Sunday , December 16 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / খুবিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

খুবিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নূর-ই-কুতুবুল আলম রেজা, খুবি প্রতিনিধিঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের Skill Development Klub – KU আয়োজিত এবং সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের সহায়তায় আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘Road to Dev Org: Prospects and Possibilities in UN & INGOs’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার। শনিবার বিকালে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ মেজবানুর রহমান লিমন। মোঃ মেজবানুর রহমান লিমন বর্তমানে জাতিসংঘের FAO তে দক্ষিণ সুদানে Head of Sub Office হিসেবে কর্মরত আছেন।

মোঃ মেজবানুর রহমান লিমন তার বক্তব্য শুরু করেন মানুষের ছোটবেলা থেকে একটি উদাহরণের মাধ্যমে। তার বক্তব্যে উঠে আসে জীবন-সংগ্রামের নানান দিক। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা ছোটবেলায় অনেক ভাব সম্প্রসারণ পড়েছি। যেমন- পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। আমরা তখন শুধু ১০ মার্কসের জন্যই ভাব সম্প্রসারণ পড়েছি, কিন্তু বিষয়টা আত্মস্থ করিনি। স্কুলে বৃত্তি পাবার জন্য আমরা শুধু পড়েছি। এসএসসি, এইচএসসিতে ভালো করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছি। এই ভার্সিটি লাইফে কে কেমন শিখছে সেটাই বড় বিষয়। ” দেশের সামাজিক সমস্যাগুলোকে তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে পরিবারে ভালো জিনিসকে উৎসাহ দেবার প্রবণতা কম। যার প্রেক্ষিতে দেশ এখনো পিছিয়ে আছে। বাইরের দেশে সব কাজে ধন্যবাদ দেয়া হয়। ওরা ভদ্রতা বিষয়গুলো অনেক মেইনটেইন করে। আমাদের দেশে এরকম সিস্টেম তেমন একটা নেই। উদাহরণ দিই, পাশের বাসায় কি হলো না হলো তাতে আমরা খুব একটা মাথা ঘামাই না। পাশের ফ্ল্যাটে কিছু হয়ে গেলেও আমাদের চিন্তার কোনো ভাবান্তর হয় না। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন এক জায়গা যেখানে হলের রুমের পাশে কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়েই বাকিরা হাসপাতালে ছুটে যায়। ইউনিভার্সিটি হলো এরকমই জায়গা যেখানে সিম্প্যাথি সহ অনেক কিছুই শেখা যায়। নিজের মাঝে ১০টা খারাপ কাজ চিহ্নিত করো, সেগুলো থেকে যথাসম্ভব এড়িয়ে যেতে পারলে ভালো থাকা সম্ভব। কথাগুলো প্র্যাকটিক্যালি এপ্লাই করে দেখো, ভালো থাকবে।” উপস্থিতিদের মাঝে প্রশ্ন ছুড়ে তিনি জিজ্ঞেসা করেন, “লাইফে তোমার এক্সপেকটেশন কি? অনার্স শেষে মাস্টার্স করে জবে ঢোকা? আচ্ছা। এভাবে পরিবারের তোমার প্রতি এক্সপেকটেশন আছে, সমাজের এক্সপেকটেশন আছে আর দেশেরও তোমার প্রতি এক্সপেকটেশন আছে।”

ক্যারিয়ার বিষয়ক বক্তব্য তিনি শুরু করেন এভাবে, “কেউ আছে বিসিএস দিয়ে চাকরি খুঁজে, কেউ টিচার হতে চায়, কেউ ব্যাংকার হতে চায় অথবা কেউ ব্যবসা করতে চায়।” সরকারি চাকুরীর ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সরকারি চাকুরী তুলনামূলক নিরাপদ। কারণ, সামান্য ভুলত্রুটির কারণে চাকুরী থেকে বের হয়ে দেয়া হয় না। এছাড়া সারাজীবন অনার্সে আমরা যা পড়ে এসেছি তার বিপরীত ফিল্ডের ডেস্কে গিয়ে আমাদেরকে বসতে হয়, ফলে দেখা দেয় হতাশা। কারণ আমরা যা পড়ে এসেছি তার যথার্থতা কাজে লাগাতে পারছি না। তাই সরকারি চাকুরীর পাশাপাশি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে ফ্লেক্সিবল থাকা যাতে সরকারি চাকুরী না পেলে হতাশা গ্রাস না করে।” ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই ফিল্ডে কাজের এফিশিয়েন্সি যত, প্রোমোশন হবার সম্ভাবনা ততই বেশি। কাজে ইনএফিশিয়েন্ট হলে সমস্যা আছে, এখানে দেখা দেয় চাকরির অনিশ্চয়তা। প্রতিনিয়ত কাজের ওপর থাকলে এরকম রিস্ক থাকবে না।” চাকুরীতে ঢোকা থেকে শুরু করে চাকুরীতে থাকারত অবস্থায় কি কি করা উচিত সে ব্যাপারে তিনি ব্যাখ্যা দেন।

আলোচনায় ফুটে আসে চাকুরীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার কথা। প্রথমেই তিনি তুলে ধরেন কমিউনিকেশন স্কিলের প্রয়োজনীয়তা। ভূগোল এবং ইতিহাস বিষয়ে দক্ষ হবার ব্যাপারে তিনি একটি চমকপ্রদ উদাহরণ দেন, “ভেনেজুয়েলার একজনের সাথে আলাপের সময় সেখানকার প্রেসিডেন্ট, রাজনীতি, সমাজ ইত্যাদি বিষয়ে কথা বললে তার সাথে সহজেই ইন্টারেকশন করা যায়।” ইভেন্ট আয়োজন নিয়ে ব্যক্ত করেন একটু হতাশা, “ইভেন্ট এর সকল আয়োজন সামলাতে আমরা দুর্বল।। ইভেন্টের সকল বিষয়ে ভালো ধারণা থাকলে এগুলো সহজেই সামলানো সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ইভেন্ট আয়োজন খুব সহজেই শেখা যায়।” কম্পিউটার স্কিলের বিষয়ে তিনি বেসিক কিছু অফিসিয়াল কাজে ব্যবহৃত সফটওয়্যার শেখার পাশাপাশি টাইপিং স্পিড এর ব্যাপারে জোর দেন। ট্রেনিং স্কিল এর ব্যাপারে আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বলেন, “জ্ঞান না থাকলে কাউকে ট্রেনিং দেয়া যায় না, কনটেন্ট ডেভেলপ করে প্রোপার এক্সাম্পল দিয়ে অডিয়েন্সদের মাঝে পৌঁছে দিতে পারাই ট্রেনিং স্কিল। ট্রেনিং যে যত ভালো দিতে পারবে, সে জব সেক্টরে তত ভালো করবে।” সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারেও হতে হবে বিচক্ষণ। তার বক্তব্যে ফুটে ওঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার উপযোগিতা। তিনি সবাইকে উৎসাহ দেন “নিজেকে এমনভাবে তৈরি করবে যাতে ডেভেলপমেন্ট সেক্টর থেকে তারা নিজেরাই তোমাকে চাকুরী দেবার জন্য খুঁজবে।”

 

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি উপস্থিতিদের সাথে চলে কিছু প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

About Editor

Check Also

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা প্রদান

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা দিয়েছে শেরপুর জেলা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *