Sunday , August 19 2018
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / সিকৃবির ইমরানের পরেই শাবির মাহিদঃ কিভাবে দায় এড়াবে প্রশাসন?
পাঁচ দিন আগে ছুরিকাহত ইমরান (বামে) ও পরে নিহত মাহিদ

সিকৃবির ইমরানের পরেই শাবির মাহিদঃ কিভাবে দায় এড়াবে প্রশাসন?

এক বুক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আঙিনা থেকে ডিগ্রি নিয়ে বের হন একেকজন স্বপ্নবাজ তরুন-তরুনি। সেই স্বপ্নেই তো বিভোর ছিলেন মাহিদ ভাই। স্বপ্নবাজ হওয়ারই কথা।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  বার্তা সাস্টনিউজ২৪.কম, আবৃত্তি সংসদ, সাস্টিয়ান সাইক্লিস্টসহ অনেক সৃজনশীল সংগঠনের সাথে যুক্ত। আমি দেখেছি, এ সকল সংগঠনে উদারমনা, স্বপ্নবাজ ছেলে-মেয়েগুলোই আসে। এগুলো থেকে আর্থিক লাভবান হওয়ার কিছু নেই কেবলই আছে মানসিক শান্তি! এরা রাজনীতির ধার ধারে না, নিতান্ত বাধ্য হয়ে কেউ কেউ এক আধটু যুক্ত থাকে। এদের আলাদা একটি আদর্শ থাকে… সেখানে কেবলই দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা। সাথে থাকে এক বুক স্বপ্ন। মাহিদ ভাইয়ের কথাই ধরেন না… উনার ফেইসবুক ইন্ট্রো তে দেওয়া “I am very simple. I want to see a big dream. I make my dream real.”

কতো বড় স্বপ্নবাজ ছিলেন??? রোববার রাতে তিনি গেলেন। তিনি আমার পরিচিত নন কিন্তু কতো সহজে ভাই বলতে পারছি। সংগঠন প্রিয় সিনিয়রদের এতো সহজে ভাই বলা যায়।

ফেইসবুক ওয়ালে ২৩ শে মার্চে অনেক জন্মদিনের শুভেচ্ছা। কিন্তু উনার স্ট্যাটাস “আজকে কারো ও+ রক্ত লাগলে আওয়াজ দিবেন, প্লিজ। বান্দা হাজির হয়ে যাবো।” অথচ মানুষটির নাকি মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে।

ঠিক কিভাবে মারা গেলেন জানার জন্য অনেকগুলো পত্রিকার অনলাইন পাতা ঘুরলাম। প্রথম আলোতে লিখেছে, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি বেসরকারি মুঠোফোন কোম্পানিতে চাকরি করতেন মাহিদ। আরও ভালো চাকরির সন্ধানে ছিলেন তিনি। একটি চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে ঢাকা যাচ্ছিলেন রোববার রাতে। রাত ১২টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে রিকশা নেন। দেড়টায় বাসে ওঠার কথা ছিল কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে। কিন্তু রাত একটার দিকে দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন এক রিকশাচালক। তাঁকে রিকশায় তুলে কিনব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের টহল দলের সামনে পড়েন ওই চালক। এরপর পুলিশ মাহিদকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা ধারণা করছেন, ছিনতাইকারীরা মাহিদকে ছুরিকাঘাত করেছে। তাঁর মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও ল্যাপটপ খোয়া গেছে।

ইসস! এই মৃত্যুটা হতো না, যদি প্রশাসন পাঁচ দিন আগের ঘটনাটা গভীরভাবে নিত। গত মঙ্গলবার রাতে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) চার ছোট ভাই-বোন ছিনতাইয়ের শিকার হয় এই এলাকায়। একটুর জন্য প্রাণ বেঁচেছে ইমরানের। ছিনতাইকারি তাঁর বুকে ছুরি চালিয়েছিল। ফুসফুস পর্যন্ত ছোয়েছে। ভাগ্য প্রসন্ন। একটুর জন্য প্রাণে বেঁচেছে প্রিয় ছোট ভাইটি। আজকে হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছে। ইশতিয়াকও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। তাঁরা চারজনই সিকৃবির জেনেটিক্স এন্ড বায়োটেকনোলজি অনুষদের স্নাতক ফাইনাল রেজাল্টের অপেক্ষায় থাকা স্বপ্নবাজ তরুন-তরুনি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের একটি কম্পিটিশনে তাঁদের প্রজেক্ট গৃহিত হয়েছিল। প্রজেক্ট উপস্থাপনার জন্য তাঁরা ঢাকা যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল। তাঁদের আর যাওয়া হয়নি। কোন রকমে প্রাণ বেঁচেছে ছিনতাইকারির হাত থেকে।

রাত সাড়ে এগারটার দিকে তাঁরা শাহজালাল সেতু (নয়া পুল) পাস করার পরই ছিনতাইকারির কবলে পড়েন। ইমরানের পিঠে ল্যাপটপ ব্যাগে কাপড় ছিল। তাঁরা ল্যাপটপ ভেবেই অন্ধকার থেকে বের হয়ে আক্রমন চালিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে ইমরানের। ছিনতাইকারির চালানো ছুরিতে বুকে বিদ্ধ হয় ইমরান। আহত হওয়ায় ইশতিয়াক।

যাই হোক, তাঁরা চারজন হওয়ায় ছিনতাইকারিরা পালিয়ে যায়। তাড়াতাড়ি ওসমানি হাসপাতালে নেয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা হয় ইমরানের। যে রক্ষাটা হয়নি মাহিদ ভাইয়ের।

ইমরানদের কাছ থেকে পুলিশ হাসপাতালে এসে স্টেইটমেন্ট নিয়েছিল। সকল আইনি সংস্থাকে জানানো হয়েছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিও জেনেছে। তবুও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি কিংবা সিটি কর্পোরেশন কেন ব্যবস্থা নেয়নি??

রাস্তার পাশের বাতিগুলো লাগানো হয়নি কেন??

আমরা যারা প্রায়ই ঢাকা যাই, তাঁরা জানি গভীর রাতে এই জায়গাটা কেমন ভয়ংকর লাগে। ল্যাম্পপোস্ট নেই।

ইমরানদের পাঁচ দিন পর প্রাণ দিতে হল মাহিদ ভাইয়ের……

এ দোষ কি কেবলই ছিনতাইকারির?? নাকি যে প্রশাসন ছিনতাই করার পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে, তাদের??

মাদকের ছোবলে নিত্য নতুন ছিনতাইকারি সৃষ্ঠি হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ তো বটে, ব্যবসায় জড়িত বলেও বিভিন্ন সময় পত্রিকার পাতায় আসে। কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর তল্লাসিতে ইয়াবা নিয়ে পুরো ইউনিটইতো ধরা পড়ে গিয়েছিল। সমাজের অপরাধগুলো ডালপালা মেলে। একটি ছাড় দিলে অন্যগুলোও বাড়বে।

মাহিদ ভাইয়ের মতো এমন মৃত্যু কাম্য নয়। নিরাপদ হোক আমাদের দেশ।

About Publisher

Check Also

রোটার‍্যাক্ট ও রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

শেকৃবি প্রতিনিধিঃ রোটারি ক্লাব অফ ঢাকা মিড সিটি ও রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব ঢাকা মিড সিটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *