Sunday , April 22 2018
Home / কৃষি গবেষনা / লিচুর “ফল ফেটে যাওয়া” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

লিচুর “ফল ফেটে যাওয়া” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশে সবত্রই কম-বেশী লিচুর চাষ হয়।  বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয় এবং মোট উৎপাদন প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন তা আমাদের চাহিদার মাত্র এক চতুর্থাংশ পূরণ করে। লিচু টাটকা ফল হিসেবে বাংলাদেশের সর্বত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। লিচুতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি, সি, খনিজ লবন ও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। আমাদের দেশে লিচুর অনেক রোগ বালাই দেখা যায়। লিচুর এ রোগসমূহ দমন করতে পারলে লিচুর উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি কর সম্ভব। লিচুর মারাত্মক একটি রোগের কারণ ও এর প্রতিকার ব্যবস্থা আলোচনা করা হলঃ

 

ফল ফেটে যাওয়া (Fruit cracking) রোগ

 

রোগের কারণঃ শারীরবৃত্তীয় কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে পর্যায়ক্রমে শুষ্ক আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত হলে ফল ফেটে যায়।

রোগের বিস্তারঃ

আগাম জাতে এ সমস্যা বেশী হয়। দীর্ঘ খরার পর হঠাৎ বৃষ্টি, শুষ্ক ও গরম হাওয়ার কারণে এ রোগ বেশী হয়। পলি বা বেলে দোঁআশ মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কম। এ ধরণের মাটিতে স্থাপিত লিচু বাগানের ফল ফেটে যাওয়ার সমস্যা বেশী দেখা যেতে পারে। মাটিতে বোরণ ও ক্যালসিয়ামের অভাব থাকলে রোগের তীব্রতা বাড়ে। বাংলাদেশে আবাদকৃৃত জাতগুলোর মধ্যে বোম্বাইতে আক্রমণ বেশী দেখা যায়।

 

রোগের লক্ষণঃ

  • দীর্ঘ সময় খরা চলতে থাকলে ফলের বাহিরের খোসা শক্ত হয়ে যায়।
  • এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে ফলের বৃদ্ধি শুরু হয় অর্থাৎ লিচুর পাল্প দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
  • বাহিরের খোসা শক্ত থাকায় ফলের ভিতরের অংশ (পাল্প)-এর সাথে সুষমভাবে দ্রুত বাড়তে না পারায় খোসা ফেটে যায়।
  • ফল ফেটে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়।
  • উক্ত ফাটা স্থানে রোগ জীবাণুর আক্রমণ ঘটতে পারে।
  • ফলে গোটা ফল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
  • ফল ফেটে গেলে তার বাজার মূল্য কমে যায়।

 

রোগের প্রতিকার

  • মাটিতে জৈব সার সহ সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।
  • খরা মৌসুমে ফল ধারণের পর থেকেই নিয়মিত সেচ প্রদান করতে হবে।
  • সেচ প্রদানের পর গাছের গোড়ায় কচুরিপানা বা খড় দ্বারা আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • প্রতি বছর প্রতি গাছের গোড়ায় ক্যালসিয়াম সার (ডলোচুন – ১৫০ গ্রাম) প্রয়োগ করতে হবে।
  • ফলসহ গাছে পানি স্প্রে করতে হবে।
  • ফল বৃদ্ধির সময় জিংক সালফেট প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম হারে মিশিয়ে পর পর ৩ সপ্তাহ গাছে স্প্রে করলে ফল ফাটা ও ফল ঝরা বন্ধ হয় এবং ফলের আকৃতিও বড় হয় ।
  • গুটি বাধার পর পরই প্লানোফিক্স বা মিরাকুলান প্রতি ৪.৫ লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
  • বোরিক এসিড প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে পর পর ৩ সপ্তাহ গাছে স্প্রে করলে ফল ফাটা বন্ধ হয় এবং ফলের আকৃতিও বড় হয়।

 

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

শেকৃবি এলামনাই এসোসিয়েশন এর অভিষেক ও পুনর্মিলনী ২০১৮ অনুষ্ঠিত

নাজমুস সাকিব, শেকৃবি প্রতিনিধিঃ জাঁকজমক পূর্ণভাবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এলামনাই এসোসিয়েশন’র অভিষেক ও পুনর্মিলনী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *