Friday , October 19 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / নিজ ক্যাম্পাসেই বঞ্চিত বশেমুরকৃবির শিক্ষার্থীরা

নিজ ক্যাম্পাসেই বঞ্চিত বশেমুরকৃবির শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ কারা? এমন প্রশ্নের কী উত্তর হতে পারে? উত্তর অবশ্যই হওয়া উচিত শিক্ষার্থীরা! বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেটিই চলে অর্থাৎ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো শিক্ষার্থীরা। তবে বশেমুরকৃবির চিত্র একটু আলাদা। সেখানে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ!

বাংলাদেশের ১৩তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন যেমন আলাদা তেমনি তার চরিত্রটাও আলাদা।

ভাবছেন উল্টা-পাল্টা বলছি। মোটেও না! আসুন কিছু প্রমাণ দেই!

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে ছাত্রদের অধিকার থাকবে সবচেয়ে বেশি। একটিবার ভাবুন তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের কথা। যেখানে প্রতিদিন বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক, বর্তমান ও নবাগত শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত থাকে ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আশেপাশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ প্রতিদিন বিকালে ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে আসেন আড্ডা দিতে, বিকালটা উপভোগ করতে। এখানকার প্রতিটা বিকালই যেন এক একটা ঈদের দিন। ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র তো হওয়া উচিত এমনই।
দেরিতে হলেও বশেমুরকৃবিতে নির্মিত হয়েছে একটি ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র। ভবনটি দৃষ্টিনন্দন হলেও এটিতে ছাত্ররা যে কতটুকু অধিকার পাবে তা সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘটনার কারনে ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, সব হল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বের করে দিয়ে হলের প্রতিটা রুম সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে! আর এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছাড়াই শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ভিসি স্যার উদ্বোধন করে ফেললেন ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র! ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র ছাত্রদের ছাড়াই উদ্বোধন, তাহলে বুঝুন পরবর্তীতে ছাত্ররা এখানে কতটুকু অধিকার পাবে!!

আরেকটু পিছনে যাই। ৭ই মার্চ, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিবসটি উদযাপন করলো বশেমুরকৃবি প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের ছাড়াই দিবসটি উদযাপন করলো বশেমুরকৃবির শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ! যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, হলগুলো সিলগালা সেহেতু শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ দিবসটি উদযাপন করতেই পারেন। কিন্তু সমস্যা হলো তখন যখন একটি জাতীয় দৈনিক ইংরেজী পত্রিকার খবরে ছাপানো হয় যে দিবসটিতে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলো!

১৩ দফা দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৩ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে মানব বন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই দাবিগুলোকে অযৌক্তিক বলে ঘোষণা দেন।

১৩ দফা দাবির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দাবি হলো, বি. এস. কোর্স এবং এম. এস. কোর্সে ভর্তি ফী এবং এনরোলমেন্ট ফী কমানো; বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. এস. ডিগ্রী প্রাপ্ত (সি. জি.পি.এ. ২.৫০-৪.০০) সকল শিক্ষার্থীকে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়া; বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট ও যানবাহন সংকটের দ্রুত সমাধান করা; কালচারাল ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব, ইংলিশ ক্লাব এগুলোর মধ্যে যেগুলো প্রতিষ্ঠিত হয় নি সেগুলো প্রতিষ্ঠা করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে সবগুলো সংগঠনের কার্যক্রম অনতিবিলম্বে চালু করা এবং মানব সেবামূলক কার্যক্রম করার সুযোগ দেয়া। কোন বিবেকবান মানুষের পক্ষে উপরের একটি দাবিকেও অযৌক্তিক বলা সম্ভব নয়। এই শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক দাবির কারনে ক্যাম্পাসে দাঙ্গা পুলিশ আসলো, সকল শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে প্রায় ১ মাসের জন্য সিলগালা করে দেওয়া হলো প্রতিটা হলের কক্ষ!

প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করেন তাদের র‍্যাগ ডে। বশেমুরকৃবি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সেখানে র‍্যাগ ডে পালন করা এক ধরনের অপরাধের শামিল! সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ম ব্যাচের র‍্যাগ ডে পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা র‍্যাগ ডে পালনের আয়োজন করলে তাতে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসে দাঙ্গা পুলিশ এনে র‍্যাগ ডে পালনে বাধা দেওয়া হয়!

১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস। দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ মর্যাদায় পালন করলো দিবসটি। বশেমুরকৃবিতেও দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। তবে এখানেও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা! ছবিতে ভালো করে লক্ষ্য করুন, কোন শিক্ষার্থী নেই! শুধু শিক্ষক!

তারাই তো দেশের একমাত্র কৃষিবিদ! শুধু এটি নয়, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বা পরীক্ষার হলে বসিয়ে রেখে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিবস পালন করে থাকেন শিক্ষকরা।

সর্বশেষ শিক্ষকদের রোষানলের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএস শেষ করা প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী। বশেমুরকৃবি হতে চার বছরের বিএস ডিগ্রী নিলেও এমএস ভর্তির সুযোগ মেলেনি তাদের। কারণ তাদের সিজিপিএ ৩ এর নিচে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থীর বিএস এর সিজিপিএ ৩ এর নিচে থাকলে সে বশেমুরকৃবিতে এমএস ভর্তি হতে পারবে না। এবার অবশ্য সিজিপিএ ৩ এর উপরে থাকলেও ভর্তি হতে পারছে না অনেক শিক্ষার্থী! প্রতি টার্মে এমএস এ ২৫০-৩০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও এবার সামার ২০১৮ টার্মে এমএস এ ভর্তি করা হবে মাত্র ১৪০ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে ২৪ জনই বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের। আর নিজ ক্যাম্পাসের ৩০০ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমএস এ ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে মাত্র ১২৬ জন!

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এরকম আরো অনেক বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তারা। একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমদের কথার কোন মূল্যায়ন নেই। নেই মেধা বিকাশের কোন সুযোগ। কালচারাল ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব, ইংলিশ ক্লাবে আমদের অংশগ্রহণের কোন সুযোগ নেই। একাডেমিক পড়াশোনা ছাড়া আমাদের আর কোন সামজিক কাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হয় না। চার বছর একাডেমিক পড়াশোনা করার ফল হিসাবে আমরা নিজ ক্যাম্পাসে এমএস করার সুযোগটুকুও পাই না। ইন্সটিটিউট থেকে হয়েছে বশেমুরকৃবি, কিন্তু এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণ পায় নি বশেমুরকৃবি। বশেমুরকৃবি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক!!!

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফেসবুক ও সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত।

About Abu Naser

Check Also

ওজন কমায় ধনে পাতার রস

এগ্রিভিউ হেলথ ডেস্ক: খাবারের স্বাদ বাড়ানোর অনেক নামের একটি ধনে পাতা। রান্নার স্বাদ বাড়াতে ধনে পাতার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *