Sunday , August 19 2018
Home / প্রথম পাতা / মাছ চাষে প্রাকৃতিক সুরক্ষা – ২য় পর্ব

মাছ চাষে প্রাকৃতিক সুরক্ষা – ২য় পর্ব

গত পর্বে বেশ কিছু প্রাকৃতিক সুরক্ষা নিয়ে লেখা হয়েছিল। আজকে আরো কিছু সহজলভ্য ও কার্যকারী উপাদানের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হল।
কলাগাছের ব্যবহারঃ
আমাদের দেশে গ্রামে-গঞ্জে প্রচুর পরিমান কলাগাছ পাওয়া যায় । প্রটোজোয়া এবং কৃমি সমস্যার সবথেকে কার্যকর সমাধান কলাগাছের ফালি। এলকালাইন সিক্রেশনের মাদ্ধমে পানি পিএইচ বাড়াতে কলাগাছ প্রাকৃতিক ভুমিকা পালন করে থাকে। সবথেকে মজার বেপার হচ্ছে কালাগাছের ফালির মুখ অক্সিজেনের পকেট হিসেবে কাজ করে ফলে পুকুরের অক্সিজেনের অনেক উন্নতি করে কালাগাছ ফালি করে কেটে রাখলে। ১/২ ফিট করে কলাগাছের ফালি কেটে পুকুরে ছিটিয়ে রাখলে পিএইচ এবং অক্সিজেনের অনেক উন্নতি ঘটবে অবশ্যয় ।
রেড স্পট রোগের জন্য ভেন্না গাছ যেটাকে আমরা জংলি গাছ বলে অবজ্ঞা করি সেটা অনেক কার্যকর । শতক প্রতি ৫০০ গ্রাম ভেন্না পাতা মুটি করে পুকুরে ফেলে রাখলে ইনশাল্লাহ রেডস্পট রোগ মাছের হবে না। পানির দুর্গন্ধ দুর করতে এবং পানি থেকে ভারি ক্ষতিকর উপাদান যেমন মারকারি, লেড, আরসেনিক দূর করতে কচুরি পানা সবথেকে বর ভুমিকা পালন করে। পুকুরের ১০ ভাগের একভাগ কচুরি পানা দিয়ে ভরে রাখলে পানির গুনগত মান বৃদ্ধি পাবে। এছারা বাদাম গাছের শিকরে নাইট্রোজেন কনটেন্ট থাকে যেটা নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার কাজ করে থাকে।

বাঁশের ব্যবহার;
পুকুরের মধ্যে কিছু কাঁচা বাশ অথবা বাশের কঞ্চি পুতে রাখলে পুকুরের মাছ সেখানে গা ঘসে থাকে গলে মাছের গায়ের উকুন দুর হয় এবং পুঁজ দুর করে থাকে। পুকুরের বিভিন্ন জায়গায় বাশ পুতে রাখলে ওই পুকুরের মাছের উকুন হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যাবে নিশ্চিত ভাবে। তাছারা বাঁশের গায়ে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রোটিন কনা জমা হয় যেটা মাছের প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে অনেক উন্নত পুষ্টি সরবরাহ করে থাকে। তাছাড়া মিষ্টি কুমড়ার বিচি প্রাকৃতিকভাবে প্যারাসাইটের আক্রমন এবং বংশবৃদ্ধি রোধ করতে বড় ভুমিকা পালন করে থাকে। তাছারা আনারস, পেপের বিচিতে ব্রমেলিন এনজাইম থাকে যেটা প্রাকৃতিক ভাবে প্যারাসাইটএর আক্রমন থেকে রক্ষা করে থাকে। বাঁধাকপিতেও আন্টি প্যারাসাইট গুন থাকে যেটা মাছের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভাল কাজ করে। তাছাড়া কাচা হলুদ, পান পাতা ক্ষত রোগ নিরাময়য়ে অনেক বর ভুমিকা পালন করে থাকে।

আসলে প্রকৃতির গুনাগুন লিখে শেষ করে যাবে না। তাই আমার অনুরোধ যারা অভিজ্ঞ মৎস্য চাষি , মৎস্য বিজ্ঞানী , গবেষক আছেন তারা সকলে মিলিতবদ্ধভাবে মাছ চাষের জন্য প্রাকৃতিকভাবে তৈরী বিভিন্ন ওষুধ এবং খাবার কিভাবে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারেন সে চেষ্টা করুন প্লিজ। যারা ওষুধ কোম্পানির আছেন তারা দয়া করে আমার উপর রাগ করবেন না কিন্তু মাছ চাষে আমাদের অস্তিত্ত টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের অন্য কোন বিকল্প আমি দেখতে পাই না। তবে একটা কথা সব সময় মনে রাখতে হবে সেটা হচ্ছে বাণিজ্যিক মৎস্য উৎপাদনে পুকুরের পরিবেশ ঠিক রাখা আর সম্পূরক খাদ্য সুষমভাবে প্রয়োগ করা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি। আপনি যখন এই বেপারগুলা সঠিকভাবে মেইনটেইন করবেন তখন আপনার পুকুরে রোগ বালায় হওয়ার সম্ভাবনা এমনিতেই কমে যাবে। তাই আসুন আমরা এই বেপার টা সব সময় আমাদের ভিতর ধারন করে থাকি যে prevention is better than cure.
লেখকঃ
আহসানুল আলম জন
স্বত্বাধিকারি
পল্লী ফুড ফারমস্
hello@pollifood.com

About Mostafizur Rahman

Check Also

রোটার‍্যাক্ট ও রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

শেকৃবি প্রতিনিধিঃ রোটারি ক্লাব অফ ঢাকা মিড সিটি ও রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব ঢাকা মিড সিটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *