Saturday , December 15 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রথম দিন – কিছু স্মৃতি আর কিছু ভাবনা…
Lake in front of Academic Building

পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রথম দিন – কিছু স্মৃতি আর কিছু ভাবনা…

সেই কুয়াশার চাদরে ঘেরা কনকনে ঠান্ডার মধ্যে ভোর রাতের দিকে একটা বস্তার মত ব্যাগ কাঁধে, ট্রাংক, আরো অনেক জিনিসপত্র নিয়ে ক্যাম্পাসের গন্ডির মধ্যে প্রবেশ করার দিনটাই ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন। দিনটি একদিকে যেমন আনন্দের, কৌতুহলের তেমনি বেদনাদায়ক (বাসার সব কিছু ছেড়ে ৪ বছরের জন্য চলে আসা তাই)। একটি টমটমে একঝাঁক মানুষের মাঝে বসে পথ চলতে থাকা, প্রকৃতির আবেশ টাও ছিলো বেশ।

টমটম চলতে থাকলো সেই সাথে মনের অনুভূতি টুকু ও বাড়তে থাকলো। কেমন হবে ক্যাম্পাস, কেমন হবে বন্ধু মহল, কিভাবে কাটবে দিন গুলো, হল টা কেমন হবে। এত দিন শুনে এসেছি হলের লাইফ  নাকি অনেক কষ্টের হয়, তাহলে ভালো হবে তো? নানান কথা শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে টমটমটি চলতে থাকে।

টমটমটি  যখন ক্যাম্পাসের ১ম গেটের কাছে নামিয়ে দিয়ে গেলো টেনশন মনে হয় আরও বেড়ে গেলো। একটু ভয় ভয় ও লাগতেছিলো এই কিনা কেউ ডাক দিয়ে বলবে এই তুমি কে – এখানে কি আজব সব ভাবনা। সকল ভাবনা বাদ দিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে এক পা – দু পা করে এগুতে থাকি। সে এক অন্য রকম পরিবেশ। ক্যাম্পাসটি এক অপরুপ রুপে সজ্জিত ছিলো। ভোর রাতের সেই শান্ত হিমেল পরিবেশের সাথে ক্যাম্পাসটি মনে হচ্ছে এক অনন্য রূপবতি রুপে সেজে আছে। এক ঝলকানো ভোর রাতের আবেশে ক্যাম্পাসটি ফুটে উঠেছে। চারিদিকে আমার মত অনেকেই আসছিলো তাতে আরো মানুষের গম গম আওয়াজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় বড় বিল্ডিং দেখে মেয়েদের হল ভেবে ধোকা খেয়েছি। অবশেষে মেয়েদের হল পেলাম আর এক আপুর রুমে উঠলাম। ততক্ষনে পাখির কিচির মিচির শুরু হয়ে গেছে। প্রকৃতি তার আলো ছড়াতে শুরু করলো। হলটা আরো জমজমাট হয়ে উঠেছে খালাদের নাস্তা বিক্রির চিল্লাচিল্লিত, সে এক অন্য রকম পরিবেশ। নতুন হিসেবে সব কিছুই আনন্দদায়ক মনে হচ্ছে। হলের সামনের জায়গা টুকুতে সবার মালামালে একদম ভরে গেছে কেননা তখনও আমাদের সিট দেওয়া হয়নি। সবাই পরিচিত বড় আপুদের রুমে আছে যার যার।।

ফ্রেশ হয়ে ওরিয়েন্টশন ক্লাসে যোগ দিলাম। সেই ক্লাশ শেষে স্যাররা যার যার ফ্যাকল্টির সবাই কে সব কিছু দেখাতে নিয়ে গেলো। মজার বিষয় হচ্ছে আমি প্রথমে চান্স পেয়েছিলাম ফিশারিজ ফ্যাকাল্টিতে কিন্তু আমি যে অটো মাইগ্রেশন হয়ে কৃষিতে চলে আসছি তা জানতাম ই না। সারা সময় ধরে ফিশারিজ ফ্যাকাল্টির স্যারদের সাথে ঘুরে যখন একটা ক্লাশ রুমে গিয়ে সবার নাম ডাকতে শুরু করলো আমি আমার নাম খুজে পাচ্ছিলাম না। সেকি কান্নাকাটি । পরে এক স্যার বললেন একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে একটা মাইগ্রেশন লিষ্ট আছে তা দেখতে। তার কথা মতো সেটাই করলাম । নাম ও খুঁজে পেলাম কৃষি ফ্যাকাল্টিতে ৪ নাম্বারেই কিন্তু কান্না তো থামে না কারন আমার কথা ছিলো আমি চান্স পেয়েছি ফিশারিজে তাহলে কৃষি  কেনো আমাকে দিবে, আমি তো কৃষি পড়বো না। পরে সবাই বুঝিয়ে শুনিয়ে মন ঠিক করলো।

ক্যাম্পাসে সাথে করে নিয়ে আসেছিলো বাবা। বাবার ও আমাকে ক্যাম্পাসে রেখে চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। বাবা মেয়ের চোখ দুটো যেনো ছলছল করতেছে। বাবা তার কান্না চেপে রাখলেও আমি আর পারলাম না। মনে হচ্ছে বাবা যদি এখানে থেকে যেতো আমার সাথে !!! সে এক কঠিন নতুন পরিবেশে একা রেখে বাবা বাসায় চলে গেলেন। এই শুরু দিয়েই চলতে থাকে ৪টি বছরের গল্প। এভাবেই সুখ দুঃখ, হাসি কান্না মজামাস্তি নিয়ে জমে উঠতে থাকে সেই মনের কোনে জমে থাকা নানান রহস্যের ক্যাম্পাস লাইফ।

২০ বছর পর আমি……

নিজেকে আমার সেই রঙিন চাদরে ঘেরা সবুজ এ সমারোহ শান্তির সময় টুকু পার করা ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড ঘিড়ে গড়ে ওঠা লাল কমলের পাড়ে বেঞ্চটিতে বসে আছি সেভাবে দেখতে চাই। চারিদিকে হৈচৈ, শেরে বাংলা মাঠের সেই বিকেল বেলা সবার বসে আড্ডা, কিছু মানুষের খেলাধুলা সব কিছু  উপভোগ করবো শুধু তফাৎ ২০বছর আগে ছিলো সবাই পরিচিত মুখ গুলো আর ২০বছর পর হবে সব অপরিচিত মুখ গুলো; আমাকে চেনার সময় ওদের থাকবে না।

এভাবে কিছু সময় ধরে ২০বছর আগের জিনিস গুলো স্মৃতি চারন করতে চাই একাকি বসে বসে; প্রিয় পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে…

 

 

সানিয়া মরিয়াম
১৪ তম ব্যাচ, কৃষি অনুষদ 
পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

About Editor

Check Also

টেরিটরি নির্বাহী পদে নিয়োগ দিচ্ছে ACI Godrej Agrovet Private Ltd.

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :   ACI Godrej Agrovet Private লিমিটেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *