Wednesday , October 17 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / মরিচের পোকা দমন ব্যবস্থাপনা

মরিচের পোকা দমন ব্যবস্থাপনা

মরিচ বাংলাদেশের একটি নিত্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ মসলা জাতীয় ফসল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং ফসফরাস রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ১.৫০ লাখ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয় এবং মরিচের গড় উৎপাদন প্রায় ১.৩৮ টন/হেক্টর। মরিচ গাছ বিভিন্ন প্রকার পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মাইট একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর পেস্ট। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে মাইটের আক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পোকা গাছ থেকে রস শোষণ করে মরিচের মোট উৎপাদন এবং গুণগত মান কমিয়ে দেয়।

মাইটের বৈশিষ্ট্যঃ মাইট অত্যন্ত ছোট, সাধারণত হাত লেন্সের সাহায্য ব্যতীত দেখা যায় না। এ পোকা উপবৃত্তাকার, উজ্জ্বল, হলদে সবুজ বর্ণের। তবে মৃত মাইটগুলো হলদে বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে। স্ত্রী মাইটের পেছনের অংশে লম্বালম্বি হালকা সাদা দাগ দেখা যায়। পূর্ণ বয়স্ক স্ত্রী মাইট লম্বয় প্রায় ০.২ মি.মি. এবং পুরুষ প্রায় ০.১১ মি.মি.। এর চার জোড়া সাদাটে পা আছে। পুরুষ মাইটের চতুর্থ জোড়া পা বর্ধিত এবং স্ত্রীর ক্ষেত্রে এটি খুবই ছোট আকৃতির। লার্ভা তিন জোড়া পা-বিশিষ্ট, প্রায় ০.১ মি.মি. থেকে ০.২ মি.মি. লম্বা ডিম থেকে বের হওয়ার পর লার্ভাগুলো বেশ লম্বা দেখায়, পরে স্ত্রী লার্ভা হলদে সবুজ বা ঘন সবুজ বর্ণের এবং পুরুষ লার্ভাগুলো হলদে বাদামি বর্ণ ধারণ করে। লার্ভাগুলো খুব আস্তে আস্তে চলাচল করে, খুব একটা দূরে যায় না।

ক্ষতির প্রকৃতিঃ লার্ভা এবং পূর্ণ বয়স্ক মাইট গাছের কোষ ছিদ্র করে রস শোষণ করে এবং বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত করে। গাছে খাদ্য তৈরি এবং পানি স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘি্নত হয়। পাতা সরু, ফ্যাকাশে, মোচড়ানো এবং নিচের দিকে বাঁকানো হয়। পাতা চামড়ার মতো হয়ে যায় এবং শিরাগুলো মোটা হয়। পাতা এবং কচি কাণ্ড লালচে বর্ণের হয়। ফুলের কুঁড়ি বাঁকানো এবং মোচড়ানো হয়। গাছের বৃদ্ধি বিঘি্নত হয়, কচি গাছের আকার ছোট হয় এবং বয়স্ক গাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে ফুল ঝরে পড়ে। ফল বিকৃত, ক্ষতবিশিষ্ট, অপরিপক্ব এবং অসম আকৃতির হয়। ফলের উৎপাদন এবং বাজার মূল্য কমে যায়। সাধারণত নতুন পাতা এবং ছোট ফলে মাইট বেশি দেখা যায় কারণ এ পোকা শক্ত টিস্যু খেতে পারে না। লার্ভা এবং পূর্ণ বয়স্ক মাইটগুলো পাতার নিচের দিক খেতে বেশি পছন্দ করে। এ পোকা মরিচ ছাড়াও তুলা, বেগুন, পেয়ারা, লেবু জাতীয় ফসল, পাট, পেঁপে, আলু, টমেটো, আম, বরবটি, তিল, আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফসল এবং বিভিন্ন শোভা বর্ধনকারী গাছেও আক্রমণ করে থাকে।

দমন ব্যবস্থাপনাঃ মরিচ উৎপাদনের জন্য ছায়ামুক্ত স্থান নির্বাচন করতে হবে। ফল সংগ্রহের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে সংগ্রহকারীর কাপড় এবং শরীর দ্বারা মাইটগুলো আক্রান্ত গাছ থেকে অনাক্রান্ত গাছ বা ক্ষেতের মধ্যে ছড়াতে না পারে। বিভিন্ন অপোষক ফসলের সঙ্গে আন্তঃফসল করতে হবে এবং এর শস্য পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেচ প্রয়োগের মাধ্যমে এর আক্রমণ কমানো সম্ভব।

 

লেখকঃ
মোঃ এসএ সোহাগ
সাব-এসিস্টেন্ট এগ্রিকালচার অফিসার

About Editor

Check Also

ক্ষুধামুক্ত সমাজ গঠনে চাই কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ ও খাদ্য অধিকার আইন চাই

বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অর্জিত হচ্ছে ৭% এর উপরে। বিগত মার্চ মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *