Saturday , December 15 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / গবাদি পশুর ইউরোলিথিয়াসিস রোগের চিকিৎসায় শতভাগ সফলতায় প্রফেসর ডা. বিবেকচন্দ্র সূত্রধর

গবাদি পশুর ইউরোলিথিয়াসিস রোগের চিকিৎসায় শতভাগ সফলতায় প্রফেসর ডা. বিবেকচন্দ্র সূত্রধর

সিভাসু প্রতিনিধিঃ

ইউরোলিথিয়াসিস এই ইংরেজী রোগটির বাংলা অর্থ মূত্রনালিতে পাথর জমা। মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রজাতিতে, বিশেষ করে গরু ও ছাগলের মতো গবাদি পশুতে এই রোগটি অধিক পরিমাণে হয়। এসব গবাদি পশুদের মূত্রনালির ভিন্নধর্মী গঠনের জন্যই মূলত তারা এই রোগটিতে বেশি আক্রান্ত হয়। এই রোগে আক্রান্ত প্রাণী তিন থেকে পাঁচ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে প্রস্রাব করতে পারেনা। প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করে। প্রস্রাব জমে থাকায় পেট ফুলে যায়। এক পর্যায়ে মূত্রথলি ফেটে প্রাণীটির মৃত্যু হয়।

প্রাণঘাতী এই রোগের নিরাময়ে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশেরই এক উদ্ভাবক। তিনি হচ্ছেন, চট্টগ্রামের “Chittagong Veterinary And Animal Sciences University” এর মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বিবেকচন্দ্র সূত্রধর। ইউরোলিথিয়াসিস রোগে আক্রান্ত প্রাণীদের বাঁচাতে তিনি এমন এক শল্যচিকিত্সার উদ্ভাবন করেছেন যাতে সফলতা শতভাগ।

অধ্যাপক ডা. বিবেকচন্দ্র সূত্রধর স্যারের সাথে উক্ত বিষয়ে তার মুখ থেকেই জানার সুযোগ পাই। সেই আলোকে-

স্যার, গবাদি পশুতে ইউরোলিথিয়াসিস রোগের প্রবণতা এতো বেশি কেনো?

স্যার জানান, মানুষের মতো পশুদেরও এই রোগটি হয়। বিশেষ করে গবাদি পশুরা, গরু ছাগলে এই রোগটি অনেক বেশি হয়। কারণ গরু ছাগলে সিগময়েড প্লেক্সাসের মতো জটিল গঠন আছে। এছাড়াও মূত্রনালি অনেক আঁকাবাঁকা হয়। তাই তাদের মূত্রনালিতে অধিক পরিমাণে পাথর জমার সুযোগ থাকে।

এই পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করার দরকার কেনো মনে হয়?

স্যার জানান, বাংলাদেশের ভেটেরিনারি পেশায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় গবাদিপশু চিকিৎসা। এদেশের অনেক অসহায় মানুষ আছে, যাদের একমাত্র সহায় থাকে তার লালিত ৫মাস বয়সী ছাগলের বাচ্চাটি কিংবা কয়েকমাস বয়সী বাছুর। সেই প্রাণীটিকে বাঁচিয়ে কিভাবে একটি খামারি পরিবারে হাসি ফোটানো যায়, সেই চেষ্টা থেকে এই পন্থার উপায় বের করেন।

নতুন পদ্ধতিটি উদ্ভাবন কিভাবে করেন?

স্যার জানান, আমি দেখি ফলিক্যাথেটার ব্যবহার করে মানুষে এই রোগটি ভালো করা হয়। সেখান থেকেই মনে হলো, পদ্ধতিটি প্রাণীতে ব্যবহার করা সম্ভব নয় কেনো? তখন মানুষে ব্যবহৃত ফলিক্যাথেটার সংগ্রহ করি, এবং ছাগলের মূত্রথলিতে এই টিউবটি লাগিয়ে প্রস্রাবের বিকল্পপথ তৈরি করেন। ২০১৪ সালের শেষের দিকে এই অস্ত্রোপচারে সফলতা পাই।

বাংলাদেশে এই চিকিৎসাটুকু কতোটুকু ব্যয়বহুল হবে?

বাংলাদেশের এই চিকিৎসাটুকু খুবই সাশ্রয়ী। ১হাজার ৫০০টাকা থেকে ২০০০টাকার মধ্যে এই চিকিৎসাটি করা সম্ভব। চিকিৎসাটি করতে তেমন কিছু যন্ত্রপাতির দরকার হয় না। লোকাল অ্যানেস্থেশিয়া, ফলিক্যাথেটার, জেনারেল সার্জারি প্যাক, কিছু সুচার জিনিষপত্র এবং সার্জারি পরবর্তীতে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেইনকিলার দিয়ে এই রোগটি থেকে প্রাণীকে বাঁচানো যায়।

বাংলাদেশে আমাদের হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও কি এই চিকিৎসা ব্যবস্থাটি প্রচলিত আছে?

স্যার জানান, সিভাসু’র এস এ কাদেরী ভেটেরিনারি হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও এই চিকিৎসাব্যবস্থাটি চালু হয় নি। তার কারণ হিসেবে বলেন, সিভাসু’র এস এ কাদেরী ভেটেরিনারি হাসপাতালটিতে রয়েছে সম্পূর্ণ এসেপ্টিক পরিবেশে একটা প্রাণীকে চিকিৎসা দেয়ার সুবিধা। তাই খুব দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থাটিতে সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

বাইরের দেশে এই চিকিৎসা ব্যবস্থাটি এতো প্রচলিত নয় কেনো?

প্রশ্নের উত্তরে স্যার বলেন, বাইরের দেশে প্রাণীর এধরনের একটা সার্জারী অনেক ব্যয়বহুল। সেখানে চিকিৎসা খরচ এসব প্রাণীর লালন পালনের খরচ থেকেও অনেক কম। তাই বাইরের দেশে ফুড অ্যানিমেল কিংবা গবাদি পশুর এধরনের প্রাণঘাতী চিকিৎসাগুলো এতো করা হয় না। ছোটখাট সমস্যা দেখা গেলেই তারা আর অপেক্ষা করে না, তারা এগুলা স্লটারিং করে ফেলে। সেদিক দিয়ে আমাদের দেশে গবাদি পশু লালন পালন খরচ কম তাই এটা সাশ্রয়ী।

এই চিকিৎসা ব্যবস্থাটি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত আশা এবং পরিকল্পনা কি?

স্যার জানান যে, তিনি চান এই চিকিৎসা ব্যবস্থাটি সব জায়গায় প্রচলিত হোক। এই রোগে গবাদি পশুর মৃত্যুর হার একদম কমে আসুক। স্যার আরো জানান, তিনি এই রোগটি নিয়ে আরো কাজ করছেন এবং কিভাবে এই রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব তা উদ্ভাবনের জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

উল্লেখ্য, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫লাখের মতো প্রাণী ইউরোলিথিয়াসিসে আক্রান্ত হয়।

About Meherjan Islam

Check Also

টেরিটরি নির্বাহী পদে নিয়োগ দিচ্ছে ACI Godrej Agrovet Private Ltd.

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :   ACI Godrej Agrovet Private লিমিটেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *