Thursday , November 15 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / ক্যামেরার পেছনের গল্প…

ক্যামেরার পেছনের গল্প…

১১০ টাকা দিয়ে ফুজি কিংবা কনিকার রিল কিনে ৩৭ টি ছবি তোলার দিন অনেক দিন আগেই শেষ হয়ে গেছে । ছবি তোলার জন্য মোবাইল ক্যামেরাই যথেষ্ট । কেউ কেউ তো এখন সেলফি এক্সপার্টও হয়ে গেছে । সেলফি তোলার জন্য বিভিন্ন মেগাপিক্সেলের মোবাইল যেমন বিক্রি হচ্ছে তেমনি পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে সেলফি স্টিক । ছবি তোলার জন্যও বের হচ্ছে নিত্য নতুন অ্যাপস । এত কিছুর পরেও একটি ক্যামেরা হাতে কাউকে দেখলে মনে হয় যে একটি ছবি হলে মন্দ হত না । নিত্য নতুন যতই মোবাইল ক্যামেরার আনাগোনা হউক না কেন ডিএসলার কিংবা ক্যামেরার আবেদন টাই অন্য রকম ।

আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি ক্যাম্পাসেই রয়েছে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি । এরা কেউই প্রফেশনাল না কিন্তু প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার দের চেয়ে কোন অংশেই খারাপ ছবি তোলেন না । শখের বশে ছবি তোলা, অন্যের ছবি তোলে আনন্দ পাওয়া, ছবি দেখে কেউ যদি বলে খুব সুন্দর হইছে সেটাই তাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া । এদের ল্যাপটপ ঘাটলে হাজার হাজার ছবি পাওয়া যাবে কিন্তু নিজের একটা ছবি পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ । নিঃস্বার্থে কাজ করে যাওয়া এই মানুষ গুলার পেছনের গল্প কি, ডিএসলার কেনার জন্য বাসার সবাই কে ম্যানেজের গল্প কি সেটা নিয়েই আজকের এই লেখা ।

আমাদের প্রিয়মুখ বিভাগে আজ উপস্থাপন করছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফটোগ্রাফার রাফসান জানি নয়ন কে যার পেছনের গল্প হয়ত দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের ফটোগ্রাফার দের পেছনের গল্পের প্রতিনিধিত্ব করবে ।

 

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ কাকে দেখে ফটোগ্রাফিতে আগ্রহী হন ? 
রাফসানঃ
আসলে সেভাবে কাউকে দেখে বা কোন ফটোগ্রাফারের ছবি দেখে ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহী হই নি। বিষয়টা পুরাই উল্টো ছিলো। নিজের মত ছবি তুলতাম। বিশেষ করে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়, বাকৃবির ছবি তুলতাম। আসলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সুন্দর, সবাই বলে। কিন্তু ছবিতে দেখেছে খুব কম। আমি সেই জায়গাটায় সবাইকে এক করতে পেরেছি। ছবি তুলতাম, ফেসবুকে দিতাম। আমার নিজের চেয়ে বাকিদের ই আমার ছবির প্রতি আগ্রহ বেশি ছিলো। আমি নিজেই বুঝতাম না, আমি কি তুলি। আমার ফেসবুকের বন্ধুগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের ভালোবাসাই আমাকে ছবি তুলতে, ফটোগ্রাফি করতে আগ্রহী করেছে।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে ভবিষ্যত ভাবনা কি ?
রাফসানঃ ছবি তুলতে ভালোবাসি, আর সবসময় চেষ্টা করি জীবনের গল্পগুলো ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে। এখন ছাত্র আছি, সঙ্গে বেকারও । বিভিন্ন সময় ছবি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা হয়, ছবি সিলেকশন হয়, অর্থাভাবে কিংবা সময়ের অভাবে অংশগ্রহণ হয় না। কোন একটা চাকুরিতে সেটেলড হয়ে ঐ দিকে মনোযোগ দিবো ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ ছবি তোলতে গিয়ে মজার কোন স্মৃতি ? 
রাফসানঃ ছবি তুলতে গিয়ে মজার স্মৃতি বলতে অনেক ঘটনাই তো আছে। তবে এই মুহর্তে মনে পড়ছে, চেন্নাই এ ইন্টার্নিতে গিয়ে সালেম নামক পাহাড়ের উপর শহরে ঘুরছিলাম। ওখানে বানরের অভয়ারণ্য ছিলো, ছবি তুলছিলাম বানরদের। হঠাৎ দেখি আমার মাথায় ক্যাপ নাই, বানর কখন যে ক্যাপ নিয়ে গেছে টেরই পাই নি ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ ক্যামেরা কেনার পেছনের গল্প টা কি ?
রাফসানঃ আগেই বলে নিচ্ছি আমার কোন ডিএসএলআর নাই। একটা ছোট্ট ডিজিটাল বা কমপ্যাক্ট এসএলআর আছে । ক্যামেরা কেনার পিছনের গল্পটা সত্যিই অদ্ভুত। জামালপুর গিয়েছিলাম হলের বড় ভাইয়ের বিয়ে খেতে। তখন পর্যন্ত ক্যামেরা কখনো হাতে নেয়া হয় নি। তো কি মনে করে, বন্ধু সজীবের একটা ডিজিটাল ক্যামেরা ছিলো, বললাম দোস্ত ক্যামেরাটা দে, বিয়ে খাইতে যাবো। তখনও জানি নি কিভাবে ছবি তুলতে হয়, শিখে নিলাম কিভাবে কোথায় ক্লিক করলে ছবি উঠে। তো বিয়েতে গিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আশেক মাহমুদ কলেজের কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম। সেই ছবির ২ টা ছবি ফেসবুকে আপলোড করলাম। কয়েকজন কমেন্ট করেছিলেন, বাহ ছবি তো সুন্দর।একটু ভালো লাগলো বিষয়টা।তারপরও ওভাবে ছবি তোলার আগ্রহ হয় নি ।
হঠাত একদিন মাথায় ঢুকলো সামনে বিভিন্ন ট্যুর আছে, মাঝে মাঝে এর ওর বিয়েতে যেতে হয়, ছোট্ট একটা ক্যামেরা কিনলে মন্দ হয় না। তারপরও হাতে ওভাবে টাকা নাই। কখনো মাথা চাড়া দেয় নি বিষয়টা। টিউশনির কিছু টাকা জমা ছিলো। কি মনে করে ক্যামেরা সম্পর্কে শূন্যতম নলেজ নিয়ে বন্ধু তৌকির সহ গেলাম ক্যামেরা কিনতে গেলাম। । সাত/আট হাজারে ক্যামেরা কিনবো একটা, এই প্লান । কি ক্যামেরা কিনবো কিছুই ঠিক নাই। শেষ পর্যন্ত দোকানদার মোত্তালিব ভাই একটা ক্যামেরা ধরিয়ে দিয়ে বললো, এটা নেন ভালো হবে। হাতে টাকা ১০০০০ এর মতন, ক্যামেরা কিনলাম ১৪,৫০০ দিয়ে। বাকি রেখে ক্যামেরা কিনলাম। কি থেকে কি হলো। সেদিনো জানতাম না, এই ক্যামেরা ছবির প্রতি এত ভালোবাসার কারিগর হবে। পুরো বিষযয়টা ভাবলে এখনো  নিজেই অবাক হই ।
এগ্রিভিউ২৪.কমঃ জীবনটা কে যদি ছবির মত সাজাতে বলা হয় তাহলে কিভাবে সাজাবেন ?
রাফসানঃ জীবন টা অনেক সুন্দর। আমার ছবিগুলো এক একটা মুহূর্তের বহিঃপ্রকাশ মাত্র । ছবি তুলতে গিয়ে সব ধরণের মানুষের কাছে যেতে পেরেছি । তাদের জীবনের গল্প শুনেছি, তাদের জীবন থেকে ছোট ছোট ভালোবাসার গল্প নিয়ে নিজের জীবনকে সাজাতে চাই ।
এগ্রিভিউ২৪.কমঃ ছবি তোলা হয় কার অনুপ্রেরনায় ? 
রাফসানঃ আপনারা যারা আমার তোলা ছবি দেখেন, আপনারাই বড় অনুপ্রেরনা । একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে একটা ছবি দিয়েছিলাম, সেই ছবিতে কমেন্ট করেছিলেন সিভাসুর তখনকার ভিসি বারী স্যার। তারপর যখন বাকৃবিতে আসলেন, আমাকে খুজে বের করেছেন। এরকম ভালোবাসার অনেক গল্প আছে যেটা প্রতি মুহূর্তে ছবি তুলতে আমাকর অনুপ্রেরণা যোগায় । একবার কলকাতার একটা এক্সিবিশনে ছবি সিলেক্ট হয়েছিলো, হাতে টাকা ছিলো না এটা সত্য । তারপরও মজা করে পোস্ট দিয়েছিলাম, হাতে টাকা নাই তাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারছি না। তারপর ইনবক্সে ৩ জন বড় ভাই, ২জন বড় আপু, একজন বন্ধু এবং কমেন্টে কয়েকজন শুভাকাঙ্খী পুরো প্রতিযোগিতার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন, এত এত ভালোবাসাই আমার অনুপ্রেরণা ।
এগ্রিভিউ২৪.কমঃ আপনার তোলা সেরা ছবি কোনটি ?
রাফসানঃ অনেক ছবিই আছে সেরা ছবির তালিকায়। তার মধ্যে agriview24.com এর একটা ফটো কম্পিটিশন এ দেয়া ছবিটি অন্যতম। তবে আমি মনে করি, যে ছবিটি  আমার তোলা সেরা, সেটা এখনো কেউ দেখেনি। সামনে হয়ত কোন প্রতিযোগিতায় দিবো ।
এগ্রিভিউ২৪.কমঃ আগামী দিনে আপনার উত্তরোত্তর সাফল্য প্রত্যাশা করছি, ভালো থাকবেন । 
রাফসানঃ ধন্যবাদ এগ্রিভিউ কে । 

About Editor

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *