Wednesday , November 14 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / গ্লাডিওলাস ফুলের প্রধান প্রধান রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার ব্যবস্থা

গ্লাডিওলাস ফুলের প্রধান প্রধান রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার ব্যবস্থা

ফুল সৌন্দর্য্যের প্রতীক। পৃথিবীর সব দেশেই বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন রংয়ের ফুলের চাষ হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও তেমনি প্রায় সব ঋতুতেই ফুল পাওয়া যায়, তবে শীত মৌসুমেই সব চেয়ে বেশী ফুল পাওয়া যায়। অন্য ফসলের মত ফুলও যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। এদেশের মানুষ আজকাল ফুলের নানাবিধ ব্যবহার শিখেছে, তাই ফুল এদেশের বিভিন্ন জেলায় চাষ শুরু হয়েছে এবং এরই সাথে ফুলের বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা গুলোর মধ্যে ফুলের রোগ বালাই একটি অন্যতম। নিন্মে গ্লাডিওলাস ফুলের প্রধান প্রধান রোগ এবং এদের প্রতিকার ব্যবস্থা বর্ননা করা হলো।

ঢলে পড়া (Wilt) রোগ

 

রোগের কারনঃ ফিউজারিয়াম অক্সিস্পোরাম (Fusarium oxysporum) নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

ছত্রাকটি মাটি ও বীজ কন্দে বেঁচে থাকে। উষ্ণ আবহাওয়া, বেশী বৃষ্টিপাত ও হালকা মাটিতে এ রোগটি বেশী দেখা যায়। কম পরিমানে ফসফেট ও বেশী পরিমান নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করলেও রোগটি বাড়ে।

রোগের লক্ষণঃ

  • কন্দ, পাতা ও শিকড় সর্বত্রই লক্ষণ দেখা যায়।
  • মাটির তলায় কন্দে পচন শুরু হয়।
  • এর ফলে উপরের পাতাগুলি আস্তে আস্তে হলুদ হতে থাকে।
  • পাতার ডগাতে শিরামধ্যবর্তী অঞ্চল হলুদ বর্ণের হয়। পরে হলুদ বর্ণ নীচের দিকে নামে।
  • প্রথমে পূরানো পাতা ধীরে ধরে হলুদ হয়ে মরে যায়।
  • কন্দ পঁচে যায় ও আক্রান্ত গাছ ঢলে পড়ে মরে যায়।

রোগের প্রতিকারঃ

  • রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।
  • এ রোগ হয় না এমন ফসলের সাহায্যে শষ্য পর্যায় করতে হবে।
  • রোগমুক্ত বীজ কন্দ সংগ্রহ করতে হবে।
  • কন্দ তোলার সময় আঘাত জনিত ক্ষত এরাতে হবে।
  • সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। নাইট্রোজেন সার ভেংগে ভেংগে প্রয়োগ করতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে  ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে কন্দ আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে জমিতে রোপন করতে হবে।
  • জমিতে রোগ দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় মাটিতে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

বট্রাইটিস পাতা ঝলসানো (Botrytis Leaf blight) রোগ

 

রোগের কারনঃ বট্রাইটিস গ্লাডিওলোরাম (Botrytis gladiolorum) নামক ছত্রাক দ্বারা এরোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ ঠান্ডা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই রোগ বেশী হয়।

রোগের লক্ষণঃ

  • পাতার আগায় প্রথমে ধূসর বর্ণের দাগ পড়ে।
  • ক্রমান্ধয়ে দাগ নিচের দিকে বাড়তে থাকে।
  • পরে সমস্ত পাতা বাদামী রংগের হয়।
  • গোটা পাতা শুকিয়ে যায় ও গাছ মারা যায়।

রোগের প্রতিকারঃ

  • গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে।
  • রোগমুক্ত জমি থেকে কর্ম সংগ্রহ করতে হবে।
  • জমিতে রোগ দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

পেঁপে চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি…

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *