Sunday , April 22 2018
Home / ক্যাম্পাস / বাকৃবিতে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ করার দাবি

বাকৃবিতে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ করার দাবি

বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মৎস্য সম্পদ উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ ও মাছ চাষে পঞ্চম। মৎস্য সেক্টরে দেশ অনেক এগিয়েছে। মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন করতে পারলে বিদেশে রপ্তানী করা যাবে তখন আমাদের অবস্থান আরো এগিয়ে আসবে। এখন প্রয়োজন মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদনে জোর দেওয়া। সমুদ্র মৎস্য সম্পদে আমাদের আবস্থান অনেক নিচে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের অন্যতম প্রাচীন  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( বাকৃবি) এখন সমুদ্রবিজ্ঞান এবং ফিস ফার্মাকোলোজি নিয়ে আলাদা বিভাগ খোলার সময় এসেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার মান উন্নয়ন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমদ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো- অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মনোরঞ্জন দাস। কর্মশালায় দেশে মাছ উৎপাদনে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অবদান নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিসারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. জোয়ার্দার ফারুক আহমেদ।

প্রবন্ধে বলেন, বাকৃবি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট তৈরি করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫হাজার ৪শত ৬৬ জন গ্রাজুয়েট বের হয়েছে যার মধ্যে ১৫০০জন মৎস্য অধিদপ্তর, ৬০জন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশ বিদেশে বিভিন্নক্ষেত্রে দক্ষতার সহিত অবদান রেখে চলছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত কোর্স-কারিকুলাম আপডেট করি। আমরা সর্বমোট ১৬৮ ক্রেডিট অফার করে থাকি স্নাতকে। আমাদেরও চারটি বিভাগে সমুদ্র নিয়ে অনেকগুলো বিষয় পড়িয়ে থাকলেও আলাদা কোন বিভাগ না থাকায় তা ফলপ্রসু হচ্ছে না।

পরে মাৎস্যবিজ্ঞানে বিশ্বজনীন শিক্ষা কারিকুলামের সঙ্গে সংগতিপুর্ণ রেখে শিক্ষার মান উন্নয়নে কর্মশালায় মুক্ত আলোচনা অনুুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় সমুদ্রবিজ্ঞান এবং ফিস ফার্মাকোলোজি নিয়ে আলাদা বিভাগ খোলার সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও আলোচনায় শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞানে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে মতামত দেন। এর মধ্যে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে ইন্টার্নশিপ চালু করা, সমুদ্রবিজ্ঞান এবং ফার্মাকোলোজি নিয়ে আলাদা বিভাগ করা, পরীক্ষায় পাশমার্ক্স ৪০% থেকে বাড়িয়ে ৫০% এ উন্নীত করা, পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষের ব্যবস্থা করা, স্নাতকে গবেষণা সংযুক্ত করাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সমস্যা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় । এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

মো. শাহীন সরদার

বাকৃবি প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ ২২০২।

মোবাইল ০১৭৩৭৭২১৬০৩।

 

About Editor

Check Also

শেকৃবি এলামনাই এসোসিয়েশন এর অভিষেক ও পুনর্মিলনী ২০১৮ অনুষ্ঠিত

নাজমুস সাকিব, শেকৃবি প্রতিনিধিঃ জাঁকজমক পূর্ণভাবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এলামনাই এসোসিয়েশন’র অভিষেক ও পুনর্মিলনী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *