Saturday , December 15 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / স্মৃতিতে প্রিয় সিভাসু…

স্মৃতিতে প্রিয় সিভাসু…

দিন যায় দিন আসে, গত হওয়া দিনগুলোই হয়ে ওঠে স্মৃতিকথা। কালের আবর্তনে স্মৃতির পাতায় ধূলিকণা জমতে শুরু করেছে, তবে স্মৃতিকথা গুলো আজও চকচক করে স্মৃতির মনিকোঠায়।

ওয়েটিং লিস্ট থেকে ভর্তি হয়েছিলাম, তাই ক্লাস শুরু করতে মোটামুটি একমাস দেরি হয়েছিল বন্ধুদের চেয়ে। ততদিনে ক্লাসমেটরা ফিশারিজ রিলেটেড টার্মিনেলোজি, প্রেজেন্টেশন, এসাইনমেন্ট, প্রাক্টিক্যাল ক্লাস, আড্ডা ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়গুলো ভালোমতই বুঝে নিয়েছিল। যাই হোক, আমার দেশি বন্ধু মিল্লাত এর সাথে প্রথম ক্লাসে গেলাম। ততদিনে তারা অনেক ক্লাস করে ফেলছে। প্রথম ক্লাসটাই ছিলো আজিজ স্যার এর বায়োকেমিস্ট্রি ক্লাস। মাথা হ্যাং হতে খুব বেশি হলে তিন চার মিনিট লেগেছিল। ক্লাসের এক কোণে  বসে বসে দু তিনটা থিওরি ক্লাস করলাম। আর সব স্যার এর ক্লাসে বারবার দাঁড়িয়ে নিজের নাম ও জেলার নাম বলতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি এক জন্তু ক্লাস রুমে প্রবেশ করছি, সবাই শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। ক্লাসরুমটা রীতিমত একটা চিড়িয়াখানায় রুপ নিয়েছিলো। কেউ কিছু জিজ্ঞাসও করছেনা আর আমিও জিজ্ঞাস করছিনা। তারপর স্যার যখন চলে গেলেন, তখন একটা মোটা মেয়ে লিডারের মতন দাঁড়িয়ে বলা শুরু করলো, “সবাই শুনো, আজিজ আমাদের বায়োকেমিস্ট্রি এসাইনমেন্ট দিয়েছেন, সবাইকে ৩০০ করে টাকা লাগবে”। পরে শুনেছি তার নাম নাঈমা। সত্যি কথা বলতে কি, সেদিন আমি এসাইনমেন্ট কি তাও বুঝতাম না। আর দেখি সবাই এসাইনমেন্ট নিয়ে আলোচনা করছে। তারা পরস্পর বলাবলি করছে, এই আমি ওই প্রাকটিক্যাল খাতা কমপ্লিট করিনাই এখনো। কেউ কমপ্লিট করেছে। কেউ বলছে, কাল একুয়াকালচার এক্সাম। কেউ বলছে, কাল নাকি রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এর প্রেজেন্টেশন আছে।আমি শুধু ভাবছি মনেমনে, আসলে তারা কি বলাবলি করছে? তারা যেগুলার কথা বলছে, সেগুলা কি আমাকেও করতে হবে। এদের মধ্যে এক গ্রুপের কাছে গিয়ে কি জানি জিজ্ঞাস করছিলাম। তারা কিছু না বলে হেসে দিয়েছিলো। যাক, এরপরেই নিজের পথ মাপছিলাম। কারণ হয়তবা তারা আমাকে কৌতুককর ভেবেছিলো। ততক্ষণে বিরতির সময় হয়ে গেছে।

তারপর মিল্লাতকে আবার জিজ্ঞাস করলাম যে বিকাল বেলা কি ক্লাস আছে। সে বলল, প্রাক্টিক্যাল ক্লাস আছে পিআরটিসি ল্যাবে।

বিরতির পর ১.৪৫ মিনিটের দিকে গেলাম। কিন্ত প্রাক্টিক্যাল ক্লাসও খুজে পেলামনা। কাউকে জিজ্ঞেসও করতে পারছিনা। এমনে এমনে আমি যতদূর সম্ভব বিল্ডিংগুলা খুঁজা শুরু করলাম। কিন্ত ক্লাস খুঁজে পেলামনা। তারা ততক্ষণে ক্লাস শেষ করে বের হয়েছে আর আমি ক্লাসই খুঁজে পেলামনা। আরেকটা কথা, আমি প্রথম ৩০৯ নাম্বার রুমে উঠেছিলাম। তারপর বিকালবেলা হলে যখন ফিরলাম, তখন বেখেয়ালে আমি একতলা বেশি উঠে ৪০৯ নাম্বার রুমে গিয়ে ঢুকে ডিরেক্ট বিছানায় শুয়ে মোবাইল টিপছিলাম। হঠাৎ করে মনে হল, এটা তো আমার বেডসিট নয়। আর টেবিলটাও আমার টেবিলটার মত নয়। দ্রুত বের হয়ে দেখা, সেটা ৪০৯ নং রুম। তড়িঘড়ি করে ব্যাগপত্র নিয়ে নিচের রুম ৩০৯ এ চলে আসলাম। ভাগ্যিস কেউ ছিলনা ওই রুমে তখন, তা নাহলে সুন্দরভাবে র‍্যাগিংয়ের শিকার হতাম।

সেদিন রাত্রে প্রথম ডাইনিংয়ে খাওয়া। রাত আটটার দিকে ডাইনিং খোলামাত্র হুরহুর করে সবাই ঢুকে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল সবাই ছিয়াত্তরের মনন্তর এর মধ্যে ছিল এতক্ষণ। ভিতরে গিয়ে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলাম, দেখি কি করতে হবে। তারপর দেখি সবাই হুরহুর করে প্লেট নিয়ে মাছের বাটি প্রতিযোগিতা করে নিচ্ছে। তাতে বাটি টান দেয়ার সময় কেউ কেউ কারো কারো গায়ে ঝোল ফেলে দিচ্ছে। বাটি নিতে না পারলে ডিম ভাজির জন্য ওয়েট করতে হবে। আমি দেখতে দেখতে মাছের বাটি শেষ হয়ে গেছে। তারপর প্লেট নিয়ে ডিমভাজি পেলাম কোনমতে। জানতাম না যে, এখানে টেবিলও ভাগ আছে। ফাস্ট, সেকেন্ড, থার্ড, ফাইনাল ইয়ার, মাস্টার্স এর জন্য আলাদা আলদা টেবিল আছে। আমি ভুলে গিয়ে মাস্টার্সের টেবিলে বসছিলাম। তাতে দু-একজন সিনিয়র হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছিল। তারপর এক ভাই কানে বললেন, নতুন বুঝি? আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ওইযে ওইটা তোমাদের টেবিল। আমি র‍্যাগিং খুব করতাম, উনাকে ধন্যবাদ দিয়ে দ্রুত আমাদের টেবিলে চলে আসলাম।

উত্তজনায় অনুভূতিগুলো থিতু হয়ে আসছে। প্রথম নিজের ভার্সিটির ডাইনিংয়ে ভাত খাচ্ছি। এর আগে এডমিশন টেস্ট দিতে গিয়ে অন্য ক্যাম্পাসে অনেক খাইছি, কিন্ত নিজের বলে কথা। ভাবতেও ভালো লাগছে। সেইদিন ইটপোড়ার মত ডিমভাজি খেয়ে, মায়ের হাতের ডিম রান্নাকেও বিশ্বাস হয়না এখন। ভাত খেতে গিয়ে একটা শুঁয়োপোকাও এসেছিল আমার পাতে। কোনমতে বমি চেপে উঠে আসলাম টেবিল থেকে।  তারপর রাত, নিজের বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে নিজের দিনটাকে ভাবছি আর হাসছি। কখন ঘুমিয়েছি জানিনা,,,,

তারপর বাকি চার বছরের প্রায় সব রাত কেটেছে এই হলে। তারপর ক্যাম্পাস ধীরে ধীরে নিজের অনুকূলে এসে গেছে। আর সমস্যা হয়নি। ভালোবাসি প্রিয় ক্যাম্পাস সিভাসুকে। ভালো থাকুক সিভাসু পরিবার।

 

মোস্তফা কামাল লিমন
মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়
ইমেইলঃ mklimon42@gmail.com

About Editor

Check Also

টেরিটরি নির্বাহী পদে নিয়োগ দিচ্ছে ACI Godrej Agrovet Private Ltd.

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :   ACI Godrej Agrovet Private লিমিটেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *