Monday , April 23 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / কাঁঠালের “কান্ড পচাঁ” রোগের কারণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

কাঁঠালের “কান্ড পচাঁ” রোগের কারণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। কাঁঠালে প্রচুর পরিমানে শর্করা, আমিষ ও ভিটামিন এ পাওয়া যায়। এটি এমন একটি ফল যার কোন অংশই ফেলে দিতে হয় না (কোষ ও বীজ মানুষের খাদ্য ও বাকী অংশ পশু খাদ্য)। এ ফল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। বাংলাদেশে উৎপাদনের দিক থেকে কলার পরেই কাঁঠালের স্থান। এ ফল অন্যান্য ফলের তুলনায় দামে কম হওয়ায় গরিব মানুষ সহজে খেতে পারে। কৃষকেরা এ ফলটি চাষ করতে গিয়ে গাছে কিছু রোগের সম্মুখীন হন। ফলে বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। রোগগুলো নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে কাঁঠালের উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। কাঁঠালের একটি মারাত্মক রোগ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে বর্ননা করা হল।

 

কান্ড পচাঁ (Stem rot) রোগ

 

রোগের কারণঃ ফাইটোফথোরা পালমিভোরা (Phytophthora palmivora) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

রোগ জীবাণু গাছের আক্রান্ত অংশে বেঁচে থাকে। মাটিতে পরিত্যক্ত শাখা প্রশাখায় এ রোগ জীবাণু প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকে। আর্দ্র আবহাওয়া এবং রাতের ও দিনের তাপমাত্রার তারতম্য হলে এ রোগ জীবানুর বিস্তার এবং সংক্রমণ বেশী হয়। ঝড় তুফান বা শীলা বৃষ্টির ফলে কান্ডে ক্ষতের সৃষ্টি হলে সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যায়।

 

রোগের লক্ষণঃ

  • সাধারণত গাছের কচি ডালপালা এই রোগে আক্রান্ত হয়।
  • ডালের যে কোন স্থানে বিভিন্ন আকৃতির বাদামী রংয়ের দাগ সৃষ্টি হয়।
  • পরবর্তীতে আক্রান্ত স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
  • ডালের পাতা ঝরে পড়ে ও আক্রান্ত ডাল মরে শুকিয়ে যায়।
  • পূর্ণ বয়স্ক বা পরিপক্ক ফলও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
  • ফল-এ কোন কারণে ক্ষত সৃষ্টি হলে ক্ষতস্থান দিয়ে সংক্রমণ শুরু হয়।
  • ফলের ক্ষত স্থানের চারিদিকে পানি ভেজা ফোস্কার সৃষ্টি হয়।
  • উহা হালকা বাদামী রং ধারণ করে এবং চারিদিকে বিস্তৃতি লাভ করে।
  • আক্রান্ত স্থানের কলা ও কোষ পঁচে যায় এবং গর্তের সৃষ্টি করে।
  • ফলের পঁচা অংশ খসে ফল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  • আক্রান্ত স্থানের ১০-১২ সেমি. নীচে ডাল কেটে পুড়ে ফেলতে হবে।
  • গাছে ডাল কাটার পর কাটা স্থানে বর্দোপেস্ট (প্রতি লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন) লাগাতে হবে।
  • গাছের অধিক ডাল পালা আক্রান্ত হলে মেটালেক্সিল + মেনকোজেব (যেমন-রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ৩ বার গাছে স্প্রে করতে  হবে।

 

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

ভূট্টার “মোচা ও দানা পচা” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশে ধান ও গমের পর ভূট্টা তৃতীয় ও উচ্চ ফলনশীল দানা জাতীয় ফসল। বিশ্বের বিভিন্ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *