Wednesday , April 25 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / সিকৃবির সমাবর্তন, সৌন্দর্য বর্ধন , ধোয়াশা ও প্রত্যাশা

সিকৃবির সমাবর্তন, সৌন্দর্য বর্ধন , ধোয়াশা ও প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত প্রতি দশ বছর পর পর বের হয়ে যাওয়া সকল গ্রাজুয়েট দের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মূল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় কনভোকেশন নামক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান তথা আচার্য হলেন রাষ্ট্রপতি তাই তিনিই প্রধান অতিথি হিসেবে থাকেন ও নিজ হাত দিয়ে স্নাতক শিক্ষার্থীদের মূল সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত ফেব্রুয়ারী মাসের ১৫ তারিখ সিকৃবির ইতিহাসের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর তাই গত কিছুদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যে একটি শব্দ সবার মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে তা হল ” সমাবর্তন “। সমাবর্তনকে কে কেন্দ্র করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। সৌন্দর্য বর্ধন থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়ন কাজ সবকিছুই চোখে পড়ার মত। বিগত কয়েক বছরে কন্সট্রাকশনের কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তাগুলোর হয়েছিল বেহাল দশা। একাডেমিক ভবন গুলোর রং হয়েছিল মলিন। হল গুলোর আসল রং হারিয়ে গিয়ে ধারণ করেছিল ভুতুড়ে রঙ। আর তাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত সিকৃবি পরিণত হয়েছিল মরুভূমিতে। আর এবার সে মরুভূমিতে প্রাণ আনতে সবার চেষ্টার কমতি নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি জোরদার করার সাপেক্ষে সকল পরিকল্পনা চলছে, নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেট ও কর্মচারীদের বাসভবনের দিকে অবস্থিত গেটটিতে স্থাপন করা হচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীদের কক্ষ। প্রশাসনিক ভবনের ঠিক পেছনে দৃষ্টিনন্দন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল কাজ উদ্বোধন হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। টি.এস.সি,শহীদ মিনার ও কৃষি অর্থনীতি ও ব্যাবসায় শিক্ষা অনুষদের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষের দিকে। খেলার মাঠটিতে নতুন করে মাটি ভরাট হয়েছে, রাস্তার ধারে লাগানো হচ্ছে ফুলের গাছ। তবে চীনের দু:খ যেমন হোয়াংহো নদী। ঠিক তেমনি সিকৃবির স্টুডেন্ট দের দু:খ বালুচর পয়েন্ট থেকে সেকেন্ড গেট রাস্তা। যদিও রাস্তাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে তবুও এ রাস্তা দিয়েই চলাচল করে সিকৃবির প্রায় ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থী। অধিকাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন উচু নীচু এ রাস্তা আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনের রাস্তাটির সংস্কার হলে সংস্কার কাজ পরিপূর্ণতা পেত।

আর সমাবর্তনকে ঘিরে সাবেকদের মাঝে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। কেউ কেউ মিলিয়ে নিচ্ছেন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব নিকেশ আবার কারো মনে সংশয়ের দোলাচলে। সংশয় বলতে সমাবর্তনের দিনক্ষণ নিয়ে অনেকের মাঝে উঠকন্ঠা । ৪ তারিখ সমাবর্তন হবার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে তা এক দফা পিছিয়ে ১৫ তারিখ করা হয়েছে। আবার ডেট পিছিয়ে দিবে কিনা এটা নিয়েও অনেকের মাঝে সন্দেহ বিরাজ করছে । সমাবর্তনে ১ম ব্যাচ থেকে ৫ম ব্যাচ অংশগ্রহণ করতে পারবেনা এটা নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। যদিও পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্ত বদলায়। আবার দ্রুত গতিতে সংস্কার কাজ হওয়ায় কাজের মান কতটুকু ভালো হবে সেটা নিয়েও অনেকের মাঝে তৈরী হয়েছে সংশয়। কেউ আবার আফসোস করে বলছেন আরেকটু আগে থেকে সংস্কার কাজ শুরু হলে কাজের মান ভালো হত। আর কনভোকেশনের জন্য যে গ্রাউন্ডটি নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে সবার জায়গা হবে কি না সেটাও একটা বড় প্রশ্ন..?? সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানান কারণ দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের জরাজীর্ণ দশার সংস্কার করতে প্রশাসনকে অব্যাহত চাপে রেখেছিল ছাত্রলীগ । তাই দেরীতে হলেও কাজ শুরু হয়েছে এটি ভেবেই অনেকে বেশ খুশি।
সমাবর্তনে ১৩৬৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সকল সাবেকরা একত্রে মিলিত হচ্ছেন অনেক দিন পর। তারা আবার সেই প্রাণের প্রতিষ্ঠানে একসাথে মিলিত হচ্ছে যেখানে সবাই একসাথে হেসে খেলে কাটিয়েছে তাদের শিক্ষাজীবনের অনেক গুলো বছর। তাদের অনুভূতি টা যে কতটা সুখের এটা একমাত্র তারা ছাড়া আর কারো দ্বারা উপলব্ধি করা সম্ভব না। অনেক টা রবীন্দ্রনাথের সেই গানের মত- “পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়, ও সেই চোখের দেখা প্রাণের কথা সে কি ভোলা যায়। আয় আরেক টি বার আয়রে সখা প্রাণের মাঝে আয়, মোরা সুখের দুখের কথা কব প্রাণ জুড়াবে তায়। ” তবে কারো কারো মাঝে হতাশার ছাপও অস্পষ্ট নয়। কারণ অনেক চাকুরীরত সিকৃবির গ্রাজুয়েট সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে যে তারিখে ছুটি নিয়েছিলেন সে তারিখ সমাবর্তন হচ্ছেনা। আবার কেউ কেউ ফ্লাইটের টিকেট পিছিয়ে দিয়েছিলেন, তারাও পড়েছেন বেশ সমস্যায়।

প্রতিষ্ঠার ১১ বছর নানা চড়াই-উতরায় পেরিয়ে গেছে সিকৃবি। সিকৃবি গ্রাজুয়েটরা দেশ – বিদেশে কৃষি গবেষণায় ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। গবেষণা মাঠ সংকট, ব্যাবহারিক ফিল্ডের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও এগিয়ে যাওয়া সিকৃবির তরুণদের অনুপ্রেরণা তাদের সিনিয়র ভাই-বোনেরা। সিকৃবির ইতিহাসের প্রথম সমাবর্তন স্বরনীয় হয়ে থাকুক এমন প্রত্যাশাই করছেন সিকৃবির সাবেক ও বর্তমান সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এগিয়ে যাক সিকৃবি, কাটুক সব ধোঁয়াশা…

About Anwar Ul Islam Khokon

Check Also

পাহাড়ের কাজু বাদাম এখন জমিতে!

এগ্রিভিউ২৪ ডেস্কঃ বাংলাদেশে প্রথম কাজু বাদাম হত পাহাড়ী এলাকায়। অন্য কোথাও তেমন দেখা যেতনা। তাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *