Monday , June 25 2018
Home / কৃষি বিভাগ / কৃষিতে বায়োচার

কৃষিতে বায়োচার

নূর-ই-কুতুবুল আলম, খুবি প্রতিনিধি :  সময়ের সাথে সাথে কৃষিবিজ্ঞানেরও ক্রমাগত ব্যাপক উন্নতি দেখা যাচ্ছে। বায়োচার তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ক্ষুদ্র অংশ হওয়া সত্ত্বেও বায়োচার কৃষিজ পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবেশের ভারসাম্যতে সমান ভূমিকা পালন করছে। এটি মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে, রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বাড়ায়. মাটিতে গাছের খাদ্য উপাদানগুলোকে ধরে রাখে, মাটিতে লবণাক্ততা ও খরার প্রভাব এবং মাটির অম্লত্ব দূর করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য মাটিতে বায়োচার প্রয়োগ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আবাদি জমিতে পরিবেশবান্ধব বায়োচার পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে। বায়োচার আলু, সবজি চাষেও ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষকেরা অধিক লাভবান এবং মাটির গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখতে বায়োচার পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন। ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের আবর্জনা ব্যবহার করে যদি বায়োচার উৎপন্ন করা যায় তবে একদিকে যেমন আবর্জনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, অন্যদিকে এটি সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যাবে।

বায়োচার এক ধরনের চারকোল বা কয়লা যা পাইরোলাইসিস (সীমিত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বা অক্সিজেনবিহীন তাপের) পদ্ধতির সাহায্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থ যেমন: ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া, কাঠ, মুরগির বিষ্ঠা এমনকি নালা-নর্দমার বর্জ্য পদার্থ, আবর্জনা থেকে তৈরি করা হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে বায়োচার জমিতে একবার ব্যবহার করলেই দীর্ঘসময় আর ব্যবহার করতে হয় না। বায়োচার মাটিতে প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

কৃষিতে বায়োচারের ভূমিকা
বায়োচার ব্যবহারে সার ও পানি সেচ কম দিতে হয়; ফলে কৃষকের খরচ কমে যায়। পরিবেশবান্ধব এ বায়োচার পদ্ধতি ব্যবহারে জমির ফলনও বৃদ্ধি পায়। বায়োচার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি, পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, মাটির পুষ্টি উপাদান ধরে রাখা, মাটিকে সংশোধন করে মাটিতে অবস্থানকারী ছোট ছোট অণুজীবকে সক্রিয় করে তোলে। এছাড়া রাসায়নিক সার কম লাগে। তাই খরচ কমে যায়। এতে ফলনও দিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোথায় পাওয়া যাবে এই বায়োচার?
বায়োচার নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা CCDB (Christian Commission for Development in Bangladesh)। ‘আখা’ বা বিশেষ ধরনের এক চুলায় পোড়ানো কাঠ-কয়লা নিয়ে গুঁড়া করে খেতে ছিটিয়ে দিতে হয়। বিশেষ ধরনের কাঠ-কয়লা পোড়ানো চুলা এখন CCDB বিক্রি করে স্বল্প দামে। এ চুলা কিনে রান্নার কাজ করা যাবে এবং প্রাপ্ত পোড়ানো কয়লা দিয়ে বায়োচার কাজে লাগাতে পারবে। ১ কেজি কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ৮০০ গ্রাম কয়লা পাওয়া যায়। আখা বা বিশেষ ধরনের চুলায় পোড়ানো কাঠ-কয়লাই বায়োচার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে বায়োচার প্রযুক্তিটি দেশের কৃষিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করবে।

About Nur E Kutubul Alam

Project Developer | Reporter | Future Farmer | Businessman

Check Also

আদার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগুণ এবং ব্যবহারের সতর্কতা

এগ্রিভিউ২৪ এক্সক্লুসিভ ডেস্ক:আদা একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় । মশলা জাতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *