Monday , February 18 2019
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / পেয়ারার “এ্যানথ্রাকনোজ রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পেয়ারার “এ্যানথ্রাকনোজ রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পেয়ারা বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ফল । এ দেশে প্রায় সর্বত্রই এটি জন্মে থাকে। পেকটিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের একটি অন্যতম উৎস হচ্ছে এই ফলটি । একটি পেয়ারাতে সমান আকৃতির একটি কমলার ৪ গুন এবং একটি লেবুর ১০ গুন বেশী ভিটামিন সি রয়েছে। পেয়ারা পরিনত হলে কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। প্রক্রিয়াজাতকরনের মাধ্যমে এই ফল থেকে তৈরী হয় সুস্বাদু জেলী, শরবত, পাউডার, আচার, আইসক্রীম প্রভৃতি। কিন্তু ফলটি উৎপাদনে রোগ একটি অন্যতম প্রতিবন্ধক। এর ফলে পেয়ারার যথেষ্ট ক্ষতি সাধন হয় ও ফলন কম হয়। পেয়ারার রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। পেয়ারার একটি মারাত্মক রোগ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে বর্নণা করা হল।

 

ফোস্কা বা এ্যানথ্রাকনোজ (Anthracnose) রোগ

 

রোগের কারণঃ কলেটোট্রিকাম সিডি (Colletotrichum psidii) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

গাছের পরিত্যক্ত শাখা প্রশাখা, ফল এবং পাতায় এ রোগের জীবানু বেঁচে থাকে এবং বর্ষাকালে ব্যাপক আকারে বীজকণা (কনিডিয়া) উৎপন্ন করে। বাতাস এবং বৃষ্টির মাধ্যমে এ সব বীজকণা দ্রুত বিস্তার লাভ করে নতুন নতুন আক্রমণের সূচনা করে। মাটিতে পটামিয়ামের অভাব থাকলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়।

 

রোগের লক্ষণঃ

  • রোগের জীবানু পেয়ারা গাছের পাতা, কান্ড, শাখা-প্রশাখা, কুঁড়ি ও ফলে আক্রমণ করে থাকে ।
  • কচি ফলের উপর বাদামী রঙের ছোট ছোট দাগ পড়ে যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।।
  • ফল বৃদ্ধির সাথে সাথে দাগ বাড়তে থাকে এবং ফোস্কা ধরণের বড় কালো ক্ষতের সৃষ্টি করে।
  • আক্রান্ত ফল পরিপক্ক হলে শাঁস শক্ত হয়ে যায়।
  • কোন কোন সময় ফলের ত্বক ফেটে যায়।
  • সংগ্রহোত্তর পেয়ারা আক্রান্ত হলে তাড়াতাড়ি পঁচে যায়।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • গাছের নীচে পড়ে থাকা মরাপাতাসহ যাবতীয় পরিত্যক্ত অংশ কিছুদিন পর পর সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে।
  • মাটিতে পটামিয়ামের অভাব থাকলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়। তাই প্রতি গাছের গোড়ায় ৫০ গ্রাম পটাসিয়াম সালফেট মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া যেতে পারে।
  • পেয়ারা সংগ্রহের পর ফাটা, কাটা, ক্ষত পেয়ারা সরিয়ে ফেলতে হবে।
  • গাছে মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার পূর্বে প্রোপিকোনাজোল (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে গাছের পাতা, মুকুল ও ডালপালা ভালভাবে ভিজিয়ে একবার স্প্রে করতে হবে। আবার পেয়ারা গুটি বা মার্বেল আকার ধারণ করলে উপরোক্ত ঔষধ ১০-১৫ দিন পর পর আরও কমপক্ষে ২ বার স্প্রে করতে হবে।

 

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

উদ্ভাবিত হবে ব্লাস্ট প্রতিরোধী গমের জাত

শাহীন সরদার, বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বীজ রেডিয়েশন মাধ্যমে প্রাপ্ত গাছগুলো ব্লাস্ট আক্রমণ করে নি। এইগুলো আমরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *