Monday , December 17 2018
সর্বশেষ
Home / পাঁচমিশালি / তাকবীর-এ-তাশরিক ও কোরবানি

তাকবীর-এ-তাশরিক ও কোরবানি

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ তারিখের আসরের নামাজ অর্থাৎ আজ ৩১ আগষ্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার ফজর থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ১৭ সোমবার আসর পর্যন্ত সর্বমোট ২৩ ওয়াক্ত প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, মহিলা, মুকিম, মুসাফির, গ্রামবাসী, শহরবাসী, জামায়াতে বা একাকি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর প্রত্যেকের উপর একবার করে তাকবীরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব তথা তাকবীরে তাশরিক পাঠ করতে হবে।

তাকবিরে তাশরিক হচ্ছে
-اللهُ اَكْبَرُ – اللهُ اَكْبَرُ، لَا اِلَهَ اِلَّااللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – اللهُ اَكْبَرُ وَللهِ الْحَمْدُ –
(আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর,
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর,
আল্লাহু আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।)

তাকবীরে তাশরিকের ইতিহাসঃ
মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন আপন পুত্র ইসমাঈল (আ.)কে কুরবানি করতে যাবেন, তখন আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাইল (আ) বেহেশত থেকে একটি দুম্বা নিয়ে রওয়ানা হন। তাঁর সংশয় হচ্ছিল পৃথিবীতে আগমনের পূর্বেই হযরত ইবরাহিম (আ) পুত্র ইসমাঈল (আ) কে যবেহ বা কোরবানি করে দেন কিনা। তাই হযরত জিবরাইল (আ) আকাশ থেকেই উচ্চস্বরে উচ্চারন করতে থাকেন – الله اكبر- الله اكبر ।
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম জিবরাইল (আ) এর আওয়াজ শুনে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান যে, ইসমাঈল আলাইহিস সালামের পরিবর্তে কুরবানির জন্য তিনি একটি দুম্বা নিয়ে আসছেন। তাই তিনি বলে উঠলেন -لا اله الاالله والله اكبر ।
পিতার মুখে তাওহিদের এ অমূল্যবাণী শুনতে পেয়ে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহর মহাত্ম, মর্যাদা ও শান শওকতের উপর হামদ পেশ করে বললেন- الله اكبر ولله الحمد ।এভাবেই মহান আল্লাহর একজন ফেরেশতা, একজন নবী ও একজন ভবিষ্যৎ নবীসহ এ তিন মহান ব্যক্তিত্বের খুশীর আবেগে উচ্চারিত এ আমলটুকু ও পবিত্র কালামগুলো আল্লাহর দরবারে এত বেশি কবুল হল যে, কিয়ামত পর্যন্ত ঈদুল আজহায় বিশ্ব মুসলিমের কন্ঠে কন্ঠে উচ্চারিত হতে থাকবে। যা বান্দার জন্য পাঠ করা ওয়াজিব।
-اللهُ اَكْبَرُ – اللهُ اَكْبَرُ، لَا اِلَهَ اِلَّااللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ – اللهُ اَكْبَرُ وَللهِ الْحَمْدُ –
“আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর,
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর,
আল্লাহু আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।”

কোরবানির সঙ্গে তাকবিরে তাশরিকের সম্পর্ক:
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করেন তখনই তাকবিরে তাশরিকের উৎপত্তি হয়। কুরবানির ইতিহাস আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন-

‘অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইবরাহিম তাকে বলল, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি? সে বলল, পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।

যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইবরাহিম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।

আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, ইবরাহিমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।’(সুরা সাফফাত : আয়াত ১০২-১১০)

তাৎপর্য ও ফজিলত:
মহান আল্লাহ তাআলার প্রধান ফেরেশতা, একজন নবি ও একজন ভবিষ্যৎ নবিসহ এ তিন মহান ব্যক্তিত্ব কর্তৃক আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা, তাওহিদের ঘোষণা এবং প্রশংসামূলক বাক্যগুলোর আমল হলো তাকবিরে তাশরিক।

এ আমল আল্লাহ তাআলার দরবারে এত বেশি পছন্দ হলো যে, তিনি তা মুসলিম উম্মাহর জন্য আবশ্যক আমল হিসেবে কবুল করলেন।

About Publisher

Check Also

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পবিপ্রবিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

তাহজীব মন্ডল নিশাত, পবিপ্রবি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *