Wednesday , April 25 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / পাটের “আগা শুকিয়ে যাওয়া” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পাটের “আগা শুকিয়ে যাওয়া” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। বানিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাটের প্রধানত দুটি প্রজাতি, সাদা পাট (Corchorus capsularis) ও তোষা পাট (Corchorus olitorius) যা আঁশ হিসেবে বাংলাদেশে চাষ হয়ে থাকে। মোট বৈদেশিক মুদ্রার শতকরা প্রায় ৬৭ ভাগ পাট ও পাট জাতীয় দ্রব্যাদি রপ্তানীর মাধ্যমে অর্জিত হয়। পাট গাছের দুটি প্রজাতিই বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। নিন্মে পাটের মারাত্মক একটি রোগের বিবরণ ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বর্ণনা করা হলো।

 

আগা শুকিয়ে যাওয়া (Die back) রোগ

 

রোগের কারণঃ গ্লোমেরেলা সিনগুলেটা (Glomerella cingulata) নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়।

রোগের বিস্তারঃ সাধারণত তোষা ও কেনাফে এ রোগ বেশী দেখা যায়। ঝড়ে বা অন্য কোন কারণে গাছে আঘাত লাগলে এ রোগ বেশী হতে পারে।

রোগের লক্ষণঃ

  • ফুল আসার পর সচরাচর এ রোগ দেখা দেয়।
  • রোগ জীবাণু ক্ষত স্থানের ভিতর দিয়ে গাছে ঢুকে যায়।
  • রোগে আক্রান্ত অংশ বাদামী রং ধারণ করে।
  • গাছের আগা থেকে শুকাতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে নীচের দিকেআসে।
  • আক্রান্ত গাছে ফুল-ফল ধরে না বললেই চলে।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • আক্রান্ত গাছ গুলোকে তুলে পুড়ে ফেলতে হবে।
  • সুস্থ্য বীজ বপন করতে হবে।
  • সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।
  • মেনকোজেব (ডাইথেন এম ৪৫) ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

পাহাড়ের কাজু বাদাম এখন জমিতে!

এগ্রিভিউ২৪ ডেস্কঃ বাংলাদেশে প্রথম কাজু বাদাম হত পাহাড়ী এলাকায়। অন্য কোথাও তেমন দেখা যেতনা। তাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *