Sunday , August 19 2018
Home / কৃষি গবেষনা / তুলার “ফোস্কা বা অ্যানথ্রাকনোজ” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

তুলার “ফোস্কা বা অ্যানথ্রাকনোজ” রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

তুলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা ছিল তুলা চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। ঢাকা জেলার তুলা ছিল সর্বোৎকৃষ্ট। এ তুলার সুতা থেকেই তৈরী হতো ঢাকাই মসলিন। প্রাচীনকাল থেকেই চীন, ভারত ও মিশরে তুলার ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ তুলা বস্ত্র তৈরীর জন্য ব্যবহৃত হয়। বাকি ২৫ শতাংশ কার্পেট, পর্দা, গৃহস্থালির রকমারি জিনিস তৈরীর জন্য এবং অবশিষ্ট তুলা শিল্পের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তুলার বীজ থেকে তেল ও খৈল পাওয়া যায়। তুলাবীজ থেকে প্রাপ্ত পরিশোধিত তেল ভোজ্যতেল ও অপরিশোধিত তেল সাবান তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তুলা বীজের খৈল গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রোগ বালাই তুলা উৎপাদনের একটি প্রধান প্রতিবন্ধক। এই রোগসমূহ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে তুলার ফলন অনেক বৃদ্ধি পাবে। তাই নিন্মে তুলার মারাত্মক একটি রোগের লক্ষণ, কারন, বিস্তার ও প্রতিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

 

 ফোস্কা বা অ্যানথ্রাকনোজ (Anthracnose or pink boll rot) রোগ 

রোগের কারনঃ কোলেটোট্রিকাম গসিপি (Colletotrichum gossypii) নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

বীজ ও আক্রান্ত ফসলের পরিত্যক্ত অংশের মাধ্যমে রোগ বিস্তার লাভ করে।আক্রান্ত বীজ বপন করলে বীজপত্রে দাগ পড়ে এবং উহাতে প্রচুর কনিডিয়া উৎপন্ন হয়। এই সকল কনিডিয়ার মাধ্যমে রোগ অন্য গাছে ছড়ায়।

 রোগের লক্ষণঃ

  • বীজদল, পাতা, কান্ড এবং ফলের উপর দাগ পড়ে এবং উহাতে পচন ধরে।
  • বীজদলে ছোট ছোট লালচে রং-এর দাগ দেখা যায় এবং উহার কিনারার দিকে পচন ধরে।
  • কচি কান্ডেও লম্বাটে দাগ পড়ে।
  • অতিরিক্ত আর্দ্রতায় দাগগুলি কান্ডকে চারিদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে।
  • পাতায় ও কান্ডে অল্প পরিমান বাদামী থেকে কালো ধরণের দাগ পড়ে।
  • এই রোগ বেশী দেখা যায় ফলের উপরে।
  • অর্ধ বয়স্ক ফলে লালচে কিনারাযুক্ত বসানো বাদামী থেকে কালো ধরণের দাগ পড়ে।
  • ফলের ভিতর পচে শুকিয়ে যায়।
  • রোগের প্রকোপ বেশী হলে ফল বিকৃত হয়ে যায়।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • গাছের মরাপাতাসহ যাবতীয় পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।
  • মাটিতে পটামিয়ামের অভাব থাকলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়। তাই জমিতে পরিমিত পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে।
  • টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে গাছের পাতা ও ডালপালা ভালভাবে ভিজিয়ে গাছে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

রোটার‍্যাক্ট ও রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

শেকৃবি প্রতিনিধিঃ রোটারি ক্লাব অফ ঢাকা মিড সিটি ও রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব ঢাকা মিড সিটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *