Sunday , December 16 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে অ্যাকুয়াপনিক্স

দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে অ্যাকুয়াপনিক্স

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ অ্যাকুয়াপনিক্স হলো সার ও কীটনাশক না দিয়ে মাটিবিহীন মাছের পানি দিয়ে সবজি চাষ। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং এই ক্রমাগত বর্ধিত জনসংখ্যা ও অপরিকল্পিত নগরায়নে স্বল্প জমিতে অধিক ফলনের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশক সার ব্যবহার হচ্ছে, প্রাকৃতিক পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারনে পরিবেশের বিপর্য়য় ঘটছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ীর ছাদ ও আঙ্গিনায় অ্যাকুয়াপনিক্স পদ্ধতির মাধ্যমে অর্গানিক খাদ্য উৎপাদন করে নিজের পরিবার ও সমগ্র জাতিকে নিরাপদ খাদ্য উপহার দেওয়া সম্ভব। এটি একটি জলবায়ু সহিঞ্চু প্রযুক্তি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অ্যাকুয়াপনিক্সের উপর দুইদিনব্যাপী ট্রেনিং ও আর্ন্তজাতিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে দুই দিন ব্যাপি (২২-২৩ ফেব্রুয়ারি) ট্রেনিং এবং কর্মশালার উদ্বোধন করেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ। পরে অনুষদীয় অ্যাকুয়াপনিক্স ল্যাবের উদ্বোধন করা হয়।

অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মাহ্ফুজুল হক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ । কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. জি. ভারনন বায়ার্ড।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দেশের এবং বিদেশের প্রায় ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহন করবেন। প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন অ্যাকুয়াপনিক্সের উদ্বাবক বাকৃবি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ সালাম ও আমেরিকার লিডিং সাইন্স ইউনিভার্সিটি ও ন্যাশনাল হাওয়াইয়ের অধ্যাপক ড. জি. ভারনন বায়ার্ড।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. সালাম ২০১১ সাল থেকে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর অধীনে একজন বিদেশীসহ চার জন পিএইচডি ও দশজন মাষ্টার্সের শিক্ষার্থী গবেষণারত।

তিনি পুষ্টি প্রবাহ পদ্ধতি, মিডিয়া বেস পদ্ধতি, উলম্ব পদ্ধতি, এরোপনিক্স বা ঝর্ণা পদ্ধতি ব্যবহার করে একই সঙ্গে তেলাপিয়া, কমন কার্প, মাগুর, শিং ও পাঙ্গাস মাছ চাষের সাথে প্রচুর শাকসবজি টমেটো, কলমি, কচু, ঢেঁড়স, পুদিনা, লালশাক, পুইশাক, বরবটি, ধুন্দল, চিচিঞ্চা, স্টবেরী, পেপে, করলা, ভুট্ট্রা, চালকুমড়া, লেটুস, কাকড়োল, ওলকফি ও বেগুন উৎপাদন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় অনবদ্য (অ্যাকুয়াপনিক্স) অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গত ১৬ জুলাই রোববার অর্জন করেন “বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি” ।

 

মো. শাহীন সরদার
বাকৃবি প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ।
০১৭৩ ৭৭২১৬০৩।

About Editor

Check Also

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা প্রদান

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা দিয়েছে শেরপুর জেলা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *