Monday , April 23 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / গো-খাদ্য হিসাবে চাষ করুন জাম্বো ঘাস

গো-খাদ্য হিসাবে চাষ করুন জাম্বো ঘাস

জাম্বো ঘাসের রাসায়নিক উপাদান:

উপদান ————————————পরিমান(%)
ড্রাই ম্যাটার ————————————–১৫.৯
ক্রড প্রোটিন—————————————- ১১
নিউট্রাল ডিটারজেন্ট ফাইবার —————–৭৫.২
এসিড ডিটারজেন্ট ফাইবার ——————-৩৯.৭
এসিট ডিটারজেন্ট লিগনিন ——————–৪.৩
হেমিসেলুলোজ ———————————–৩৫.৫
সেলুলোজ ——————————————৩৫.৪
অ্যাশ ———————————————-৮.৫৯
শক্তি ———————————————–৩.২৮

রোপণের সময়ঃ- যে কোন সময় তবে উত্তম সময় হচ্ছে ফাল্গুন-চৈত্র মাস।
মাটির ধরনঃ- প্রায় সব মাটিতেই জন্মে। তবে উত্তম বেলে-দো-আঁশ মাটিতে ভাল।
জমি তৈরিঃ- উত্তমভাবে চাষ করে জমি তৈরি করতে হবে। বন্যা পরবর্তী কাদা মাটিতে লাগানো যেতে পারে।
কাটিং এর সংখ্যাঃ- ৭ কেজি প্রতি হেক্টর বা হেক্টর প্রতি ৩৫-৪০ হাজার কাটিং/মাথা।
কাটিং লাগানোর দূরত্বঃ- লাইন থেকে লাইন ৭০ সে. মি. কাটিং থেকে কাটিং- ৩৫ সে.মি.।
সার প্রয়োগঃ- গোবর/জৈব সার ১৫-২০ টন/হেক্টর।
জমি তৈরির সময়ঃ-

  • ইউরিয়া ৫০ কেজি প্রতি হেক্টর।
  • টিএসপি ৭০ কেজি প্রতি হেক্টর।
  • এম পি সার ৩০ কেজি্র প্রতি হেক্টর।

ঘাস লাগানোর ১ মাস পরঃ- ইউরিয়া ৫০-৭৫ কেজি প্রতি হেক্টর।
প্রতি কাটিং কাটার পরপরঃ- ইউরিয়া ৫০-৭৫ কেজি প্রতি হেক্টর।
সেচঃ- খরা মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর পর।
ঘাস কাটার সময়

  • ৩০-৪৫ দিন পর পর গ্রীষ্মকাল।
  • ৪০-৫০ দিন পরপর শীতকালে। (সেচ সুবিধা সাপেক্ষে)

বছরে কতবার কাটা যায়ঃ-  প্রথম বছর ৫-৬ বার, দ্বিতীয় বছর ৭-৮ বার ।
বছরে কাঁচা ঘাসের উৎপাদনঃ- ১০০-১৫০ টন/হেক্টর।
সংরক্ষণঃ- সাইলেজ তৈরি।
জাম্বু ঘাসে অনেক পুষ্টিগুন বিদ্যমান। এই ঘাস সব থেকে ভালো কাজ করে দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে। হজমের সমস্যা হলে বা পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা জাম্বু ঘাস অনেক উপকারি।

খেসারীর সাথে জাম্বো ঘাস চাষ
বন্যার পানি যখন নেমে যায় তখন জমিতে পলিমাটি পড়ে। কৃষকরা সাধারণত সেখানে খেসারী ছিটিয়ে বপন করেন। সেই বিনা চাষে খেসারীর সাথে প্রতি বিঘা জমিতে দুই-আড়াই কেজি জাম্বো ঘাসের বীজ ছিটিয়ে বপন করলে খেসারী ও ঘাসের উৎপাদন ভাল হয়। পরীক্ষামূলকভাবে দেখা গেছে, এই ঘাসকে অবলম্বন করে লতিয়ে লতিয়ে খেসারী গাছ বড় হতে থাকে। খেসারী এবং জাম্বো ঘাস ৪৫/৫০ দিনে কাটা যায়। খেসারী লিগুউমিনাস জাতীয় হওয়ায় এদের শিকড়ে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে। ফলে, কম পরিমাণ ইউরিয়া সার ব্যবহার করে বেশি পরিমাণ জাম্বো ঘাস উৎপাদন করা সম্ভব। এজন্য কৃষকদের উচিত বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় সাথে সাথে খেসারী ও জাম্বো ঘাসের বীজ বপন করা। এতে গো-খাদ্যের অভাব দূর করা যায়। কারণ বন্যার সময় ঘাস নষ্ট হয়ে যায় এবং গবাদিপশু ঠিক মতো খাদ্য পায় না। এছাড়া পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন প্রতিকূলতার ফলে এদের স্বাস্থ্যও খারাপ হয়ে যায়। এ কারণে এদের দুধ উৎপাদনও হ্রাস পায়। তাই খেসারী ও জাম্বো ঘাস এক সাথে চাষ করলে কৃষকের গো-সম্পদ রক্ষা করা যাবে।

 

ভুট্টার সাথে চাষ
যে সমস্ত জমিতে আমন ধান কাটা হয় সে সমস্ত জমিতে কৃষকরা ভুট্টার সাথে এ ঘাসের চাষ করতে পারেন। জমি তৈরি করে ২-৩ চাষ দিয়ে প্রয়োজনীয় গোবর ও ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হবে। জাম্বো ঘাসের বীজ বিঘা প্রতি ৫/৬ কেজি ও ভুট্টার বীজ ৩/৪ কেজি ছিটিয়ে রোপণ করলে ৪৫/৫০ দিনের মধ্যে প্রথম কাটা যায়। ভুট্টা ও জাম্বো ঘাসের উৎপাদন বিঘা প্রতি ২০০ কেজি করা সম্ভব। যেহেতু এই ঘাসের প্রথমে বীজ থেকে একটি কুঁড়ি বের হয় সেজন্য প্রথম কাটায় উৎপাদন কম হয়। কিন্তু জাম্বো ও ভুট্টা ঘাসের মিশ্র চাষে প্রথম কাটায় উৎপাদন বেশি করা যায়। দ্বিতীয় কাটাতে ভুট্টা না থাকায় জাম্বো ঘাসে প্রচুর পরিমাণে কুঁড়ি গজায়। এর ফলে ঘাসের উৎপাদন বেশি হয়ে থাকে। সুতরাং এই মিশ্র পদ্ধতিতে ঘাস চাষ করা হলে ঘাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

About Editor

Check Also

ভূট্টার “মোচা ও দানা পচা” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশে ধান ও গমের পর ভূট্টা তৃতীয় ও উচ্চ ফলনশীল দানা জাতীয় ফসল। বিশ্বের বিভিন্ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *