Sunday , July 22 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / বাংলাদেশের নতুন চমক: বেগুনী ধান গাছ

বাংলাদেশের নতুন চমক: বেগুনী ধান গাছ

কানিজ, নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি আসন্ন বৈশাখী বর্নিল রঙের আগেই দেশের কৃষিজ ফসলী জমিতে লেগেছে উৎসবের রং।রিতিমত অবাক করার মত ১টি বিষয় ধানক্ষেতে বেগুনী রঙের ধানগাছ।

জনাব মঞ্জুর হোসেন যিনি পাম মঞ্জুর নামে অধিক পরিচিত আজকের দিনের একজন সফল কৃষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্স করেও তিনি কৃষিকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি নিজস্ব পদ্ধতিতে পাম ফল হতে ব্যবহার উপযোগী তৈল উৎপাদন করে থাকেন। এছাড়া নিজস্ব মেশিনে সরিষার তৈল ও খৈল উৎপাদন করেছেন।

তাঁর রয়েছে নিজস্ব মাছের খামার এবং গরুর খামার। তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে অনেক ফলের জাত সংগ্রহ করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে তিনি সুন্দরবন যাওয়ার পথে সাতক্ষীরার শ্যামনগর নামক স্থানে গাড়ি থেকে নেমে একটি জমিতে বেগুনি রংয়ের কিছু ধান গাছ দেখতে পান।

জিনিসটি মুলত কি ছিল তা ভাবতে ভাবতেই চলে যান প্রায় বিশ কিলোমিটার । কিন্তু কৌতুহল দমাতে না পেরে সেখানকার বাস থেকে নেমে ফিরে আসেন তিনি এবং জমির মালিককে খুঁজে বের করেন।

জমির মালিকের কাজ থেকে জানা যায় আগের বছর তার জমিতে কয়েকগাছি ধান হয় , সে সকল ধান গাছের রং হয় বেগুনি। কিন্তু তা কোথা থেকে এল তা তিনি জানেন না।

পরবর্তিতে তিনি বীজগুলো আলাদা সংগ্রহ করেন এবং গত বছর সে বীজ দিয়ে সামান্য জায়গায় এটির চাষ শুরু করেন। তিনি জানান তার কাছে আর কোন বীজ নেই। কৌতুহলী মঞ্জুর হোসেন তাতে দমে যাননি। বরং ১০০০ টাকা অগ্রিম বুকিং দিয়ে আসেন কুরিয়ারে কিছু বীজ পাওয়ার আশায়।

 

অবশেষে তিনি কুরিয়ারে ২৫০ গ্রাম বীজ হাতে পান। সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব ছালেকুর রহমান শামীমের পরামর্শ মোতাবেক অত্যন্ত যত্নসহকারে পেট্রিডিসে অংকুরোগদম করে তারপর বীজতলায় বীজ ফেলেন।

এরপর ৪০ প্রায় দিন বয়সের চারার প্রতি গুছিতে ০১ টি করে মাঠে রোপন করেন। চারার বর্তমান বয়স ১১৪ দিন। প্রতি গুছিতে রয়েছে ১০-১৪টি কার্যকরী কুশি । গাছের উচ্চতা প্রায় ৮০ সে.মি.। গাছ থোড় অবস্থায় (Booting stage) আছে।

ডিএই’র কর্মকর্তাগণ এবং ব্রি’র বিজ্ঞানীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ধানটির জীবনকাল আনুমানিক ১৫৫ দিন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কৃষক জানান তিনি প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাতে চাননি। এ বছর সফলভাবে বীজ উতপাদন করতে পারলে পরের বার সকলকে জানানোর ইচ্ছা ছিল। তবে এখন সবার নজরে বিষয়টি চলে এসেছে। জমিটি ডিএই এবং ব্রি’র নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছে।
কৃষক জানান সংগ্রহকালীন সময়ে ধানের রং এবং চালের রং অন্যান্য উফশী জাতের মতোই দেখেছেন। ব্রি’র বিজ্ঞানীগন জানান, চালের রং বেগুনি হলে ধানটি উচ্চমূল্যের হবে। তাই সমস্ত বিষয় জানতে ধান কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক: সায়মন মাহবুব, SAAO

বিঃদ্রঃ জনাব মঞ্জুর হোসেন সাতক্ষীরার যে কৃষকের নিকট হতে বীজ সংগ্রহ করেছিলেন সে কৃষকের নিজের জন্য সংরক্ষিত বীজ ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে বলে জানা যায়।তিনি পুনরায় মন্জুর সাহেবের নিকট বীজ পাওয়ার প্রত্যাশায় আছেন।

About Abu Naser

Check Also

বাকৃবিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, অনুষ্ঠান যথারীতি হবে

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান মঞ্চে শনিবার রাতে ভয়াভয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *