Saturday , December 15 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / গরুর দৈহিক বৃদ্ধি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভিটামিন A, D ও E এর গুরুত্ব…

গরুর দৈহিক বৃদ্ধি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভিটামিন A, D ও E এর গুরুত্ব…

গরুর শারীরিক বৃদ্ধি, প্রজনন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনটি ভিটামিন A, D এবং E গরুর জন্য অত্যাবশকীয় কিন্তু সামান্য ভিটামিন ই ছাড়া বাকি দুটি রেশনে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে যারা দানাদার খাবার ও শুকনা খড়ের উপর নির্ভরশীল তাদের রেশনে এই তিনটি ভিটামিন পাওয়া যায় না বললেই চলে। কিন্তু এই তিনটি ভিটামিন গরুর শারীরিক বৃদ্ধি, প্রজনন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য্য । নিন্মে এই তিনটি ভিটামিন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলঃ

ভিটামিন এ

উৎসঃ

ভিটামিন- এ কোন দানাদার খাদ্যে পাওয়া যায় না কারণ এটি সূর্য্যের তাপে বা অতিরিক্ত তাপে নষ্ট হয়ে যায়। শুধুমাত্র প্রাণিজ উৎস (যেমন মাছ, মাংস ডিম, দুধ) ও সবুজ কাঁচা ঘাসে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। কিন্তু গরুকে প্রাণিজ উৎস থেকে খাবার প্রদান করা প্রায় অসম্ভব এবং কাঁচা ঘাসে খুব অল্প পরিমাণে ভিটামিন – এ থাকে তাই সাপ্লিমেন্ট দেওয়া জরুরী।

ভিটামিন- এ এর পরিমাণ

গরু মোটাতাজাকরনের জন্য রেশনে ২২০০ IU/Kg, গর্ভবতী গরুর জন্য ২৮০০ IU/Kg এবং দুধের গরুর জন্য ৩৬০০ IU/Kg ঘনত্ব থাকা জরুরী। তাই সঠিক পরিমাণে সরবরাহের জন্য ভাল ভাবে হিসাব করা জরুরী।

ভিটামিন এ এর অভাবে যে লক্ষণ গুলো পরিলক্ষিত হয়

  • খাবার গ্রহন কমে যাওয়া
  • লোম রুক্ষ হয়ে যাওয়া
  • হাড়ের জোড়া ও চোয়াল ফুলে যাওয়া
  • গ্রোথ কম হওয়া, অতিরিক্ত অভাবে নিয়মিত ওজন কমতে থাকা
  • কোন কারণ ছাড়াই প্রায় পাতলা পায়খানা হওয়া
  • হাড়ের গঠন ঠিকমত না হওয়া
  • গভর্পাত হওয়া, সিমেন কোয়ালিটি খারাপ হয়ে যাওয়া
  • শরীরে নানা স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া
  • রাতকানা রোগ হওয়া
  • অন্ধ বাছুর জন্ম দেওয়া
  • খাবার গ্রহন কমে যাওয়ার কারণে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া

ভিটামিন ডি

উৎসঃ

হাড়ে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস অ্যাবজর্ব এর জন্য ভিাটামিন ডি অত্যাবশকীয়। ভিটামিন ডি এর অনুপস্থিতে শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ঘাটতি দেখা দিবে। ভিটামিন ডি দুই ধরনের হয় – ভিটামিন ডি২ যা উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায় ও ডি৩ যা প্রাণিজ খাবার থেকে পাওয়া যায়। ভিটামিন ডি৩ ফ্যাট সলিবল তাই অতিরিক্ত মাত্রায় দেওয়া যাবে না। ভিটামিন ডি এর অন্যতম আরেক উৎস হল সুর্যালোক। প্রতিদিন গরুকে রোদে দিলে আরো বেশি ভিটামিন ডি উৎপন্ন হবে।

কতটুকু প্রয়োজনঃ

মোটাতাজাকরনের জন্য ২৭৫ IU/Kg এবং দুধের গরুর জন্য ৩৫০-৪০০ IU/Kg প্রয়াজন।

ভিটামিন ডি এর অভাবে যে লক্ষণ গুলো পরিলক্ষিত হয়ঃ

ভিটামান ডি এর অভাবে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষন না হওয়া কারণে গ্রুথ কমে যাওয়া, দুধের গরুর মিল্ক ফিভার হওয়া এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে, বাছুরের রিকেট হওয়া, গরু ঠিক মত অনেকক্ষন দাড়াতে পারবে না, শরীর কাপঁতে থাকবে, দুধের ঘনত্ব কমে যাবে, হাড় দুর্বল হয়ে যাবে। সহজে বুঝার ব্যবস্থা হল গ্রুথ কমে যাবে, গরু সবসময় হাঁপাতে থাকবে, শরীর অতিরিক্ত দুর্বল থাকবে ও হজমে সমস্যা দেখা দিবে।

ভিটামিন ই

উৎসঃ

ভিটামিন ই হল ফ্যাট সলিবল একপ্রকার এন্টিওক্সিডেন্ট যা ফ্যাটে অক্সিজেন শোষনের পর কোন ক্ষতির কিছু থাকলে ভিটামিন ই তা নিউট্রালাইজ করে। ভিটামিন ডি সাধারনত পালং শাক, ধনিয়া পাতা, মুলা শাক, সরিষার শাক, বাদাম জাতীয় খাবার, খৈলে পাওয়া যায় তবে তা খুব বেশি পরিমানে নয়। তাই চাহিদা পূরণের জন্য সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন।

ভিটামিন ই রেশনে কতটুকু প্রয়োজন তা অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন সালফার সমৃদ্ধ অ্যামিনো এসিড কতটুকু আছে, রেশনে কতটুকু সেলিনিয়াম আছে, রেশনে কতটুকু পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট (যা আমরা কখনই হিসাব করিনা) আছে। সাধারনত শরীরে ভিটামিন ডি এর মতই ভিটামিন ই খুব বেশি একটা জমা হয় না তাই নিয়মিত প্রদান করতে হবে। রেশনে ভিটামিন ই সর্বনিন্ম ১৫-২০ IU/Kg থাকতে হবে। তবে ফিনিশিং ও ডেইরীর জন্য তা ৫০-৬০ IU/Kg পর্যন্ত দিতে হতে পারে।

ভিটামিন ADE সাপ্লিমেন্টের প্রয়োগঃ

যেহেতু এই তিনটি ভিটামিন রেশনে পাওয়া যায় না তাই সাপ্লিমেন্ট না দিয়ে উপায় নেই।বিভিন্ন কোম্পানি ভিটামিন ADE বাজারজাত করে থাকে । বাজারে স্কয়ার ফার্মার “ES-ADE Solution” এবং এসিআই এর “Acivit – ADE Oral Solution” পাওয়া যায় যার প্রতি মিলিতে ভিটামিন A-1 Lac IU, D- 20,000 IU এবং E -20mg  আছে যার ১০০ মিলির দাম  ১৫০-১৬০ টাকা। তবে বড় প্যাক ক্রয় করলে খরচ কম পড়বে। তবে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের এই প্রোডাক্ট থাকলে এবং সমপরিমান উপাদান ও দাম ঠিক থাকলে তাও ব্যবহার করতে পারবেন।

ব্যবহারের নিয়মঃ

১ লিটার পানিতে ১.২৫ মিলি ভিটামিন এডিই ভাল ভাবে মিশ্রিত করবেন। এর পর ২০ কেজির বেশি দুধ দেয় এমন গরুকে ৫০০ মিলি, ১৫ কেজি দুধের গরুকে ৪০০ মিলি, ১০ দুধের গরুকে ৩০০ মিলি, ৫ কেজি দুধের গরুকে ২০০ মিলি দিবেন। মোটাতাজাকরনের ক্ষেত্রে ১০০ কেজি বা কম ওজনের গরুকে ৫০-৬০ মিলি, ২০০ কেজি গরুকে ১০০ মিলি, ৩০০ বা তার অধিক ওজনেন গরুকে ১৫০ মিলি দিবেন। তবে যারা দীর্ঘদিন যাবৎ এই ভিটামিন তিনটি দিচ্ছেন না তারা প্রথম সাত দিন ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি ভিটামিন মিশিয়ে খাওয়াবেন। একদিনের মিশ্রন পরের দিনের জন্য রাখবেন না।

About Editor

Check Also

টেরিটরি নির্বাহী পদে নিয়োগ দিচ্ছে ACI Godrej Agrovet Private Ltd.

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :   ACI Godrej Agrovet Private লিমিটেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *