Sunday , April 22 2018
Home / কৃষি গবেষনা / সবজি উৎপাদনে প্লাস্টিক মালচিং প্রযুক্তিঃ কৃষকের লাভ দ্বিগুন

সবজি উৎপাদনে প্লাস্টিক মালচিং প্রযুক্তিঃ কৃষকের লাভ দ্বিগুন

সিলেট শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বে খাদিমনগর ইউনিয়নের ধনকান্দি গ্রামের মোখলেসুর রহমান ১০ শতক জমিতে টমেটো চাষ করে দ্বিগুন লাভ করেছেন। তিনি টমেটো চাষে আধুনিক প্লাস্টিক মালচিং ব্যবহার করেছিলেন। ১০ শতক জায়গা চাষে তাঁর খরচ হয়েছিল ১৯৪০০ টাকা যার মধ্যে প্লাস্টিক মালচিং কিনতে সাড়ে সাত হাজার টাকা খরচের অর্ধেক ধরে ব্যয় নির্ধারন করেছেন। যদিও সঠিক পরিচর্যায় তিনি এ মালচিং ব্যবহার করতে পারবেন ৬-৭ বার। উৎপাদিত টমেটো বিক্রি করে তাঁর আয় হবে ৪১০০০ টাকার মতো। প্লাস্টিক মালচিং ব্যবহার করে তিনি বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছেন – তাকে বারবার সেচ দিতে হয়নি, পোকার আক্রমন হয়েছে কম। ফলে ফলন হয়েছে দ্বিগুন। লাভও দ্বিগুন।   আমাদের দেশে মালচিং পদ্ধতিটি খুবই নতুন প্রযুক্তি। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষে কৃষকের ব্যয় সংকোচন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্রাক ও শেভরনের যৌথ উদ্যোগে সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি-জীবিকা প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠের কৃষকদের মাঝে প্লাস্টিক মালচিং প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে মোখলেসুর রহমানকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে খাদিমের ধনকান্দি গ্রামে এ বছর টমেটোর চাষ করানো হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের এ যুগে কৃষক-কৃষাণিদেরও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহন করে যুদ্ধ করতে হবে।

সাধারিণ মালচিং এর চেয়ে প্লাস্টিক মালচিং একটু ভিন্ন। পলিথিন জাতীয় এ সীটের উপরের রঙ সিলভার এবং নিচের রঙ কালো। সিলভার রঙ হওয়ায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয় ফলে পোকা বসতে পারে না। গাছে পোকা ধরে কম। ভিতরের রঙ কালো হওয়ায় পানি ধরে রাখার পাশাপাশি এই রঙের কারনে গাছের শিকড় বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদন হয় বেশি।

ফসলের ক্ষেতে আর্দ্রতা সংরক্ষণে মালচিং বিশেষভাবে উপকারী, কারণ এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ফসল ক্ষেতের পানি সূর্যের তাপ ও বাতাসে দ্রুত উড়ে যায় না। ফলে জমিতে রসের ঘাটতি হয় না এবং সেচ লাগে কম।৭০% পর্যন্ত পানির অপচয় বাঁচানো যায়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিশাল ক্ষেত চাষাবাদকালে অনেক খরচ কমানো যায়।অত্যধিক শেলো মিশিন ব্যবহারের কারনে বর্তমান সময়ের জন্য পানির স্তর নিচে চলে যাওয়াও এক চিন্তার বিষয়। মালচিং করে বাঁচানো যায় পানির অপচয়।

শীতকালে মালচ ব্যবহার করলে মাটিতে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ধরে রাখা সম্ভব হয় এবং গরমকালে মাটি ঠান্ডা থাকে, এমনকি বেশ কিছু পোকামাকড়ের আক্রমণও রোধ করা যায়।

প্লাস্টিক মালচিং এর প্রতিফলিত আলো ফলের রঙ ধারনে সহায়তা করে।

পাহাড়ি এলাকা এমনকি টিলা, পাহাড়ের ঢালে বিশেষ করে লালমাটি এলাকায় স্বল্প খরচে মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

শুধু কি টমেটো? এ রকম একটি প্রশ্নের উত্তরে বিশেজ্ঞরা বলেন- হবিগঞ্জে এবং মৌলভীবাজারে ফুলকপি, পাতাকপি চাষে প্লাস্টিক মালচিং ব্যবহারে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুন।স্থানীয় শতাধিক কৃষক ও কৃষাণি নিয়ে আজ সকালে খাদিমপাড়ার ধনকান্দি গ্রামে প্লাস্টিক মালচিং বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।প্রথমেই কৃষক মোখলেসুর রহমানের প্রদর্শনী প্লট সকল কৃষক-কৃষাণিদের নিয়ে পরিদর্শন করানো হয়। উন্নয়ন কর্মসূচি-জীবিকা প্রকল্প, সিলেটের উপজেলা ব্যবস্থাপক ডাঃ মসউদ আহমদ এর সঞ্চালনায় গ্রামের মুরব্বি আঃ নুর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষক-কৃষাণিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ব্রাকের সেক্টর স্পেশিয়ালিস্ট (কৃষি) তারেক নাসির উল্লা, সিলেট সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ কোহিনুর বেগম, ব্রাকের সেক্টর স্পেশিয়ালিস্ট (মার্কেট ডেভলাপমেন্ট) মাহমুদ কবির ও সেক্টর স্পেশিয়ালিস্ট (লাইভস্টোক) ডাঃ আরিফুল ইসলাম।

তবে এতে প্লাস্টিক ব্যবহার বাড়ছেই কিনা সেটা চিন্তার বিষয় থেকেই যায়, যদিও তাঁদের মতে একবার প্লাস্টিক মালচিং কিনলে ৭-৮ বার ব্যবহার করা যায় এবং কৃষি জমিতেই তা ফেলে রাখা হচ্ছে না, তাই কোন ক্ষতি হবে না ।

About Editor

Check Also

শেকৃবি এলামনাই এসোসিয়েশন এর অভিষেক ও পুনর্মিলনী ২০১৮ অনুষ্ঠিত

নাজমুস সাকিব, শেকৃবি প্রতিনিধিঃ জাঁকজমক পূর্ণভাবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এলামনাই এসোসিয়েশন’র অভিষেক ও পুনর্মিলনী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *