Thursday , November 15 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / বাছুরের ভাঙ্গা পায়ে সফল প্লাস্টার করলেন ডা. সুচয়ন চৌধুরী

বাছুরের ভাঙ্গা পায়ে সফল প্লাস্টার করলেন ডা. সুচয়ন চৌধুরী

নিজেস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ভেটেরিনারি সেবা তথা প্রাণি চিকিৎসার বেশ উন্নতি হয়েছে। ছোট থেকে বড় অনেক ধরণের সার্জারি হয়ে থাকে। ভেটেরিনারি সার্জনের সংখ্যা অনেক কম।  তার পরেও কোন খামারী বা প্রাণির মালিক, প্রাণি সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে গেলে উপযুক্ত সেবা পেয়ে থাকেন। ভাঙ্গা পা থেকে শুরু করে সিজার পর্যন্ত সকল অপারেশন হয়ে থাকে বিভিন্ন উপজেলার ভেটেরিনারি হাসপাতালে।

একটা বাছুরের ভাঙ্গা পায়ে সফল প্লাস্টার করে  চিকিৎসা দিয়েছেন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুচয়ন চৌধুরি। ছুটির দিনেও  সেবা দিচ্ছেন।

সফল চিকিৎসার পর তিনি তার ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য তার স্টাটাস টা তুলে ধরা হল। ” ঝুলন্ত ভাঙ্গা পা নিয়ে খুব কষ্টে কাতরাচ্ছিল বাচুরটি। যত কষ্টই হোক না কেন “বে:… বে:…” এই দুটি শব্দ ছাড়া আর কিছুই বলতে পারে না অবলা প্রাণিটি। কিন্তু একজন ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে আমি বুঝতে পারছিলাম বাছুরটি কি পরিমান কষ্ট পাচ্ছিলাম।

মালিক নুরজাহান বেগম তার প্রিয় বাছুরটির মাথায় হাত বোলাচ্ছিলেন। আর প্রায় কাঁদ কাঁদ স্বরে বললেন “আমার বাচুরের পা টা একটু ভাল করে দেন।” খুব অল্প সময়ের মধ্যে অপারেশনের কাজ শুরু করলাম। একে তো ছিল ছুটির দিন (০৪/০৫/১৮ ইং শুক্রবার) তার উপর দীর্ঘক্ষন বিদ্যুৎ না থাকায় পানির স্বল্পতা। কিন্তু তা ভাবার সময় বা সুযোগ নেই।

পরীক্ষা করে দেখা গেল ডান পায়ের টিবিয়া-ফিবুলা ভেঙ্গে সম্পুর্ন ভেঙ্গে আলাদা হয়ে গেছে।তাই অপারেশনটি খুব জঠিল ছিল। প্রায় ঘণ্টা খানেক শ্রমসাধ্য অপারেশনের শেষে দেখলাম বাছুরটি এখন দাঁড়াতে পারছে। আমি স্বস্তি ফিরে পেলাম। মালিকে মুখে হাসি ফুটে উঠল। এই হাসির মূল্য অমূল্য। অমলিন হোক খামারীর মুখে হাসি।”

বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবুও প্রাণি স্বাস্থ্য রক্ষার কর্ণধর ভেটেরিনারিয়ানদের পদ সংখ্যা খুবই কম। ১৯৮২ সালের কাঠামো অনুসারে এক উপজেলায় মাত্র একজন ভেটেরিনারি সার্জন। এক জনের পক্ষে পুরো উপজেলার সবাইকে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে দেশের জনগন বঞ্চিত হচ্ছে ভাল চিকিৎসা এবং পরামর্শ থেকে। কোয়াক বা অশিক্ষিত হাতুড়ের ভুল চিকিৎসায় খামারীরা প্রতিনিয়তই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। দেশের উন্নতির জন্য এবং প্রাণিসম্পদের মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য দ্রুত অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সময়ের দাবী এবং জনদাবী এই অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন হলে খামারী, জনগণ সবাই  সঠিক সেবা পাবে। অল্প খরচে ও স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে।

About Mostafizur Rahman

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *