Saturday , December 15 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / পুকুরে হাস মুরগী ও গবাদি প্রাণীর বিষ্ঠা প্রয়োগের নিয়ম ও উপকারিতা

পুকুরে হাস মুরগী ও গবাদি প্রাণীর বিষ্ঠা প্রয়োগের নিয়ম ও উপকারিতা

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানঃ মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে পৃথিবী পরিচালিত হয় । মহান জ্ঞানী নিজ জ্ঞান দিয়ে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করছেন সবকিছু । কোন কিছু তিনি অনর্থক সৃষ্টি করেন নি । মানব জীবন সুন্দর ভাবে পরিচালনা করার জন্য দিয়ে দিয়েছেন সকল উপকরন । খাদ্যচক্র একটি অতি গুরুত্বপুর্ন বিষয় । পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই খাদ্যচক্র বহাল থাকবে । এক প্রজাতি অন্য প্রজাতির আহার হবে । এটাই প্রকৃতির চিরায়ত নিয়ম । যেমন গবাদি প্রাণির মল মুত্র মাছের খাবার হয় । এর ফলে পরিবেশ রক্ষা হয় আর উপোরন্ত আয় হয় মাছ । আবার এই গোবর বা বিষ্ঠা প্রয়োগের একটা সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে । যা মেনে প্রয়োগ করলে অনেক দিক থেকে উপকার পাওয়া যায় । অন্যথায় লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমান বেশী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

যে কোন প্রাণী খাবার গ্রহন করে । তা হতে প্রাপ্ত শক্তি দিয়ে জীবন চালায় । আর পাকস্থিতে সে খাবার গুলো পরিপাক হয়ে উৎছিষ্ট হিসেবে তৈরি হয় মল মুত্র ।  যার অনেক গুনগত মান ও ব্যবহার রয়েছে । গবাদী পশুর গোবরে হয়েছে, নানা উপাদান যা জমির উর্বরতা বাড়াতে এবং মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবয়ত হয় । গোবরে যে সমস্ত উপাদান গুলো বিদ্যমান থাকে তা নিচে দেয়া হল…

 

পুকুরে বিষ্ঠা প্রয়োগের উপকারিতাঃ

গবাদি পশু ও হাস মুরগীর বর্জ্য পদার্থ পুকুরে ব্যবহার করলে বেশ কিছু উপকার সাধিত হয় যেমন-

  • পরিবেশ বান্ধব হয়
  • মাছের পুষ্টির জন্য বেশ সহায়তা করে
  • মাছের বৃদ্ধি ও উৎপাদনে ব্যপক ভুমিকা পালন করে
  • মাছ চাষের বাড়তি খরচ কমায়

 

পুকুরে বিষ্ঠা প্রয়োগ কালে যে বিষয় গুলো লক্ষনীয়ঃ

সময়ঃ পুকুরে গোবর বা বিষ্ঠা দেয়ার জন্য উপযুক্ত সময় হল পোনা ছাড়ার আগেয় । পুকুর প্রস্তুত করার পর ভালোভাবে পরিস্কার করতে হবে । যেন বেশি আগাছা টাইপের কোন কিছু না থাকে , থাকলে তা পুস্টি গ্রহন করবে । ভালোভাবে পরিস্কার করার পর এবং পোনা ছাড়ার এক সপ্তাহ আগে প্রয়োগ করতে হবে । এই সময় প্রয়োগ করলে পোনার জন্য উপযুক্ত খাবার তৈরি হয়ে থাকে । যার প্রভাবে দ্রুত বাড়তে থাকে পোনা । আর পোনা থাকা অবস্থায় প্রয়োগ করা হলে । বেশি পরিমান দেয়ার ফলে বিষক্রিয়ায় মাছ মারা যেতে পারে ।

মাত্রাঃ পুকুরে এই জৈব সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে মাত্রা একটা অনেক বড় বিষয় । যে বিষয় উপকার করতে পারে তার মাত্রা বেশী হলে ক্ষতির কারনও হতে পারে । সাধারনত প্রতি শতাংশে গোবর ৫-৭ কেজি , কম্পোস্ট ৮-১২ কেজি , পোল্ট্রি বিষ্ঠা ৩-৫ কেজি , ইউরিয়া ১০০-১৫০ গ্রাম , টিএসপি ৫০-৭৫ গ্রাম । এই পরিমানে প্রয়োগ করা হলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায় ।

সকাল বেলা প্রয়োগঃ  

সাধারনত রোদের দিনে সকাল বেলায় অল্প রোদের মধ্যেই সার প্রয়োগ করা উত্তম । এর ফলে পুকুরে পানি গরম হয়ে কোন বিষক্রিয়া হয় না । আর সঠিক ভাবে সব জায়গায় ছড়িয়ে দেয়া সহজ হয় । পুকুরে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সময় একটা বিবেচ্য বিষয় । দিনের কোন ভাগের সময় উপযোগী তা হিসাব করতে হয় । সাধারনত দিনের প্রথমাংশে রোদ উঠার পরপরই দেয়া উত্তম । বেশি রোদ হলে পুকুরে মাছের জন্য খুব ক্ষতি হতে পারে

পচিয়ে দেয়াঃ

সরাসরি সেড হতে গোবর পুকুরে দেয়ার চেয়ে কিছু দিন পচিয়ে দেয় উত্তম । কারন এতে করে ফারমান্টেশন প্রক্রিয়ায় উপাদান গুলো খুব সহজে আয়নিত হয় । যার ফলে পুকুরের পরিবেশ তা গ্রহন করে খাদ্য উৎপাদন করতে পারে । যার ফলে সবচেয়ে দ্রুত ও বেশি উপকার পাওয়া যায় ।

রুটিন মেনে প্রয়োগ করাঃ ভাল ফলাফল পেতে রুটিন মেনে সার দেয়া দরকার । সাধারনত একবার সার দেয়ার নির্দিষ্ট সময় পর আবার সার দিতে হয় । যদি নির্দিস্ট সময়ের আগেয় দেয়া হয় তাহলে অনেক সময় বীষ ক্রিয়া দেখা যায় । যার ফলে মাছ এর উতপাদন কমে যায়, এমনকি অনেক মাছ ও মারা যায় । তাই নির্দিস্ট সময় পরপর পরিমিত জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে ।

পুকুর ও পানির অবস্থা দেখে প্রয়োগ করেঃ

সার প্রয়োগের পুর্বে পুকুরের পানির অবস্থা দেখে নিতে হবে । পানির যখন ফ্যাকাসে কালার ধারন করে তখন বুঝতে হবে মাছের খাবার ঘাতটি আছে । তখন সার দেয় খুব জরুরি হয়ে পড়ে । পানির পরিমান থাকলে নতুন করে পানি যোগ করে সার প্রয়োগ করতে হবে ।

পানির রং

পানির রং দেখে বোঝা যায় পানিতে খাবারের অবস্থা , পানি রং যদি সবুজ হয় । তাহলে বুঝতে হবে এখন পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ আছে । সবুজ রংটা মুলত নানা রকম ফাইটো প্লাংটোন এর পরিমানের উপর নির্ভর করে । যা মাছের খুব প্রিয় ও পুস্টকর খাবার ।

 

অতিরিক্ত সার প্রয়োগের ফলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তা নিম্ন রূপঃ

অক্সিজেনের ঘাটতিঃ

অতিরিক্ত পরিমান জৈব সার পুকুরে দেয়া হলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তা হল অক্সিজেনের ঘটতি । এটা খুব কমন একটা সমস্যা । এটা হলে মাছের উতপাদন কমে যায় । অনেক মাছ মারাও যায় । অক্সিজেনের ঘাটতি হলে মাছ গুলো নিম্নরূপ আচরন করতে পারে-

  • প্রচুর মাছ পানির উপরিভাগে ভেসে ভেসে সাতার দিতে থাকবে ।
  • মাছ গুলো পানির উপরিভাগের হা করে পানি খাওয়ার ভাব প্রদর্শন করবে ।
  • মাছ গুলো এ দিক ও দিক ছুটাছুটি করবে ।
  • বেশি সমস্যা হলে মাছ ও মারা যায় ।

এই সমস্যা সমাধানে যা যা করতে হবেঃ

  • সার প্রয়োগ বন্ধ করে দিতে হবে । যেন নতুন ভাবে সমস্যা সৃষ্টি না হয় ।
  • পানিতে বাতাস তথা অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে হবে । এক্ষেত্রে কোন কিছু দিয়ে পানিতে আঘাত করে পানির অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে । এতে করে কিছু কিছু বাতাস পানির নিচে প্রবেশ করবে । ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি কমবে ।
  • পানি পরিবর্তন করে নতুন পানি যোগ করা । অবস্থা বেশি ভয়ানক হলে পানি বের করে নতুন পানি দিয়ে পুকুর ভর্তি করতে হবে ।
  • এক্ষেত্রে চুন দিলেও ভাল ফল পাওয়া যায় ।

মাছের ক্ষত রোগঃ পানিতে বেশি সার প্রয়োগের ফলে ক্ষত রোগ ও দেখা দিতে পারে । এর ফলে মাছের উৎপাদন ব্যহত হয় । তা দেখা দিলে সার প্রয়োগ বন্ধ করে দিতে হবে ।

তাই পুকুরে জৈব সার প্রয়োগ মাছ এর জন্য খুব উপকারি । যার সঠিক ব্যবহার  করে মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায় যা জাতীয় উন্নতির জন্য একটি পদক্ষেপ হবে । আমরা ফিরিয়ে নিতে পারবো আমাদের হারানো ঐতিহ্য, মাছে ভাতে বঙ্গালী বলে বিশ্বের বুকে শির উচু করে দ্বাড়াতে পারবো ।

 

লেখক পরিচিতি
শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক
ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদ
হাবিপ্রবি, দিনাজপুর 
মোবাইলঃ ০১৭২৩৭৮৬৮৭৭

About Editor

Check Also

টেরিটরি নির্বাহী পদে নিয়োগ দিচ্ছে ACI Godrej Agrovet Private Ltd.

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :   ACI Godrej Agrovet Private লিমিটেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *