Wednesday , November 14 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / বেগুনের তুলসি লাগা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

বেগুনের তুলসি লাগা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

বেগুন বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান সবজি ও অর্থকরী ফসল। আলুর পরেই এর স্থান। দেশের সর্বত্রই এর চাষ হয় এবং সব শ্রেনীর লোকের কাছেই এটি জনপ্রিয়। বেগুন সারা বছরই চাষ করা যায় ও বাজারে পাওয়া যায়। কৃষক বেগুন বিক্রি করে সারা বছরই অর্থ উপার্জন করতে পারে। এ জন্য বেগুন একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু রোগ বালাই বেগুন উৎপাদনের একটি প্রধান প্রতিবন্ধক। এই রোগসমূহ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে বেগুনের ফলন অনেক বৃদ্ধি পাবে। নিন্মে বেগুনের তুলসি লাগা রোগের লক্ষন, কারণ, বিস্তার ও প্রতিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হল…

 

ক্ষুদ্র পাতা/গুচ্ছ পাতা/তুলসি লাগা (Little leaf) রোগ

 

রোগের কারণঃ মাইকোপ্লাজমা (Mycoplasma) দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

সংস্পর্শ ও সিসটিয়াস ফাইসিটিস (Cestius phycitis) নামক পাতা ফড়িং-এর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। অধিক তাপমাত্রা ও একই জমিতে বার বার বেগুনের চাষ এ রোগ বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। ধুতরা ও তামাক এ রোগের বিকল্প পোষকের মধ্যে অন্যতম। গাছের মাঝামাঝি বয়সে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের লক্ষণঃ

  • আক্রান্ত গাছের আগায় বা ডগায় অসংখ্য ছোট ছোট পাতা হয়।
  • আক্রান্ত গাছের পাতার আকৃতি খুব ছোট হয়।
  • আক্রান্ত পাতার ধার হলুদ বা সাদা রং ধারন করে।
  • পাতার বোটা ও কান্ডের পর্বগুলি অত্যন্ত ছোট হয়ে যায়। অনেক সময় বোটা সহজে চেনা যায় না।
  • পাতাগুলি গুচ্ছাকৃতির মনে হয় ও গাছ খর্বাকৃতির হয়।
  • ফুলের বিভিন্ন অংশ রূপান্তরিত হয়ে পাতার আকৃতি ধারন করে।
  • আক্রান্ত গাছ সাধারনত: বন্ধ্যা হয়, ফুল-ফল ধারন করে না।
  • যদিও ২/১ টি ফল ধারণ করে তবে সে গুলো ছোট ও খুবই শক্ত হয়।

প্রতিকারঃ

  • সুস্থ ও নীরোগ বেগুন হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
  • চারা লাগানোর সময় চারা ১০০০ পিপিএম টেট্রাসাইক্লিন দ্রবনে ডুবিয়ে লাগাতে হবে এবং চারা রোপনের পর ১ সপ্তাহ পর পর ৪-৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
  • আক্রান্ত গাছ দেখা মাত্র তুলে ধ্বংস করতে হবে।
  • তামাক ও ধুতুরা জাতীয় আগাছা ধ্বংস করতে হবে।
  • বাহক পোকা পাতা ফড়িং দমনের জন্য ইমিডাক্লোপ্রিড (অ্যাডমায়ার/ইমিটাফ) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি অথবা ডায়াজিনন (৬০ তরল) প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ মিলি হারে পানিতে মিশিয়ে জমিতে স্প্রে করতে হবে।

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *