Wednesday , November 14 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / গম ঘাসের জুস সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য
Photo Courtesy: Internet

গম ঘাসের জুস সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য

বিশ্বজগতে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করে চলেছি। গম ঘাসের জুসও তার ব্যতিক্রম নয়। পশ্চিমা বিশ্বে গম ঘাসের জুসকে সুপার ফুড হিসেবে অভিহিত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গম ঘাসের জুস নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে, মিলছে অনেক ইতিবাচক দিক যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। গবাদিপশুপাখিকে গম ঘাস খাওয়ানোর পর পাওয়া যাচ্ছে আশাতীত সাফল্য। 

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, খৃষ্টপূর্ব ২৮০০ সালে চীনের জনসাধারণ গম ঘাসের ক্ষত নিরাময়ের ক্ষমতা সম্পর্কে জানতো। প্রাচীন মিশরীয় এবং মেসোপটেমিয়ানরাও গমের চারার ব্যবহার জানতো। তবে  ১৯৩০ সালে ডঃ চার্লস স্ন্যাবেল গমের চারার ওপর প্রথম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন। এভাবেই বিশ্ববাসী গম চারা সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানার সুযোগ লাভ করে।

গম ঘাসের জুসের উপকারিতাঃ

১। এই  ঘাসে আছে ভিটামিন এ, বি কমপ্লেক্স, সি, ই ও কে। আরো আছে প্রোটিন ও ১৭ ধরনের অ্যামিনো এসিড। পটাশিয়াম, ডায়েটারি ফাইবার, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নায়াসিন, আয়রন, জিংক, কপার, ম্যাংগানিজ।  থাইরয়েডের সমস্যা ঠেকানোর উপাদান সেলেনিয়াম এতে বিদ্যমান।

২। এই ঘাসের জুসে ক্লোরোফিল সর্বোৎকৃষ্ট মানের। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন এই ক্লোরোফিল মানবদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করতে পারে।

৩। গমের ঘাস তৃণভোজী প্রাণী অর্থাৎ আমাদের গৃহপালিত পশুপাখির দেহে পুষ্টি সাধন করে সদা সতেজ রাখে এবং শারীরিক বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করে।

৪। লিভার পরিশোধন এবং রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

Photo Courtesy: Internet

৫। বিভিন্ন এনজাইম গম ঘাসে উপস্থিত থাকার কারণে আমাদের দেহের হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।

৬। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পাকা বন্ধ হয়ে যায়।

৭। ত্বক পরিষ্কারে সহায়ক। এছাড়াও ব্রণের দাগ সারাতে সহায়তা করে।

৮। প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম উপস্থিত থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পায়খানা সহজ করে।

৯। ফুসফুস ও রক্তকে পানি, বায়ু, বিষাক্ত পদার্থ ঘটিত দূষিত পরিবেশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে প্রতিরোধ করে।

১০। হৃদপিণ্ড আর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে গম ঘাসের জুস পান করার বিকল্প নেই।

১১। যাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের সমস্যা আছে, তারাও এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন। গমের ঘাস রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়।

এছাড়াও আরো অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে যা একদিনে বলে শেষ করার নয়। এটি অনেক শক্তি দিবে আপনাকে উজ্জীবিত থাকার জন্য।

যেভাবে ঘরে বসে প্রস্তুত করা যাবে

বাইরের দেশে গমের ঘাসের পাউডার, ট্যাবলেট এবং জুস প্রস্তুত অবস্থাতেই পাওয়া যায়। আমাদের দেশে যদিও সেভাবে হাতের নাগালে প্রস্তুতকৃত জুস অথবা পাউডার সহজলভ্য হয়ে উঠেনি। তবে আশার কথা হচ্ছে ঘরে বসেই আমরা নিজেদের চাহিদা মোতাবেক প্রস্তুত করতে পারি।

১। প্রথমেই ভালো মানের গমের নিরোগ বীজ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বীজগুলো ভালো করে ধুয়ে এক রাত পাত্রে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

২। পরেরদিন পুনরায় বীজগুলোকে ভালো করে ধুয়ে একটা বাক্সে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন বীজের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি স্প্রে করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শুকিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩। দু-একদিনেই দেখা যাবে বীজে ছোট ছোট সাদা শেকড় গজাচ্ছে। এরপর ট্রেতে সারযুক্ত মাটির একটা পরত বিছিয়ে দিন (ঝুঁকি এড়াতে এই ধাপে কৃষিকাজে অভিজ্ঞদের সহায়তা নেয়া যেতে পারে)। যারা ভাবছেন মাটি নিয়ে ঝামেলা হতে পারে, তারা জেনে নিশ্চিন্ত হবেন গমের চারা মাটি ছাড়াও গজাতে পারে। তবে মাটিতে তাড়াতাড়িই গজিয়ে থাকে।

Photo Courtesy: Internet

৪। যে ট্রেতে মাটি রাখা হবে অর্থাৎ আপনার কাঙ্ক্ষিত অতি ক্ষুদ্র গমক্ষেতটি বানাবেন- সেটি নিচে ছিদ্রযুক্ত হয় (ফুরে টবের মতো) যাতে পানি বেড়িয়ে যেতে পারে। শেকড়যুক্ত বীজগুলোকে মাটিতে সমানভাবে ছড়িয়ে দেবারপ পরে বীজগুলোকে মাটিতে হাল্কা একটু চেপে অথবা দাবিয়ে দিতে হবে অথবা শিকড় গজানো বীজগুলোর উপর ঝুরঝুরে মাটির আরেকটি পরত দিয়ে দিতে হবে।

৫। এই পর্বে পানি স্প্রে করুন। কেননা ট্রেতে অবস্থিত মাটিকে ভেজা রাখতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই যেন পানি জমে না থাকে ট্রেতে। ট্রে’টি ভেজা কাগজ/পত্রিকা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে যেন আর্দ্র ভাব বজায় থাকে।

৬। সকাল বিকাল দুবেলা পানি স্প্রে করে যেতে হবে। কদিনের মধ্যেই চারা গজাবে। ১০ দিনের মাথায় চারাগুলোর মাথা দুই ফালিতে ভাগ হওয়া শুরু হবে। অর্থাৎ জুস বানানোর উপযোগী হয়ে যাবে।

৭। এবার কাচি দিয়ে কেটে ভালো করে ধুয়ে ব্লেন্ডার বা জুসার-এ দিয়ে রস বের করে নিন। ব্লেন্ডার জুসার না থাকলে অন্য যে কোনো কায়দায় যেমন পাটায় পিষে নেয়া যেতে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই রস বা জুসের সঙ্গে লবণ, চিনি, আদা কিছুই  মেশাতে হয় না।

৮। একবারে দিন সাতেকের জন্য বানিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন জুস। প্রতিদিন খালি পেটে ৩০ মিলি পরিমাণ করে গ্রহণ করুন। ভাল বোধ করলে বা আগ্রহ থাকলে একটু বেশিও নিতে পারেন। শুরুর দিকে কারও কারও অস্বস্তি লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রথম দিকে একটু কম করে শুরু করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমরা সবাই সচেতন সেটা নিয়ে আমাদের কারোরই কোনো দ্বিধা নেই। তাই একজন স্বাস্থ্য সচেতন হিসেবে আপনার গম ঘাসের জুস অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। তাহলে শুরু হয়ে যাক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করা!

 

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

About Nur E Kutubul Alam

Project Developer | Reporter | Future Farmer | Businessman

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *