Sunday , December 16 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / রজনীগন্ধার বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার

রজনীগন্ধার বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার

ফুল সৌন্দর্য্যের প্রতীক। পৃথিবীর সব দেশেই বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন রংয়ের ফুলের চাষ হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও তেমনি প্রায় সব ঋতুতেই ফুল পাওয়া যায়, তবে শীত মৌসুমেই সব চেয়ে বেশী ফুল পাওয়া যায়। অন্য ফসলের মত ফুলও যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। এদেশের মানুষ আজকাল ফুলের নানাবিধ ব্যবহার শিখেছে, তাই ফুল এদেশের বিভিন্ন জেলায় চাষ শুরু হয়েছে এবং এরই সাথে ফুলের বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা গুলোর মধ্যে ফুলের রোগ বালাই একটি অন্যতম। নিন্মে রজনীগন্ধা ফুলের প্রধান প্রধান রোগ এবং উহার প্রতিকারের ব্যবস্থা বর্ননা করা হলো।

 

গোড়া পঁচা (Foot and Root Rot) রোগ

রোগের কারনঃ স্ক্লেরোশিয়াম রফসি (Sclerotium rolfsii) নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

মরা গাছের ডাঁটা ও মাটিতে গুটি অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে। বেশী পরিমান নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করলে রোগটির প্রকোপ বাড়ে। সেচের পানির সাথে স্ক্লেরোশিয়া ভেসে যেয়ে অন্য গাছ বা মাঠে ছড়ায়।

রোগের লক্ষণঃ

  • গাছের গোড়ার কাছে কন্দে পঁচন ধরে।
  • কন্দের ভিতরের অংশ বিভিন্ন গভীরতা পর্যন্ত পচে যায়।
  • ছত্রাকটি ক্রমশ: উপরে উঠে পাতা ও ফুলের ডাঁটা পচিয়ে ফেলে।
  • গোড়ার কাছে পাতার যে অংশ থাকে তা প্রথমে পচে যায়।
  • পাতার রং বাদামী বা খড়ের মত হয়।
  • পঁচা স্থানে সাদা তুলার মত মাইসেলিয়া এবং সরিষার দানার মত স্ক্লেরোশিয়া লেগে থাকতে দেখা যায়।
  • সমস্ত গাছটা শেষে শুকিয়ে মারা যায়।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • অতিরিক্ত পানি ও নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।
  • এ রোগ হয় না এমন ফসলের সাহায্যে শষ্য পর্যায় করতে হবে।
  • রোগমুক্ত বীজ কন্দ সংগ্রহ করতে হবে।
  • কন্দ তোলার সময় আঘাত জনিত ক্ষত এড়াতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে  ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে কন্দ আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে জমিতে রোপন করতে হবে।
  • জমিতে রোগ দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় মাটিতে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

পাতার দাগ (Alternaria leaf spot) রোগ

রোগের কারনঃ  অলটারনারিয়া এসপি. (Alternaria sp.) নামক ছত্রাক দ্বারা এরোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ গাছের পরিত্যক্ত অংশে জীবানু বেঁচে থাকে।

রোগের লক্ষণঃ

  • যে কোন বয়সের গাছে এ রোগ হতে পারে, আক্রান্ত গাছের পাতায় গোলাকার বাদামী দাগ হয়।
  • দাগের মধ্যে চক্রাকার বলয় দেখা যায়।
  • ফুল বহনকারী দন্ডে দাগ হলে দন্ড ভেঙ্গে যায়।
  • পরবর্তীতে গাছ শুকিয়ে মারা যায়।

রোগের প্রতিকারঃ

  • অনুমোদিত রোগ দুরত্ব ব্যবহার করতে হবে।
  • নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার প্রয়োগ করা যাবে না।
  • গোছায় অধিক সংখ্যক গাছ রাখা যাবে না।
  • জমিতে রোগ দেখা দিলে ইপ্রিডিয়ন (যেমন-রোভরাল ৫০ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৪ বার গাছে স্প্রে করতে হবে।

 

পাতা ঝলসানো (Leaf blight) রোগ

রোগের কারনঃ বাইপোলারিস এসপি. (Bipolaris sp.) নামক ছত্রাক দ্বারা এরোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ গাছের পরিত্যক্ত অংশে জীবানু বেঁচে থাকে।

রোগের লক্ষণঃ

  • এ রোগ যে কোন বয়সের গাছ আক্রমন করতে পারে।
  • আক্রান্ত গাছের পাতায় ছোট বাদামী  দাগ হয় এবং পরবর্তীতে পাতাটি ঝলসে যায়।
  • ফুল বহনকারী দন্ডেও এ রোগের লক্ষন দেখা যায়।

রোগের প্রতিকারঃ

  • নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার প্রয়োগ করা যাবে না।
  • গাছে রোগ দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে অথবা প্রোপিকোনাজোল (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) ১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা প্রদান

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা দিয়েছে শেরপুর জেলা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *