Thursday , November 15 2018
সর্বশেষ
Home / পোলট্রি / জেনে নিন কোয়েলের ডিমের কিছু ওষুধ-গুণ
পুষ্টিতে ভরা কোয়েলের ডিম

জেনে নিন কোয়েলের ডিমের কিছু ওষুধ-গুণ

ডা. আবু নাছেরঃ কোয়েলের ডিমের পুষ্টি গুণের পাশাপাশি অনেক ওষুধ-গুণ  রয়েছে। এগুলো শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশে এবং রোগ থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে অত্যান্ত কার্যকরী। আর তাই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও নিরাময়ে সারাবিশ্বে, বিশেষত চীনা অধ্যুষিত দেশগুলতে কোয়েলের ডিম ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বলা হয়ে থাকে কোয়েলের ডিম উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি, বহুমূত্রসহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।

সপ্তদশ শতাব্দীর বিখ্যাত চীনা ওষুধতত্ত্ববিদ লি শি চেন পুষ্টি গুণের পাশাপাশি জাপানি কোয়েলের ডিমে এই ওষুধ-গুণের বিষয়টি আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য জাপানি ও রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও ডাক্তারগণ গবেষনার মাধ্যমে কোয়েলের ডিমের এসব ওষুধ-গুণ সম্পর্কে নিশ্চিত হন।

কোয়েলের ডিমে রয়েছে জীবতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় উপাদান বা বায়োস্টিমুলেটর (Biostimulator), যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। বিশ্বের কোন কোন দেশে (বিশেষত চীনা অধ্যুষিত দেশে) বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে কোয়েলের ডিম থেরাপির রেওয়াজ প্রচলিত আছে। যেমন- পুনর্যৌবনপ্রাপ্তি (Rejuvenation), স্মৃতিশক্তির উন্নয়ন, স্নায়বিক রোগ (Nervous disorder), রক্তশূন্যতা (Anemia), মাইগ্রেন, হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ সিরাম কোলেস্টেরল, বহুমূত্র (Diabetes), উচ্চ রক্তচাপ, আরটেরিওস্ক্লেরিওসিস (Arteriosclerosis), হাঁপানি (Bronchial asthma), যক্ষ্মা (Tuberculosis), অনিয়মিত হজমক্রিয়া (Irregular digestion), দেহের আকার সঠিক রাখা প্রভৃতির জন্য মোট ২৪০ টি করে এবং পাকস্থলীর আলসার (Stomach ulcer) সারাতে ১২০ টি করে ডিমের একেকটি কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। কখনো কখনো দু’টি কোর্সও করতে হয়। তবে  দ্বিতীয় কোর্সের প্রয়োজন হলে অবশ্যই প্রথম কোর্স শেষ হওয়ার দু’মাসের আগে তা শুরু করা যাবে না।

প্রতিদিন প্রাতঃরাশের পূর্বে খালি পেটে নিম্নলিখিত হারে কোয়েলের ডিম কাঁচা অবস্থায় খেতে হবে—

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি—

প্রথম-তৃতীয় দিন——– ৩টি

চতুর্থ—শেষ দিন——-৫-৬ টি

শিশু—

ছয়—দশ বছর বয়স —— ৪টি

তিন—ছয় বছর বয়স ——- ৩টি

দুই বছর বয়সের কম ——-২ টি

ছোট হলেও তুলনামূলকভাবে কোয়েলের ডিম হাঁস-মুরগীর ডিমের থেকেও উন্নতমানের। যেহেতু এটি পুষ্টিমানে এবং ওষুধ-গুণে ভালো তাই যে কোন বয়সের মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষা ও পুষ্টিসাধনে এই ডিম বেশি উপকারি হবে। তাই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে কোয়েলের ডিমের প্রাধান্য থাকা উচিত। এগুলো রঙিন ওঁ ছোট হওয়ায় বচ্চারা বেশ পছন্দও করে। বয়সভেদে প্রতিটি বাচ্চার জন্য দৈনিক ১-২ টি ডিমই যথেষ্ট। এতে অর্থেরও বেশ সাশ্রয় হয়। কাজেই ছোট বড় সকলেরই কোয়েলের ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

সূত্রঃ কোয়েল পালন, ডা. আ ন ম আমিনুর রহমান।

About Abu Naser

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *