Sunday , August 19 2018
Home / কৃষি বিভাগ / লবণাক্ততা এবং আমাদের কৃষি

লবণাক্ততা এবং আমাদের কৃষি

নূর-ই-কুতুবুল আলম, খুবি থেকে: কৃষি বিভাগে পড়ার সুবাদে কৃষিতে মাটির লবণাক্ততার প্রভাব সম্পর্কে জানার সুযোগ হয় আমার। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে শুধুমাত্র লবণাক্ততার জন্যই। স্বাদুপানির অভাবে বেশিরভাগ ফসলই সেভাবে টিকতে পারে না, এটা আমাদের সকলেরই জানা কথা। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের কৃষিবিদেরাও থেমে নেই, লবণ প্রতিরোধী বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেবার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

দেশে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে বিভিন্ন কারণে। তবে কারণগুলো তালিকাভূক্ত করতে গিয়ে দেখা যাবে, প্রথমেই আসছে বিভিন্ন নদীতে বাঁধ দেয়া! ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ফারাক্কা বাঁধ এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে দেশের নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে। যার ফলাফল, আজকের এই লবণাক্ততা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে আমি বিষয়টা আরো স্পষ্ট অনুধাবন করতে পারছি। বর্তমানে নদী প্রবাহ পূর্বের মতো না থাকাতে দেশে স্বাভাবিক কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নদী প্রবাহ না থাকাতে ভূগর্ভে সঞ্চিত পানির প্রতি আলাদা একটা চাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। ভূগর্ভে সঞ্চিত পানির স্তর দিনের পর দিন আরো (প্রায় ৩০-৪০ ফিট) নেমে গেছে। এখন ফসলে সেচ দিতেও কৃষকদের হতবুদ্ধি হয়ে যেতে হচ্ছে।

বিষয়টা কিছুটা ব্যাখ্যা দিলে সবাই বুঝবেন কেন নদী বাঁধগুলো মাটির লবণাক্ত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ থাকলে সমুদ্রের লবণ পানি সেভাবে অনুপ্রবেশের সুযোগ পায় না। বিপরীতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে সমুদ্রের লবণ পানির অনুপ্রবেশ বাড়বে, এতে ধীরে ধীরে লবণাক্ততা দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরের দিকে প্রতিনিয়ত ছড়াতে থাকবে।

 


ছবি: সংগৃহীত

উপরের ছবিতে আমরা মোটামুটি একটা ধারণা পেতে পারি। ছবিতে দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রাণ গড়াই নদীর প্রবাহ ২০৩০, ২০৫০ সালে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের সম্ভাব্য অবস্থা দেখানো হয়েছে। গড়াই নদীর প্রবাহ যদি শুণ্যের কোঠায় চলে যায়, তাহলে লবণাক্ততা আরো উত্তরের দিকে ধেয়ে আসবে। ব্যাহত হবে কৃষিকাজ, ক্ষতি হবে কয়েকশ কোটি টাকার। তখন আমাদের দেশের উন্নয়ন কতটুকু বৃদ্ধি পাবে সেটাই চিন্তার বিষয়। যদিও সরকার এখন এসকল ব্যাপারে অনেক আন্তরিক হয়েছে। তবে দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের আরো সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ দেশের নাগরিকরা সচেতন হলে সরকারও বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং নদী বাঁধে সৃষ্ট সমস্যার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহী হবে। শুধু দরকার একটু সচেতনতা, শুধু দরকার দেশের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা।

About Nur E Kutubul Alam

Project Developer | Reporter | Future Farmer | Businessman

Check Also

রোটার‍্যাক্ট ও রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

শেকৃবি প্রতিনিধিঃ রোটারি ক্লাব অফ ঢাকা মিড সিটি ও রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব ঢাকা মিড সিটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *