের নাম । বংলাদেশে এর প্রকোপ রয়েছে, শীতকালে এবং মাঝে মাঝে অন্য সময়ে এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এই ব্লার্ড ফ্লু /এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জাকে রুখতে হলে সমন্বিত ভাব সঠিক পরিকল্পনা, বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সঠিক বায়ো সিকিউরিকি নিয়ন্ত্রন এবং গবেষণা ও সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে এখনই  এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জাকে থামাতে হবে। ওয়ার্ল্ড ভেটেরিনারি পোল্ট্রি এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শাখার উদ্যোগে এক সিম্পোজিয়ামে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শনিবার ঢাকায় হোটেল রিজেন্সি এর সম্মেলন কক্ষে দিন ব্যাপী এক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। “Symposium on Avian Influenza Vaccination and Survillance”  শীর্ষক সিম্পজিয়ামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বক্তরা কী নোট উপস্থাপন করেন।

WVPA BB এর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ বিশ্বজিৎ রায়ের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য নিয়ে আসেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম । বক্তব্য রাখেন, ওয়াপসা বাংলাদেশের সভাপতি মোঃ সামসুল আরেফিন খালেদ, ডাঃ মোঃ গিয়াস উদ্দিন, ন্যাশনাল রেফারেন্স ল্যাব ফর এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ইন বাংলাদেশ এর প্রধান, জার্মানীর Prof. Dr. Timm Harder ,  এফএও Dr. Eric Brum; ECTAD, FAO, অধ্যাপক আব্দুর রহমান ওমার।

সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন ওয়ার্ড পোল্ট্রি এসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মোঃ শামসুল আরেফিন খালেদ। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেই বার্ড ফ্লু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। ভাল ভেটেরিনারি প্রাকটিস, ভাল ব্যবস্থাপনা, বায়োসিকিউরিটি এবং খামার থেকে বাজার পর্যন্ত পর্যাপ্ত হাইজিন রক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা গবেষণাগারের প্রধান গবেষক ডাঃ গিয়াস উদ্দিন বর্তমানে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার নিয়ন্ত্রণ অবস্থার উপর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এখন কবুতর, হাঁস, কোয়েল এবং টার্কিও ব্লার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই ল্যাবকে আধুনিক করে গবেষনা বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মুলের চেষ্টা করতে হবে।

বিশ্বে বর্তমানে হাই প্যাথোজেনিক এবং লো প্যাথজেনিক ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর আলোচনা করেন, জার্মানীর বিখ্যাত গবেষক ও অধ্যাপক DR. Timm Harde। তিনি বলেন, ডায়াগনস্টিক সিস্টেম উন্নত করতে হবে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা নির্ণয়ে মোলিকুলার ডায়াগনোসিস খুব অল্প সময় ভাল ফল প্রদান করে। তাই মলিকুলার সিস্টেমের ব্যবহার বাড়াতে হবে।  তিনি আরো বলেন, রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পর্ণ হলে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

 

বাংলাদেশে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সার্ভিলেন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে ফুড এবং এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন(এফএও)এর বাংলাদেশ প্রধান ডাঃ এরিখ ব্রাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোল্ট্রি খামার থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত বায়োসিকিউরিটি মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি 3- zone Biosecurity নিয়ম অনুসরণ করার কথা বলেন।  প্রয়োজন অনুযায়ী লাল অঞ্চল, হলুদ অঞ্চল এবং সবুজ অঞ্চল হিসাবে বায়োসিকিউরিটি মেনে চলতে হবে।

মলিকুলার এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার বিভিন্ন টাইপের মলিকুলার ইপিডেমিওলজি নিয়ে আলোচনা করেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম।

অংশগ্রহনকারীদের প্রশ্ন উত্তর পর্ব পরিচালনা করেন অধ্যাপক এমদাদুল হক চৌধুরী। পোষ্টার প্রেজেন্টশান এবং উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্টিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, অরুন কুমার, অতিরিক্ত সচিব, মতস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি কো-অর্ডিনেশন কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ মশিউর রহমান; ডাঃ নাথু রাম সরকার – মহাপরিচালক বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড ভেটেরিনারি পোল্ট্রি এসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এই সিম্পজিয়ামে WVPA-BB এর সদস্য সহ দেশের গন্যমান্য ভেটেরিনারিয়ান এবং গবেষকগণ অংশগ্রহণ করেন।

About Editor

Check Also

সিকৃবিতে পবিত্র ঈদ উল আযহার ছুটি শুরু

  অর্ঘ্য চন্দ, সিকৃবি প্রতিনিধি : সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ১৯ আগস্ট থেকে শুরু হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *