Wednesday , November 14 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / সবুজ ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে “নগরকৃষি”

সবুজ ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে “নগরকৃষি”

আবদুর রহমান রাফি: ঢাকা পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতি পূর্ণ একটি শহর। দ্রুত নগরায়ন আর শিল্পায়ন রাজধানীকে দূষিত করে ফেলেছে, কেড়ে নিয়েছে সবুজ। এখন সবুজ একটি বিরল রঙ, উঁচু দালানের ফাঁক ফোকরে হঠাৎ উঁকি দেয়। জীবন অতিষ্ঠ করার জন্য এখানে আছে ধোয়া আর ধুলাবালি। মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ বলতেও কিছু আছে। যেখানে আমরা কিছু পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। আমাদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন আর সবুজ রাখতে শুরু হয়ে গেছে সবুজ অভিযান। রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সাহসী ও উদ্যোগী তরুণ শুরু করেছে নগরকৃষি। আবু ইউসুফ শিহাব,আবু নোমান সায়েম আর মাহফুজ মুন্তাসির এর হাত ধরে নগরকৃষির যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে। প্রথম দিকে অনেক সমালোচনা,কটুক্তি আর বক্র দৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের লক্ষ্যে অটুট ছিলো তারা। নগরীর বুকে নতুন করে জীবন ফিরিয়ে আনাই ছিলো তাদের উদ্দেশ্য। তারা ছাদে বাগান করছে, ল্যান্ডস্কেপিং করছে আর সবুজ দিয়ে রাঙিয়ে দিচ্ছে অন্দরমহল এবং এ সম্পর্কিত সকল প্রকার প্রশ্নের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। এরই মধ্যে তারা কিছু অফিস কে শান্ত সবুজে বদলে দিয়েছে। ঢাকায় নগরকৃষি প্রায় ৫০টা বাড়ি আর অফিসে কাজ করেছে। তারা তাদের কাজ কে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিয়েছে। এর মধ্যে আছে ফলের গাছ, সবজি বাগান, শোভাময় গাছ, সারের ব্যবস্থা সাথে বিনা মূল্যে পরামর্শ তো থাকছেই। তাদের কাজ গুলো বৈচিত্র্যময় আর অতুলনীয়। জাতীয় পরিবেশ মেলায় তাদের একটা স্টল ছিলো যেখানে ছিলো নানান বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা। যেমন: জলচাষ বিদ্যার বিভিন্ন ভাগ,মাটিবিহীন চাষ পদ্ধতি, বনসাই ইত্যাদি। শহরে কৃষিকাজ কে আনন্দদায়ক করার জন্য নগরকৃষি শিশুদের নিয়েও কাজ করছে। দলটি নতুন প্রজন্মের সাথে প্রকৃতির একটি সুন্দর সম্পর্ক স্থাপনে আপ্রান চেষ্টা করছে। যাতে তারা ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য কাজ করে। তারা নতুন প্রজন্ম থেকে সবুজের সৈনিকদের বের করে আনতে চায় যারা সহজ আর অভিনব উপায়ে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকবে।

সম্প্রতি তারা শিশুদের কে পরিবেশের সাথে পরিচিত করার জন্য বিভিন্ন স্কুলে ‘little farmer’ নামের একটি ইভেন্ট সম্পন্ন করেছে। তরুণ দলটি সবসময় এই আশায় কাজ করে যাচ্ছে যে হয়তো তারা একটি স্থায়ী উন্নয়ন করতে পারবে, হয়তো তারা কার্বনডাই অক্সাইড এর পরিমাণ কিছুটা হলেও কমাতে পারবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখতে পারবে। তারা নানান ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। যেনো সবাই সবুজ কে স্বাগত জানায় তাই তারা বিনামূল্যে গাছের চারা ও বীজ বিতরণ করছে। ইতোমধ্যে তারা একটি স্থাপত্য সংস্থা “IKABANA ltd” এর সাথে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর একটি কাজ করছে। নগরকৃষির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী কামরুল হাসান বলেছেন -আমরা এমন একটি সবুজ যাত্রা শুরু করেছি যেখানে থাকছে শহুরে কৃষির ৩৬০ ডিগ্রি সমাধান অর্থাৎ কৃষি সংক্রান্ত সব রকম সমাধান। নগরকৃষি আপনার জন্য কী করতে পারে? ১.নগর কৃষক হতে চান? – আমরা আপনার খামার তৈরি করে দিবো। আমরা শিখাবো কোন গাছ লাগাবেন এবং কিভাবে তার যত্ন নিবেন। আমরা দেখাবো কিভাবে আপনি আপনার জায়গার উপযুক্ত ব্যাবহার করবেন। ২.বীজ আর মাটি: আমাদের কাছে পাওয়া যায় উন্নত মানের বীজ আর মাটি। যেগুলো আপনার খামার শুরু করার জন্য লাগবে। আমরা আপনাকে শিখাবো কিভাবে ঘরবাড়ির আবর্জনা থেকে সার তৈরি করা যায়। ৩.নিজের ছাদে সবজি বাগান করতে চান? আমরা আপনার ছাদে সবজি চাষের ব্যবস্থা করে দিবো সেই সাথে তারা কিভাবে ঠিকমত বেড়ে উঠবে তার খেয়াল ও রাখবো। ৪.আপনি কি আপনার বাড়ি বা অফিস কে শহুরে মরুদ্যান বানাতে চান? -আমরা আপনার বাড়িটিকে একটি চমৎকার দৃশ্যে বদলে দিতে চাই যাতে কেউ আসলে শান্তিময় একটা পরিবেশ পায় এবং অনেক সময় ধরে সেখানে থেকে যেতে চায়। ৫. আমাদের থেকে গাছ ভাড়া নিতে চান? -ভাড়া দেয়ার জন্যও আমাদের কাছে আছে অনেক ধরনের গাছ। আপনার অফিস কে সবুজ দিয়ে চমকপ্রদভাবে সাজাতে আমরা আছি আপনাদের পাশে।

কৃষি নিয়ে শুরু করা এই কার্যক্রমটি তিনটি ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো আমাদের গ্রাহকদের সবুজ জালে আবদ্ধ করা। আমরা ঢাকা শহরের ১০% বাড়িকে আমাদের সবুজ যাত্রার আওতায় আনতে পেরেছি। নগরকৃষির অন্য একজন সদস্য আবু ইউসুফ শিহাব আরো যুক্ত করেছেন – আমাদের লক্ষ্য হলো ৫০লাখ জনগনকে তাদের বাড়ির ছাদে, উঠানে এমনকি বারান্দায় বাগান করার জন্য উৎসাহিত করা। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্বন কমাতে নগরকৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে এবং আমরা এটাকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি শহরের কৃষকদের জন্য সহজে ব্যবহার যোগ্য একটি APPS তৈরির কাজ করছে যা থেকে কৃষকরা কৃষি সম্পর্কে জানতে পারবে এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তারা তাদের বাগান পরিচর্যা করতে পারবে। ইতোমধ্যে নগরকৃষি বেশ কয়েকটি সম্মাননা ও তাদের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছে। নগরকৃষির একজন সদস্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেপালে অনুষ্ঠিত Global Young Hero Conference এর প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলো। নগরকৃষি অনেকাংশেই একটি প্রতিষ্ঠানের মত কাজ করে। যেমন তারা কর্মশালার মাধ্যমে বর্তমানে নগরকৃষিতে ১৫ জন সদস্য কাজ করছে, শ্যামলীতে তাদের অফিস, মোহম্মদপুরে তাদের মডেল বাগান এবং বসিলাতে তাদের একটি গুদাম ঘর রয়েছে। যেকেউ নগরকৃষি সম্পর্কে জানতে ফেসবুকে যোগাযোগ করতে পারেন।


বাংলাদেশে কৃষিখাতে উন্নয়ন ও সহায়তার জন্য যে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে তাদের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বা তাদের উৎসাহ দিতে Standard Chartered Bank এবং Bangladesh Brand Forum প্রতি বছরের মতো এবারও Agro Award এর আয়োজন করেছে। ২৬ অক্টোবর রাজধানীর দ্যা ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‌২১৭ টি সংস্থার মধ্যে কৃষি খাতে অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা সহ মোট ১২ টি পুরষ্কার ঘোষণা করে এবং ৭টি ক্যাটাগরির মধ্য থেকে কৃষি খাতে সহায়তা প্রদান ও বাস্তবায়নে সেরা সংস্থা হিসেবে Nagarkrishi অনারেবল মেনশন এওয়ার্ড লাভ করেছে।

About Rafy

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *