Saturday , December 15 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / গমের পাতার মরিচা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

গমের পাতার মরিচা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশে খাদ্য ফসল হিসাবে গম দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে । খাদ্যমানের দিক থেকে গম চালের চেয়ে পুষ্টিকর। চালের তুলনায় গমে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের পরিমান বেশী। অপরদিকে গম চাষে পানির প্রয়োজন ধানের তুলনায় খুবই কম। যে জমিতে সেচের সুবিধা নেই অথচ মাটিতে যথেষ্ট পরিমানে রস থাকে সে জমিতে বিনা সেচেও সফলভাবে গম চাষ করা যায়। কিন্তু গমের রোগবালাই গম চাষের একটি অন্যতম প্রতিবন্ধক। এব ফলে গমের যথেষ্ট ক্ষতি সাধন হয়। এ পর্যন্ত গমের ১৫টি রোগ সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ছত্রাক জনিত। গমের রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে গমের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। নিন্মে গমের মারাত্মক একটি রোগ সম্পর্কে বর্নণা করা হল।

 

পাতার মরিচা রোগ (Leaf Rust)

রোগের কারণঃ পাকসিনিয়া রেকোনডিটা (Puccinia  recondita) নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

এ রোগ ফসলের পরিত্যক্ত অংশ ও বিকল্প পোষক গাছ হতে বাতাসের মাধ্যমে সুস্থ গাছে ছড়ায়। সাধারণত কম তাপমাত্রা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া রোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক।

রোগের লক্ষণঃ

  • প্রথমে পাতার উপর ছোট ছোট গোলাকৃতি কমলা রংগের দাগ পড়ে। ।
  • ক্রমে এসব দাগের আকার বড় হতে থাকে, সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং বাদামী রং ধারণ করে।
  • এ অবস্থায় গায়ে লাগলে বা হাত দিয়ে স্পর্শ করলে মরিচার মত দাগ লেগে যায়। এ সমস্ত দাগগুলো হলো রোগের জীবাণুর অসংখ্য স্পোর।
  • আক্রমণ বেশি হলে এগুলো কান্ড ও খোলে দেখা যায়।
  • পরিপক্ক অবস্থায় দাগগুলো কাল বর্ণ ধারণ করে, যা হল রোগের টিলিয়াল স্টেজ।
  • আক্রমণ ব্যাপক হলে পাতাগুলো দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং জমি পুড়ে যাওয়ার মত দেখায়।
  • এ রোগের লক্ষণ প্রথমে নীচের পাতায়, তারপর সব পাতায় ও কান্ডে দেখা যায়।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • ফসল সংগ্রহের পর ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পৃড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা মাটিতে পুতে রাখতে হবে।
  • রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করে বপন করতে হবে।
  • সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ও জমির আগাছা দমন করতে হবে।
  • আগাম চাষ অর্থাৎ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বীজ বপন করলে রোগের মাত্রা কম হবে।
  • রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে প্রোপিকোনাজোল (টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে অথবা টেবুকোনাজল (ফলিকুর ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

টেরিটরি নির্বাহী পদে নিয়োগ দিচ্ছে ACI Godrej Agrovet Private Ltd.

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :   ACI Godrej Agrovet Private লিমিটেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *