Monday , June 25 2018
Home / ট্যুরিজম / যাবেন নাকি কেওক্রাডং ও বগালেক? মেঘ দেখার পর্বতশৃঙ্গ

যাবেন নাকি কেওক্রাডং ও বগালেক? মেঘ দেখার পর্বতশৃঙ্গ

কেওক্রাডং বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত। যা বাংলাদেশের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত। এর উচ্চতা ৯৮৬ মিটার (৩২৩৫ফুট প্রায়, জি পি এস রিডিং হতে প্রাপ্ত)। কেওক্রাডং শব্দটি মারমা ভাষা থেকে এসেছে। মারমা ভাষায় কেও মানে ‘পাথর’ ক্রা মানে ‘পাহাড়’ আর এবং ডং মানে ‘সবচেয়ে উঁচু’। অর্থাৎ কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়।

কিভাবে যাবেনঃ
কেওক্রাডং যেতে হলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে বান্দরবান। ঢাকা থেকে বা চট্টগ্রাম থেকে বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। বান্দরবান শহর থেকে চান্দের গাড়ি(ফোর হুইল ড্রাইভ), বাস, সি এন জি করে রুমা যাওয়া যায়। চান্দের গাড়ি/জীপ রিসার্ভ করলে প্রায় ৩০০০/৪০০০ টাকার মত ভাড়া পড়বে যা মৌসূম ও পর্যটকদের সমাগম ভেদে ভিন্ন হয়ে থেকে[২০১৫ সালের তথ্য]। আর সার্ভিস এর বাসে করেও রুমা যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১০০ টাকা[২০১৫ সালের তথ্য]। বাসের সিট তেমন ভালো মানের নয়। বান্দরবান শহর থেকে রুমা যেতে সময় লাগবে কমবেশি ২ ঘণ্টার মত।

রুমা নেমে সার্ভিস এর চান্দের গাড়ি করে যেতে হবে রুমা বাজার, ভাড়া ৩০ টাকা জনপ্রতি[২০১৫ সালের তথ্য]। নিয়ন অনুযায়ী রুমা বাজার থেকে পাহাড়ে কোথাও বেড়াতে যেতে হলে আপনাকে গাইড নিতে হবে, দিনপ্রতি গাইড সার্ভিস চার্জ ৫০০ টাকা [২০১৫ সালের তথ্য]। বাজারে গাইড সমিতি আছে তাদের কাছে গেলেই গাইড পাবেন । গাইডকে সাথে নিয়ে আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী নাম,ঠিকানা,ফোন নম্বর ইত্যাদি তথ্য নিবন্ধন করতে হবে। বড় দল গেলে আগে থেকে একটি কাগজে সবার নাম, ঠিকানা, পেশা, ফোন নম্বর ও বাসায় যোগাযোগের নম্বর সহ একটি তালিকা আগে থেকে প্রস্তুত করে নিয়ে যেতে পারেন । যেহেতু পাহাড়ি পথে হাঁটতে(ট্রে্কিং)হবে তাই, বিশেষত বৃষ্টির দিনে আপনাকে অবশ্যই ট্রেকিং এর উপযুক্ত জুতা বা স্যান্ডাল সাথে রাখতে হবে। তেমন জুতা সাথে না থাকলে রুমা বাজার থেকে ট্রেকিং এর উপযুক্ত রাবার এর স্যান্ডেল কিনে নিতে পারেন। দোকানে গিয়ে পাহাড়ে ওঠার জন্য ভালো স্যান্ডেল বললেই তারা বের করে দেবে আপনাকে।

রুমা বাজার থেকে কেওক্রাডং যাবার পথ হলো রুমাবাজার>বগা লেক>কেওক্রাডং। সাধারনত ২ ভাবে রুমা বাজার থেকে বগা লেক যায় লোকে। ১)চান্দের গাড়ী করে ২)ঝিরি পথে হেঁটে ।

রুমা বাজার থেকে সার্ভিস এর কিংবা রিজার্ভ চান্দের গাড়ী করে যেতে হবে বগা লেক বা বগা লেক এর কাছাকাছি যতদুর গাড়ী যায়। শীতকালে চান্দের গাড়ী বগালেক পর্যন্তই যায়, বর্ষায় চান্দের গাড়ীর শেষ গন্তব্য থাকে কমলা বাজার পর্যন্ত। বাকি পথটুকু পায়ে হেঁটে যেতে হয়, পিচ্ছিল পাহাড়ি খাড়া পথে ঐ সময়ে গাড়ী চালিয়ে উঠা সম্ভব হয় না বলে। চান্দের গাড়ী রিসার্ভ করলে ভাড়া নিতে পারে ২২০০-২৫০০ টাকা আর সার্ভিসের গাড়ীতে ১৫০-২০০ টাকা জনপ্রতি [২০১৫ সালের তথ্য]। প্রায় ঘণ্টা দেড় গাড়ী যাত্রার পর কমলা বাজার এসে পোঁছাবেন। এর পর আপনাকে পায়ে হেঁটে (ট্রেক করে) বগালেক উঠতে হবে। এই ঊঠাটা প্রথম যারা পাহাড়ে উঠছেন তাদের জন্য একটু কষ্টের হ্যে থাকে , কিন্তু তা কেওক্রাডং এর পথে ট্রেক করার প্রাক প্রস্তুতী ও হয়ে যায় বটে। আধাঘন্টা(ধীরে হাঁটলে ১ ঘন্টা) ট্রেক করে পৌছে যাবেন পাহাড়ের উপরের অনিন্দ্য সুন্দর বগালেক এ । সাধারনত এ যাত্রায় পর্যটকগন বগালেকে রাত্রীযাপন করে থাকেন। গাইড ই আপনার জন্য কটেজ ঠিক করে দিবে। ভাড়া জনপ্রতি ১২০-১৫০ টাকা। বিভিন্ন কটেজ আছে এখানে একতলা দু তলা। তবে সিয়াম দিদির কটেজের ভালো নাম ডাক আছে। পরদিন সকালে খুব ভোরে শুরু হবে আপনার ফাইনাল মিশন। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গাইড সহ রওয়ানা দিবেন কেওক্রাডং এর উদ্দেশ্যে। খুব হেলেদুলে হেটে গেলেও সময় লাগবে তিন থেকে সারে তিন ঘণ্টার মত। এই পথ চলার ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করবেন।

কেউক্রাডং পাহাড়ের চুড়া
কোথায় থাকবেনঃ
আপনি বগালেক এ রাত্রি যাপন করবেন। গাইড ই আপনার জন্য কটেজ ঠিক করে দিবে। ভাড়া জনপ্রতি ১২০-১৫০ টাকা। বিভিন্ন কটেজ আছে এখানে একতলা দু তলা। তবে সিয়াম দিদির কটেজের ভালো নাম ডাক আছে। আর যদি কেওক্রাডং রাত যাপন করতে চান তাহলে কেওক্রাডং চুড়ায় উঠার আগেই একটা রেস্টুরেন্ট পাবেন উনাদের কটেজ আছে বললে ব্যবস্থা করে দিবে। ভাড়ার হিসাব বগালেকের মতই।

বগালেক
কোথায় খাবেনঃ
আপনি যে কটেজে থাকবেন সেখানেই খেতে পারেন। অথবা গাইড কে বললে মুরগীর ব্যবস্থা করে দিবে চাইলে নিজেরাও রান্না করতে পারেন। খাবার জনপ্রতি তারা নেই ১০০-১২০ টাকা। তবে গরু বা খাসি বলে কোন গোশত খাওয়াতে চাইলে মুসলিম রা না খাওয়াই ভালো। আমার মতে সবচেয়ে ভালো নিরামিষ খাবার খাওয়া অথবা মুরগি এনে নিজেরা জবেহ করে পাক করতে দেওয়া।বগালেক ছাড়াও আপনি কেওক্রাডং এ দুপুরে খেতে পারবেন খাবারের নিয়ম মান দাম একই বগালেকের মত। এছাড়া বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাবার পথে কয়েকটা পাড়া পাবেন সেখানেও কিছু খাবারের দোকান পাবেন যেমন চা , কলা, রুটি ও পাহাড়ি ফল পেপে,কমলা খেতে পারবেন।

কি কি দেখবেনঃ
যাবার পথে দেখবেন সাংগু নদী, বগালেক,ব্লু-বার্ড ঝর্ণা, চিংড়ি ঝর্ণা, পাহাড়িদের সাজানো গুছানো পাড়া, কেওক্রাডং।

টিপসঃ
খুব বেশি জামাকাপড় নেবেন না। শুধু যেগুলো একদম না নিলেই নয়, সেগুলো নেবেন। ভারী হওয়া ব্যাগই পরবর্তীকালে আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠতে পারে যাত্রাপথে।ব্যাকপ্যাক নেবেন। হাতের কোনো ব্যাগ নিলে চলবে না। ক্যাপ পরে নেবেন সব সময়। পানির বোতল নেবেন হাফ লিটারের। সেটাতে যেন সব সময়ই পানি থাকে। স্যালাইন রাখবেন সাথে।ট্র্যাকিংয়ের সময় শুকনা খাবার এবং এমনিতে সারা দিন কলা খান। কলা আপনার পেশিকে কর্মক্ষম রাখবে। জোঁকের সংক্রমণ আছে। তাই লবণ নেবেন সাথে।মশার কামড় থেকে বাঁচতে ওডমস ক্রিম রাখুন সাথে। হালকা কিছু ওষুধ আর অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম রাখুন সাথে। একটা টর্চলাইট নেবেন সাথে। অনেক কাজে আসবে। মোবাইল চার্জ দেওয়ার ফুসরত খুব একটা মিলবে না। তাই পারলে একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে নিন সাথে। সিগারেটের ফিল্টার, বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না দয়া করে। ডাস্টবিনে কিংবা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় ফেলুন। মনে রাখবেন আপনি যাচ্ছেন প্রকৃতি দেখেতে অনুভব করতে কোন শিল্পকর্ম প্রদর্শন করতে না। অতএব কোনা পাহাড়ের বা পাথরের অথবা অন্য কোথাও কোন কিছু লিখে নিজের প্রতিবন্ধী মানুসিকতার পরিচয় দিবেন না। পাহাড়িদের সংস্কৃতি, আচার,ব্যবহার, সভ্যতা নিয়ে সমালোচনা করবেন না।

Source : BD tour Guide

About Publisher

Check Also

ড.নিরঞ্জন কুমার সানাকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ায় বশেফমুবিপ্রবিতে আনন্দ মিছিল

বশেফমুবিপ্রবি প্রতিনিধি : বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ও প্রথম উপাচার্য নিয়োগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *