Monday , July 23 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / উদ্দেশ্য যখন Aquaponics Training : পর্ব-১

উদ্দেশ্য যখন Aquaponics Training : পর্ব-১

নূর-ই-কুতুবুল আলম, খুবি থেকে : Bangladesh Fisheries Community নামের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার সুবাদে গত ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের দিকে জানতে পারি প্রফেসর ডঃ এম এ সালাম স্যার (Aquaculture Department, BAU) এর তত্ত্বাবধানে Aquaponics নিয়ে দুইদিনব্যাপী ট্রেনিং এর আয়োজন করা হবে, আগ্রহীদেরকে যোগাযোগের জন্য আহ্বান জানানো হয়। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, তাদের পরিচয়ের প্রমাণপূর্বক ক্যাম্পাস আইডি কার্ড সহ প্রমাণপত্র ইত্যাদি লাগবে। আমি ট্রেনিংটা নিয়ে বেশ এক্সাইটেড ছিলাম, কেননা সেই বছরের শুরুতে BADC কর্তৃক আয়োজিত Hydroponics এর ট্রেনিং-এ আমার যাবার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ভাবলাম, এবার সুযোগ যখন পেয়েছি তাহলে Aquaponics-এই যাওয়া যাক!

 

২০১৭  সালে ঈদুল আযহার ছুটির আগেই Aquaponics এর ওপর ট্রেনিং হবার কথা ছিলো। কিন্তু বন্যাদুর্গতদের কারণে ট্রেইনিরা অনেকেই আপত্তি জানান যেন ট্রেনিংটা যেন পিছিয়ে দেয়া হয়। তখন ট্রেইনার সালাম স্যার জানালেন, ঈদের পরেই তারিখ ঠিক করে জানিয়ে দেয়া হবে। তখনও সবেমাত্র ঈদের ছুটি পড়বে পড়বে ভাব। তার আগেই আমি আমার ডিসিপ্লিন কোর্স কো-অর্ডিনেটর এবং সহকারী অধ্যাপক মোঃ মোস্তফা কামাল স্যারকে ট্রেনিং এর ব্যাপারে জানাই, এবং প্রত্যয়নপত্রের জন্য আবেদন করি। স্যার আগ্রহভরে আমার কথা শুনলেন এবং বললেন সরাসরি অফিসে গিয়ে প্রত্যায়নপত্র নিয়ে নিতে। অফিসের ইবরাহীম ভাইয়ের সহযোগিতায় প্রত্যায়নপত্র বের করে ফাইল কেসে যত্ন করে রেখে দিই। সত্যিকার অর্থে, আমার মাঝে তখনো রোমাঞ্চকর অনুভূতি বিরাজ করছিলো।

 

ঈদের ছুটির পর ট্রেইনার সালাম স্যার তার ফেসবুক ওয়ালে জানিয়ে দিলেন কবে নাগাদ ট্রেনিং শুরু হবে। আমি দেরি না করে মেইল পাঠিয়ে দিলাম। স্যার মেইল পড়ে জানালেন যেন আইডি কার্ড আর প্রত্যায়নপত্র দুটোই সাথে করে নিয়ে যাই। এরই মাঝে আমার ক্যাম্পাসে (খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়) র‍্যাগ ডের প্রোগ্রাম সেট করে দেয়া হয়। তারিখটা দেখে একটু হতাশই হলাম। থাকা হচ্ছে না এবারের র‍্যাগ ডেতে।

বাকৃবির বন্ধু ইমরানকে আগেই সব জানিয়েছিলাম। তাই ওর হলেই সরাসরি উঠে পড়ি। সেদিন ছিলো ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৭, শুক্রবার। ট্রেনিং শুরু হবে সকাল ৯:৩০টায়। দুই বন্ধু নাস্তা সেরে ফিশারিজ ফ্যাকাল্টির দিকে এগোতে থাকি। এনিম্যাল হাসবেন্ড্রি ফ্যাকাল্টি দিয়ে চলে গিয়েছে একটা করিডোর, সেটা ধরে ধরে ফিশারিজ ফ্যাকাল্টিতে ঢুকে পড়ি। সামনে এক প্রহরীকে পাই, ইমরান জানতে চাইলো, “এখানে কোনো সেমিনার হচ্ছে কি?” প্রহরী জানালেন তিনি তেমন কিছু জানেন না। আমরা তবুও সামনে আগাতে থাকি। কিছুদূর যাবার পর ডিন অফিস (আমিনুল হক ভবন) ভবনের সামনে কিছু ছেলেমেয়েকে দেখা যায়। ভলান্টিয়ারদের পিছুপিছু আমরা দুজনে উপরে কনফারেন্স রুমে ঢুকলাম। ইমরান প্রোগ্রাম শুরু করার আগ পর্যন্ত ছিলো, প্রোগ্রাম শুরু করা মাত্রই ওকে রুম থেকে চলে আসতে হয়। ভলান্টিয়াররা সবকিছু ম্যানেজ করা নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলেন, সবাই ফিশারিজ অনুষদের শিক্ষার্থী। জীবন  ভাই বেশ ব্যস্ত ভঙ্গিতে সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন, নাদিয়া আপুও বেশ ব্যস্ত ট্রেইনিদেরকে রিসিভ করা নিয়ে। এনিম্যাল হাসবেন্ড্রির প্রিয় ভাইয়ের সৌজন্যেই জীবন ভাই আর নাদিয়া আপুর সাথে পরিচয়ের সুযোগ পাই।

এদিকে ফুরফুরা মনে আমি অপেক্ষা করছি কখন প্রোগ্রাম শুরু হবে! প্রোগ্রাম শুরু হবার খানিক আগে শেকৃবির ফিশারিজ অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী  অনিক এর সাথে পরিচয় হয়। বশেমুকৃবির ফিশারিজ এমএস এর শিক্ষার্থী নাহিদ ভাই ছিলেন আমার পাশে। আরো অংশ নেন বিভিন্ন পেশার মানুষ, কেউ ব্যাংকার, কেউ কর্পোরেটে কর্মরত, কেউ ব্যবসায়ী।  প্রফেসর ডঃ মোঃ আব্দুস সালাম স্যার চলে আসলেন। অতঃপর ট্রেনিং শুরু! দুপুরে লাঞ্চ টাইমে আমরা জুম্মার নামাজ আদায় করে লাঞ্চ করলাম কনফারেন্স রুমেই। এরপর সময়ের মধ্যেই আমাদের প্রোগ্রামটা মোটামুটি শেষ করে দেয়া হয়, তবে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ ছিলো তার পরদিন! প্রোগ্রাম শেষ করেই আমরা সকলে মিলে চলে যাই সালাম স্যারের বাসার ছাদে। একুয়াপনিক্স কিভাবে কাজ করে সেটা স্বচক্ষে দেখার পর আমাদের সকলের হৃদয় শীতল হয়। এরপর স্যার আমাদের সকলকে নিয়ে গেলেন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে, পাঠক বুঝে গেছেন নিশ্চয়ই যে আমরা নৌকা ভ্রমণে বের হয়েছিলাম! নদে ঘন্টাখানেক ঘুরে আমরা অপরপাড়ে চা খেতে নামি। চা খাওয়া শেষে বাকৃবি ক্যাম্পাসে পুনরায় নৌকাযোগে ফিরে আসি সবাই। রাতে সবাই একসাথে ডিনারও করি আমরা। সত্যিকার অর্থে, আমরা সবাই সেদিন ছিলাম একটা পরিবারের মতো।  বাকৃবির টিএসসিতে সেই রাতটা আমার কাছে স্পেশাল একটা রাত হয়েই থাকবে।

 

(ট্রেনিং এর শেষদিনের কথা পরের পর্বে প্রকাশিত হবে)

About Nur E Kutubul Alam

Project Developer | Reporter | Future Farmer | Businessman

Check Also

এ্যারোমেটিক জুঁই,আসলেই কি কোন ফুলের নাম?

মোঃ আল আমীন (আকাশ),সিনিয়র রিপোর্টার ইচ্ছাকৃতভাবে হোক কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে,এতদিন ধরে ফুলটাকে আমরা ভুল করে এ্যারোমেটিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *