Thursday , November 15 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / গবাদি প্রাণির প্রাণঘাতী রোগ ব্যাবেসিওসিস (রক্ত-প্রস্রাব) এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

গবাদি প্রাণির প্রাণঘাতী রোগ ব্যাবেসিওসিস (রক্ত-প্রস্রাব) এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

যেকোনো গরুরই পরজীবীঘটিত এক ধরনের রোগ হতে পারে যার নাম ব্যাবেসিওসিস বা রক্ত-প্রস্রাব। Boophilus microplus নামের এক ধরনের উকুনের কামড়ে এই পরজীবী গরুর দেহে প্রবেশ করে রক্তের লোহিত কণিকায় আশ্রয় নেয়, সেখানেই বংশ বৃদ্ধি করে। ক্রমেই অন্যান্য লোহিত কণিকায়ও আক্রমণ করে। এতে লোহিত কণিকা ভেঙে হিমোগ্লোবিন রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে আসে। বেশি লোহিত কণিকা আক্রান্ত হলে গরুর রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।

রোগের লক্ষণঃ 

  • জ্বর হচ্ছে এই রোগের প্রথম লক্ষণ, জীবাণু বহনকারী উকুনের কামড়ের প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যেই জ্বর দেখা দেয়।
  • গরু ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়, শ্বাস গ্রহণের চেয়ে শ্বাস একটু জোরে ত্যাগ করে।
  • খাবারের রুচি কমে যায়, আক্রান্ত গরু দুর্বল হয়ে যায়।
  • চোখ এবং দাঁতের মাড়ি ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত বের হয়, অনেক সময় পায়খানার সাথেও রক্ত বের হতে পারে।
  • গর্ভবতী গাভীর ক্ষেত্রে গর্ভপাত হতে পারে।
  • গরু কোনো কিছুর সাথে মাথা ঘষা, বৃত্তাকারে চার দিকে ঘোরাসহ এই ধরনের নানান অসংলগ্ন আচরণ করতে পারে।
  • পক্ষাঘাত, অচেতন হয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুও হতে পারে।

 

রোগ সনাক্তকরণঃ রোগের লক্ষণ দেখে + পোষ্টমর্টেেম করে এ রোগ নিরুপণ করা যায়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আক্রান্ত গরুর রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

চিকিৎসাঃ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা দিলে দ্রুত সেরে যায়। তাই রোগের লক্ষণ দেখা মাত্রই ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ ব্যবহার করা উচিত।

প্রতিকারমূলক ব্যবস্খাঃ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্খার মধ্যে উকুন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এ জন্য যেসব এলাকায় এই উকুনের প্রাদুর্ভাব বেশি সেখানে পানির মধ্যে একারাসিড জাতীয় ওষুধ গুলে গরুকে গোসল করাতে হবে। তাতে গরুর শরীর উকুনমুক্ত হবে। চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর পর গোসল করালে উকুনের আক্রমণের সম্ভাবনা কমে। দেশীয় গরুগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি বলে এই রোগে কম আক্রান্ত হয়। কিন্তু সঙ্কর জাতের কিংবা বিদেশী জাতের গরু সহজেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য ভ্যাকসিন দেয়া প্রয়োজন। অবশ্য কোনো গরু একবার এই রোগে আক্রান্ত হলে পরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। কারণ আক্রান্ত হওয়ার ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্ম নেয়। গরুকে রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্খা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এ ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সুষ্ঠু ও যত্নশীল পরিচর্যা গরুকে এ রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। কোনো কারণে রোগগ্রস্ত হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসার ব্যবস্খা করা এ রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করবে।

About Editor

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *