Thursday , November 15 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / পাটের “শিকড় গিট” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পাটের “শিকড় গিট” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। বানিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাটের প্রধানত দুটি প্রজাতি – সাদা পাট (Corchorus capsularis) ও তোষা পাট (Corchorus olitorius) যা আঁশ হিসেবে বাংলাদেশে চাষ হয়ে থাকে। মোট বৈদেশিক মুদ্রার শতকরা প্রায় ৬-৭ ভাগ পাট ও পাট জাতীয় দ্রব্যাদি রপ্তানীর মাধ্যমে অর্জিত হয়। পাট গাছের দুটি প্রজাতিই বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। নিন্মে পাটের মারাত্মক একটি রোগের বিবরণ ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বর্ণনা করা হলো।

 

শিকড় গিট (Root knot) রোগ

 

রোগের কারণঃ মেলোয়ডোজাইন ইনকগনিটা এবং মেলোয়ডোজাইন যাভানিকা (Meloidogyne incognita & M. javanica) নামক কৃমির দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

বালিযুক্ত হালকা মাটি বেশী দিন ভিজা থাকলে জমিতে পাট ও কেনাফের শিকড়ে গিট রোগ দেখা যায়। জমিতে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম কম থাকলে এ রোগ বেশী হয়।

রোগের লক্ষণঃ

  • এ রোগে আক্রান্ত গাছের শিকড়ে ছোট থেকে বড় আকারের গিট দেখা যায়।
  • এসব গিটের ভিতরে নেমাটোড অবস্থান করে এবং খাদ্য শোষণ করেগাছেরক্ষতি সাধন করে ।
  • গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফুল-ফল কম ধরে।
  • আক্রমন বেশী হলে গাছ ঢলে পড়ে।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • বীজ বপনের বেশ কিছু দিন আগে জমি চাষ করে রোদে ফেলে রাখতে হবে।
  • চুন প্রয়োগ করলে পাটের শিকড়ে গিটের পরিমান কমে যায়।
  • জলাবদ্ধতায় কৃমি বাঁচতে পারে না, তাই জমিতে কমপক্ষে ১৫ দিন পানি আটকে রাখতে পারলে কৃমি দমন হবে।
  • কৃমি নাশক ঔষধ নেমাগন (1,2-dibromo-3-chloro-propane) জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।
  • কার্বোফুরান (ফুরাডান ৫জি) হেক্টর প্রতি ৪০ কেজি প্রয়োগ করে নিড়ানী এবং চূড়ান্তভাবে গাছ পাতলা করে দিতে হবে।

 

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *