Thursday , March 21 2019
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / ডালিয়া ফুলের প্রধান প্রধান রোগের লক্ষণ এবং এদের প্রতিকার ব্যবস্থা

ডালিয়া ফুলের প্রধান প্রধান রোগের লক্ষণ এবং এদের প্রতিকার ব্যবস্থা

ফুল সৌন্দর্য্যের প্রতীক। পৃথিবীর সব দেশেই বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন রংয়ের ফুলের চাষ হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও তেমনি প্রায় সব ঋতুতেই ফুল পাওয়া যায়, তবে শীত মৌসুমেই সব চেয়ে বেশী ফুল পাওয়া যায়। অন্য ফসলের মত ফুলও যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। এদেশের মানুষ আজকাল ফুলের নানাবিধ ব্যবহার শিখেছে, তাই ফুল এদেশের বিভিন্ন জেলায় চাষ শুরু হয়েছে এবং এরই সাথে ফুলের বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা গুলোর মধ্যে ফুলের রোগ বালাই একটি অন্যতম। নিন্মে ডালিয়া ফুলের প্রধান প্রধান রোগ এবং এদের প্রতিকারের ব্যবস্থা বর্ননা করা হলো।

ঢলে/নেতিয়ে পড়া (Damping off) রোগ

 

রোগের কারনঃ পিথিয়াম এ্যাফানিডারমেটাম (Pythium aphanidermatum) নামক ছত্রাক দ্বারা এরোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ কন্দ ও মাটিতে অংশে জীবানু বেঁচে থাকে। পানি ও ব্যবহৃত কৃষি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগের বিস্তার ঘটে।

রোগের লক্ষণঃ

  • এ রোগ যে কোন বয়সের গাছে হতে পারে।
  • আক্রান্ত গাছের পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
  • রোগাক্রান্ত গাছের গোড়া পঁচে গাছ মাটিতে শুয়ে পরে।

রোগের প্রতিকারঃ

  • রোগাক্রান্ত চারা/গাছ তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
  • অর্ধকাঁচা মুরগীর বিষ্ঠা (৪-৫ টন/হেঃ) আদা রোপনের ২১ দিন পূর্বে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।
  • মেটালেক্সিল + মেনকোজেব (যেমন-রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে কন্দ আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে জমিতে বপন করতে হবে।
  • মেটালেক্সিল + মেনকোজেব (যেমন-রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় মাটিতে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

পাতার দাগ/ পাতা ঝলসানো (Alternaria leaf spot) রোগ

 

রোগের কারনঃ অলটারনারিয়া হেলিয়েনথি (Alternaria halienthi) নামক ছত্রাক দ্বারা এরোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ গাছের পরিত্যক্ত অংশে জীবাণু বেঁচে থাকে।

রোগের লক্ষণঃ

  • প্রাথমিক অবস্থায় পাতায় ছোট ছোট বাদামী রংয়ের গোলাকার দাগ হয়।
  • এ দাগ বলয়াকারে ক্রমান্বয়ে বড় হতে থাকে।
  • একাধিক বড় দাগ মিলে গিয়ে গোটা পাতা ঝলসিয়ে যায়।
  • কখনো কখনো ফুলের বোটায় এ দাগ হতে পারে।

রোগের প্রতিকারঃ

  • সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।
  • নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • জমিতে রোগ দেখা দিলে ইপ্রিডিয়ন (যেমন- রোভরাল ৫০ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ও মেটালেক্সিল + মেনকোজেব (যেমন-রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর পর্যায়ক্রমে ৩-৪ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।

 সাদা গুড়া (Powdery mildew) রোগ

 

রোগের কারনঃ এরিসাইফি পলিগনি (Eryshphe polygoni) নামক ছত্রাক দ্বারা এরোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

আর্দ্র ও ছায়াচ্ছন্ন স্থানে রোগটি বেশী হয়। অল্প জায়গাতে বেশী গাছ থাকলেও রোগ বাড়ে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও রাতে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করলে এ রোগের প্রকোপ বেশী হয়।

রোগের লক্ষণঃ

  • প্রথমে নীচের পাতাগুলোর উপর পিঠে সাদা পাউডারের মত অসংখ্য গুড়া দেখা যায় যা ছত্রাক স্পোর।
  • পরে সমস্ত পাতায় এই সাদা আস্তরণ ছড়িয়ে পড়ে।
  • আক্রান্ত পাতা ফ্যাকাশে হয়ে শুকাতে থাকে।
  • নীচের পাতা থেকে রোগ উপরের পাতাতে ছড়ায়।
  • ডাঁটা ও বোটাতেও আক্রমন দেখা যায়।
  • আক্রান্ত পাতার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।
  • ফলে ফুলের ফলন অত্যধিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
রোগের প্রতিকারঃ
  • গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে।
  • রোগের প্রকোপ কম হলে দ্রুত বেগে পানি স্প্রে করেও দমন করা যায়।
  • সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (যেমন-বেকিং সোডা) ১ লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে  মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৫ বার স্প্রে করতে হবে।
  • রোগ দেখা মাত্রই সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন-থিয়োভিট ৮০ ডব্লিউজি বা কুমুলাস ডিএফ) ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে অথবা প্রোপিকোনাজোল (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে  মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

বাকৃবিতে ‘অপুষ্টি দূরীকরণে খাদ্য প্রকৌশলীর ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ‘অপুষ্টি দূরীকরণে খাদ্য প্রকৌশলীর ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *